বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের বিশ্বকোষ (Encyclopedia of Bengali Language and Literature)
তন্ময় ভট্টাচার্য (অ্যাডভোকেট)
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর যোগাযোগ, কমান্ড এবং রিপোর্টিং পদ্ধতি শৃঙ্খলা, নির্ভুলতা ও গতি নিশ্চিত করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়। মাঠপর্যায়, সমুদ্র, আকাশ কিংবা প্রশাসনিক দপ্তরে—সবক্ষেত্রেই এই প্রটোকল অনুসরণ বাধ্যতামূলক। যোগাযোগের মাধ্যম প্রধানত বাংলা, তবে আন্তর্জাতিক মহড়া, প্রযুক্তিগত নির্দেশনা এবং কূটনৈতিক সংযোগের জন্য ইংরেজি শব্দ ও বাক্যও প্রচুর ব্যবহৃত হয়। কমান্ড সংক্ষিপ্ত, উচ্চারণে স্পষ্ট, এবং প্রয়োজনে পুনরাবৃত্তি করে নিশ্চিত করা হয় যে সমস্ত সদস্য বার্তা বুঝতে পেরেছে।
সেনাবাহিনীর প্যারেড বা ফরমেশন চলাকালীন কমান্ড যেমন—“সাজো হও!”, “দাঁড়িয়ে দাও!”, “সামনে দেখো!”, “ডানে দেখো!”, “বামে দেখো!”, “পিছনে দেখো!”, “চল!”, “থাম!”, “স্যালুট দাও!”, “বিসর্জন!”—প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট ক্রিয়ার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। যুদ্ধক্ষেত্র বা টহলে কমান্ড পরিবর্তিত হয়—“ফায়ার কর!”, “গুলি ছাড়ো!”, “কভার দাও!”, “আগে চলো!”, “ডাক নিয়ে চলো!”, “দুটি লাইন বানাও!”। এই কমান্ডের সাথে পরিস্থিতিভিত্তিক নির্দেশ যুক্ত হতে পারে, যেমন শত্রুর অবস্থান, দূরত্ব, কিংবা কৌশলগত পরিবর্তন।
রিপোর্টিং প্রক্রিয়ায় প্রথমে কল–সাইন দিয়ে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়—“ডেল্টা–২ থেকে চার্লি–১, কপি করুন।” উত্তর আসার পর রিপোর্ট শুরু হয়—“স্যার, গ্রিড রেফারেন্স পি–৩৪–৭১ এ চারজন সন্দেহভাজন পূর্বদিকে অগ্রসর হচ্ছে। দূরত্ব ২০০ মিটার। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, নির্দেশের অপেক্ষায়।” সদর দপ্তর নির্দেশ দেয়—“অবস্থান ধরে রাখুন, প্রতি পাঁচ মিনিটে আপডেট দিন।” একই প্যাটার্নে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বলা হয়—“স্যার, [র্যাঙ্ক ও নাম], দায়িত্ব সফলভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।” পরিস্থিতি আপডেটে বলা হয়—“স্যার, [ঘটনা] রিপোর্ট করছি।”
নৌবাহিনীতে সমুদ্র টহলের সময় রেডিওতে শোনা যায়—“ইকো–৫ থেকে বেস–কমান্ড, কপি করুন।” সদর দপ্তর কপি করার পর রিপোর্ট আসে—“পজিশন ২২°১৮’ উত্তর, ৯১°৪৫’ পূর্বে একটি অচিহ্নিত ফিশিং ভেসেল সনাক্ত করা হয়েছে। পতাকা নেই, গতি ৮ নট। আমরা ভিজ্যুয়াল আইডেন্টিফিকেশনের জন্য অগ্রসর হচ্ছি।” সদর দপ্তরের নির্দেশ—“নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন, সন্দেহজনক কার্যকলাপ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করুন।” জাহাজ পরিচালনায় কমান্ড হয়—“জাহাজ রেডি কর!”, “অ্যাঙ্কর তুল!”, “দস্তুর মতো চল!”, “ইমার্জেন্সি ড্রিল শুরু কর!”।
বিমান বাহিনীতে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণে পাইলট রিপোর্ট করে—“ফক্সট্রট–৭ থেকে এয়ার–কন্ট্রোল, কপি করুন।” উত্তর পেলে জানায়—“আমাদের এয়ারস্পেসের গ্রিড এ–৫২–১৬ এ একটি অচিহ্নিত এয়ারক্রাফট প্রবেশ করেছে। উচ্চতা ১৫,০০০ ফুট, গতি ৪৫০ নট। আমি ইন্টারসেপ্ট কোর্সে আছি।” এয়ার–কন্ট্রোলের নির্দেশ—“ভিজ্যুয়াল কনফার্মেশন শেষে নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করুন।” বিমানবাহিনীর অপারেশনে কমান্ড থাকে—“উড়ান সাজো কর!”, “রানওয়ে ক্লিয়ার!”, “ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং!”, “রাডারে দেখো!”।
ওয়্যারলেস ও রেডিও যোগাযোগে ব্যবহৃত সংক্ষিপ্ত প্যাটার্ন হলো—“কপি করলাম”, “রজার”, “লোকেশন রিপোর্ট দাও”, “মিশন শেষ”। প্রতিটি বার্তা পুনরাবৃত্তি করে কনফার্ম করতে হয় যাতে ভুল বোঝাবুঝি না হয়। শৃঙ্খলা রক্ষার নির্দেশ যেমন—“শান্ত হও!”, “লাইনে দাঁড়াও!”, “ডিসিপ্লিন রাখো!”—সামরিক জীবনের প্রতিদিনের অংশ।
ওয়্যারলেস যোগাযোগ
টহলদল কমান্ডার: “অ্যালফা–৩ থেকে ব্রাভো–১, শুনছেন কি? কপি করুন।”
সদর দপ্তর (ব্রাভো–১): “কপি করলাম অ্যালফা–৩, বলুন।”
টহলদল কমান্ডার: “স্যার, আজ ০৮৩০ ঘণ্টায় সেক্টর ৪ এর গ্রিড রেফারেন্স কিউ–২৭–৪৫ এ শত্রু গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছি। আনুমানিক পাঁচজন অজানা ব্যক্তি সীমান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। দূরত্ব প্রায় ৩০০ মিটার। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি এবং গোপন পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছি।”
সদর দপ্তর: “অ্যালফা–৩, রজার দ্যাট। ফায়ার কন্ট্রোল বজায় রাখুন। শত্রু অবস্থান নিশ্চিত হলে রিপোর্ট করুন। ব্যাকআপ দল রওনা হয়েছে, আনুমানিক পৌঁছাবে ১৫ মিনিটের মধ্যে।”
টহলদল কমান্ডার: “রজার ব্রাভো–১। লোকেশন অপরিবর্তিত, আমাদের অবস্থান সুরক্ষিত। মিশন কন্টিনিউ করছি। অ্যালফা–৩ আউট।”
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এই যোগাযোগ প্যাটার্নে ভাষা, কৌশল ও আন্তর্জাতিক মান একত্র করেছে। বাংলা ভাষা বাহিনীর মনোবল, ঐতিহ্য ও জাতীয় চেতনাকে দৃঢ় করে, আর ইংরেজি ব্যবহারে আন্তর্জাতিক অভিযানে ও প্রযুক্তি নির্ভর অপারেশনে দক্ষতা নিশ্চিত হয়।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আজও বহু ক্ষেত্রে ভারতীয় হিন্দুস্তানি কমান্ড ও রিপোর্টিং প্যাটার্নের প্রভাব বহন করে চলেছে। আধুনিক সেনা-নৌ-বিমান বাহিনীর অনেক মৌলিক নির্দেশ, শব্দচয়ন এবং রিপোর্টিং কাঠামো উপমহাদেশের দীর্ঘ সামরিক ঐতিহ্য থেকে এসেছে। এই ঐতিহ্য ইসলামো-আরবীয় এবং ইউরোপীয় আগ্রাসনের বহু পূর্বে প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং বহু শতাব্দী ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজ্য ও সাম্রাজ্যগুলির যুদ্ধনীতি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
পাল রাজবংশ ও সেন রাজবংশের (৯০০ শতাব্দী খ্রি-পূর্বে) সময়ে সেনাবাহিনীর কমান্ড ভাষা হিসেবে প্রধানত মাগধী ও শৌরসেনী প্রাকৃত ব্যবহৃত হত। এই দুই প্রাকৃতের গঠন ছিল সহজ, উচ্চারণ ছিল দ্রুত ও স্পষ্ট, এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক নির্দেশ পৌঁছে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। যেমন, সেনা অগ্রসর করার নির্দেশ হতে পারত মাগধী প্রাকৃতে—“আগচ্ছ” (চলো এগিয়ে যাও), শৌরসেনীতে—“গচ্ছহ” (যাত্রা কর), বা থামার জন্য—“ঠিট্ঠ” (থামো)। এই সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী শব্দসমূহ সৈন্যদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করত।
রাজা ও সেনাপতিরা সেনাবাহিনীতে শুধু মৌখিক নির্দেশই দিতেন না, বরং ড্রাম, শঙ্খ, ধ্বজা ও পতাকার সাহায্যে সংকেত পাঠাতেন। মাগধী ও শৌরসেনী প্রাকৃতের ব্যাকরণগত সরলতা এবং সামরিক পরিভাষার নির্দিষ্টতা যুদ্ধক্ষেত্রে বিভ্রান্তি এড়াত। পালদের সামরিক ছাউনিতে (সেনা শিবির) “বাহিণী” শব্দে পুরো সেনাদলকে বোঝানো হত, “সেনাপতি” বা “মহাসেনাপতি”, নায়ক এবং পট্টনায়ক, সর্বাধিনায়কের পদ ছিল, এবং “ধ্বজপতি” যুদ্ধপতাকার দায়িত্বে থাকতেন। সেন রাজাদের সময়ে এই কাঠামো আরও সুসংগঠিত হয়; তখন ঘোড়সওয়ার, হাতিসওয়ার, রথযোদ্ধা ও পদাতিক বাহিনীর জন্য আলাদা আলাদা কমান্ড শব্দ প্রচলিত হয়।
ইসলামী শাসন ও পরে ইউরোপীয় উপনিবেশের সময়ে সামরিক ভাষায় ফার্সি, আরবি ও পরে ইংরেজির প্রভাব প্রবল হয়। তবে মাঠপর্যায়ে বহু স্থানীয় কমান্ড শব্দ বেঁচে যায় এবং সময়ের সাথে হিন্দুস্তানি সামরিক শব্দভাণ্ডারে মিলেমিশে নতুন রূপ নেয়। আজকের বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অনেক ড্রিল ও প্যারেড কমান্ড—যেমন “দায়ে ঘুম” (ডানে ঘুর), “বায়ে ঘুম” (বামে ঘুর), “বিশ্রাম”, “সাবধান”—মূলত উপমহাদেশীয় প্রাচীন কমান্ড ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা, যা আদি প্রাকৃতভিত্তিক হলেও পরবর্তীতে হিন্দুস্তানি আকার নিয়েছে।
সেনাবাহিনী (বাংলাদেশ আর্মি) – টহল ও যুদ্ধক্ষেত্র রিপোর্টিং
[পরিস্থিতি: সীমান্তে রাত্রিকালীন টহল]
ওয়্যারলেস যোগাযোগ:
- টহলদল কমান্ডার: “ডেল্টা–২ থেকে চার্লি–১, কপি করুন।”
- সদর দপ্তর: “চার্লি–১ কপি করলাম, বলুন ডেল্টা–২।”
- টহলদল কমান্ডার: “স্যার, গ্রিড রেফারেন্স পি–৩৪–৭১ এ ৪ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পূর্বদিকে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। দূরত্ব প্রায় ২০০ মিটার। আমরা পর্যবেক্ষণ মোডে আছি, ফায়ার কন্ট্রোল অন। আপনার নির্দেশের অপেক্ষায়।”
- সদর দপ্তর: “রজার ডেল্টা–২। অবস্থান ধরে রাখুন, অতিরিক্ত দল রওনা হয়েছে। সিচুয়েশন আপডেট প্রতি পাঁচ মিনিটে দিন।”
নৌবাহিনী (বাংলাদেশ নেভি) – সমুদ্র টহল ও জাহাজ নিরাপত্তা রিপোর্টিং
[পরিস্থিতি: সমুদ্রসীমায় অজানা জাহাজ সনাক্ত]
রেডিও যোগাযোগ:
- পেট্রোল ভেসেল কমান্ডার: “ইকো–৫ থেকে বেস–কমান্ড, কপি করুন।”
- বেস–কমান্ড: “কপি ইকো–৫, এগিয়ে যান।”
- পেট্রোল ভেসেল কমান্ডার: “স্যার, পজিশন ২২°১৮’ উত্তর, ৯১°৪৫’ পূর্বে একটি অচিহ্নিত ফিশিং ভেসেল সনাক্ত করা হয়েছে। জাহাজের পতাকা নেই, স্পিড প্রায় ৮ নট। আমরা জাহাজটির দিকে অগ্রসর হচ্ছি আইডেন্টিফিকেশনের জন্য।”
- বেস–কমান্ড: “রজার ইকো–৫। নিরাপদ দূরত্বে থেকে ভিজ্যুয়াল আইডেন্টিফিকেশন নিন, সন্দেহজনক কার্যকলাপ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করুন।”
বিমান বাহিনী (বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স) – আকাশসীমা ও অপারেশন রিপোর্টিং
[পরিস্থিতি: সীমান্তবর্তী আকাশে অজানা উড়োজাহাজ প্রবেশ]
এয়ার–কন্ট্রোল যোগাযোগ:
- ইন্টারসেপ্ট পাইলট: “ফক্সট্রট–৭ থেকে এয়ার–কন্ট্রোল, কপি করুন।”
- এয়ার–কন্ট্রোল: “কপি ফক্সট্রট–৭, রিপোর্ট দিন।”
- ইন্টারসেপ্ট পাইলট: “স্যার, আমাদের এয়ারস্পেসের গ্রিড এ–৫২–১৬ এ একটি অচিহ্নিত এয়ারক্রাফট প্রবেশ করেছে। উচ্চতা প্রায় ১৫,০০০ ফুট, গতি ৪৫০ নট। ভিজ্যুয়াল কনফার্মেশনের জন্য আমি ইন্টারসেপ্ট কোর্সে আছি।”
- এয়ার–কন্ট্রোল: “রজার ফক্সট্রট–৭। রুলস অফ এনগেজমেন্ট অনুযায়ী ভিজ্যুয়াল কনফার্মেশন শেষে নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করুন।”
পাল ও সেন যুগে সেনাবাহিনীর মৌখিক নির্দেশ
প্রাচীন শিলালিপি, নীতিশাস্ত্র, নাট্যগ্রন্থ এবং সামরিক বিবরণে ছড়িয়ে থাকা শব্দগুচ্ছ ও নির্দেশ থেকে যে তালিকা পুনর্গঠন করা যায়, তা নিম্নরূপ—
“আগচ্ছ” – এগিয়ে এসো
“গচ্ছহ” – যাত্রা কর
“ধর” – থামো, স্থির হও
“পস” – অপেক্ষা কর
“লহ” – গ্রহণ কর, হাতিয়ার তুলে নাও
“মুচ্ছ” – ছেড়ে দাও বা মুক্ত কর
“বিঘট” – আক্রমণ ভাঙো বা পশ্চাদপসরণ কর
“আভিসারয়” – সম্মিলিত আক্রমণে এগিয়ে যাও
“বিসরজ” – ছত্রভঙ্গ হও বা ছেড়ে যাও
“উত্তস্থ” – দাঁড়াও
“উপগচ্ছ” – কাছে যাও বা অগ্রসর হয়ে শত্রুর কাছে পৌঁছাও
“পট্ঠ” – ঘিরে ফেল
“আক্ৰম” – আক্রমণ কর
“সমায়” – থামো ও সমবেত হও
“ধাও” – ধাওয়া কর বা পিছু নাও
“নিস্কম” – ক্যাম্প ছেড়ে বের হও
“আবৃত” – ঘেরাও কর
“অভিযোজ” – যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও
“সংঘট” – একত্রিত হও
“পরিহর” – এড়িয়ে যাও বা সরে যাও
“প্রবেশ” – ভিতরে ঢোকো
“সমারোহণ” – উঁচু জায়গায় বা দুর্গে উঠো
“হন্ত” – হত্যা কর বা ধ্বংস কর
“রক্ষ” – পাহারা দাও বা সুরক্ষা কর
“অলিঙ্গ” – ধরে ফেল বা বন্দি কর
“দ্রুতগম” – দ্রুত এগিয়ে যাও
“আঘাত” – আঘাত কর বা আক্রমণ চালাও
“অবসার” – সরে যাও বা পশ্চাদপসরণ কর
“অভিরোহণ” – রথ, ঘোড়া বা হাতিতে আরোহণ কর
“উদ্যোত” – অস্ত্র উঁচু কর বা প্রদর্শন কর
“সংরক্ষ” – ঘাঁটি বা পতাকা রক্ষা কর
এই কমান্ডগুলো কখনও একক শব্দে, কখনও দ্বি-শব্দে বলা হত, যাতে সৈন্য দ্রুত বুঝে সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করতে পারে।
