অতিবাদী জগন্নাথ দাস (১৪৯১–১৫৫০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভক্তকবি ও ভাগবততাত্ত্বিক, যিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। শ্রীচৈতন্য তাঁর অনুপম ভগবৎভক্তি ও শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব-সংক্রান্ত গভীর জ্ঞান দেখে তাঁকে ‘অতিবাদী’ উপাধিতে অভিষিক্ত করেন। জগন্নাথ দাস রচিত ওড়িয়া ভাগবত কেবল ধর্মীয় সাহিত্যের এক উত্তম নিদর্শন নয়, বরং ওড়িয়া ভাষার একটি প্রামাণ্য ও মান্য রূপকেও প্রতিষ্ঠা করে। এই গ্রন্থে ব্যবহৃত ভাষা ছিল উচ্চতর সাহিত্যের যোগ্য ওড়িয়া, কিন্তু তবু তা মধ্যযুগের বাংলাভাষীদের জন্য সহজবোধ্য ছিল—কারণ শ্রীচৈতন্য নিজেও ওড়িয়া ভাষায় পারদর্শী ছিলেন এবং বাংলাভাষী ভক্তদের সঙ্গে ওড়িয়াভাষায়ই কথাবার্তা বলতেন। এর ফলে জগন্নাথ দাসের ভাগবত গ্রন্থটি ওড়িয়া-ভাষার উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলা-ওড়িয়ার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মেলবন্ধনের প্রতীক হয়ে ওঠে।
জগন্নাথ দাস (1490-1550)
ନମସ୍ତେ ପ୍ରଭୁ ଜଗନ୍ନାଥ
ଓଁ নমস্তে প্রভু জগন্নাথ । অনাথ লোকঙ্কর নাথ ।।
নমস্তে প্রভু বাসুদেব । ভকত জনঙ্ক বান্ধব ।।
নমস্তে প্রভু হৃষীকেশ । ভকত জনঙ্ক বিশ্বাস ।।
নমস্তে প্রভু বিশ্বরূপী । সকল হৃদয়ে আছ ব্যাপি ।।
তু সৃষ্টি স্থতি লয় করু । আবর গর্ভরে সংহরু ।।
অশেষ কোটী বসুন্ধরী । তোহার গর্ভে ছন্তি পুরী ।।
চউদ ভুবনে যা কিনা । এ সর্ব তোহার রচনা ।।
তু ব্রহ্মা রুদ্র বিষ্ণু তুহি । তো বিনু অন্য গতি নাহি ।।
সৃষ্টি তোহার খেলঘর । অশেষ মায়া তো আবর ।।
তোহার নিশ্বাস মরুত । দেবে হৈলে তাহুঁ জাত ।।
তুহিটি অগ্নি দেব ইন্দ্র । নয়নু জাত সূর্য্য চন্দ্র ।।
ভুজরু অনন্ত মূরতি । কণ্ঠরু জাত সরস্বতী ।।
সদা চঞ্চল নিদ্রা নাহি । এ রূপে শূন্যে আছু রহি ।।
অশেষ তোহার মহিমা । কে জানিপারে গুণসীমা ।।
তো নাম করুতিলে লয় । কোটিয়ে জন্ম পাপ ক্ষয় ।।
নাম ঘোষিলে সর্বসিদ্ধি । খণ্ডই রোগ শোক আদি ।।
আরত ভঞ্জন তো বান । আতঙ্ক কালে বজ্র সেহ্না ।।
হইলু দশ অবতার । নাশিলু অবনীর ভার ।।
দুষ্ট নিবারি সন্থ পালু । তু নাথ পরম দয়ালু ।।
তু অটু দরিদ্রর ধন । তো পাদে রহু মোর মন ।।
সতী যুবতীঙ্কর মনে । নিজর স্বামী থাকন্তি যেহ্নে ।।
সেহি প্রকারে মোর মন । তো পাদে রহু ভগবান ।।
কহই দাস জগন্নাথ । কমল চরণকু আশ ।।
ଦାସ ଜଗନ୍ନାଥ
