বালুচরী শাড়ি

বালুচরী শাড়ি পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী একটি রেশমবস্ত্র, যা বিষ্ণুপুরে উদ্ভূত। মল্লরাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় শাড়িতে পৌরাণিক কাহিনির চিত্র ও মুঘল-লোকশিল্পের সংমিশ্রণ দেখা যায়। ঔপনিবেশিক যুগ ও আধিকারের প্রভাবের পর, এটি বর্তমানে GI স্বীকৃতি পেয়েছে এবং আধুনিক ফ্যাশনে সমাসেসমূহিত হয়েছে।

বৈদিক  শব্দভান্ডার

বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের বিশ্বকোষের উপস্থাপনায় বৈদিক সাহিত্যের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যেখানে চারটি প্রধান বিভাগ—সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ—বর্ণিত হয়েছে। বৈদিক শব্দভান্ডার প্রায় ১,২৫,০০০ মৌলিক শব্দ এবং ৫০ লক্ষ শব্দরূপ ধারণ করে। ঋগ্বেদের ১০,৫৮০ মন্ত্র ও ১,৫৩,৮২৬ শব্দ উল্লেখযোগ্য। পাণিনির পূর্বে ইন্দ্র-ব্যাকরণ কার্যকর ছিল এবং বেদকে মহাবিশ্বের ধ্বনি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, যা মানবজীবনের সঙ্গে জড়িত।

ফজলুল হকের রাজনৈতিক অভিযাত্রা — উত্থান, শাসন, বিচ্ছেদ; বঙ্গরাজনীতির গল্প

আবুল কাসেম ফজলুল হক (1873-1962) ছিলেন বিংশ শতকের শুরুতে বাংলার সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির কেন্দ্রে। তিনি মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেসে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে হকের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে, এবং তিনি কৃষকপ্রজা পার্টির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মুখে তাঁর পতন ঘটে, তবে বাঙালির রাজনৈতিক আত্মপ্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ও Legacy আজও গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে।

বাংলার ‘দিদি’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক আধিপত্য ও ক্ষমতাশিল্প

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন আধুনিক ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী কেস স্টাডি। কংগ্রেসের ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন এবং টানা তিনবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া—এই যাত্রা মূলত সংঘাত, আবেগ ও টিকে থাকার রাজনীতির ইতিহাস।

১৯৮৪ সালে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র জিতে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশের পর তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন এক নিরন্তর আন্দোলনকারী হিসেবে। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পথ তৈরি করে এবং ২০১১ সালে তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে।

২০২১ সালের পর তাঁর শাসন শুধু নির্বাচনী জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতীকী ও আবেগী কর্তৃত্বে রূপ নেয়। দুর্নীতির অভিযোগ, কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত এবং প্রশাসনিক চাপকে তিনি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ভাষায় রূপান্তর করেন। “দিদি” পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি এক ধরনের মাতৃত্বপূর্ণ কর্তৃত্ব গড়ে তোলেন, যা ব্যক্তিগত সরল জীবনযাপনের সঙ্গে মিলিয়ে তাঁর জনপ্রিয়তাকে স্থায়ী করে।

জাতীয় রাজনীতিতে তিনি বিকল্প প্রধানমন্ত্রী না হলেও বিজেপি-বিরোধী শক্তির গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মুখ হয়ে ওঠেন। তবে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে প্রশাসনিক কেন্দ্রীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং উত্তরাধিকার সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সার্বিকভাবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদর্শ বা সংস্কারের চেয়ে আবেগ, পরিচয় ও ধারাবাহিকতার রাজনীতি দিয়ে বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

পুজোর পাঁচালি – অলক ভট্টাচার্য

অলোক ভট্টাচার্যের ‘পূজোর পাঁচালী’ নিয়ে এই বই-রিভিউতে ধরা পড়েছে দুর্গাপূজার আবহ, নস্টালজিয়া, শহরজীবনের স্মৃতি এবং আধুনিক গদ্যের স্বাদ। চার অধ্যায়ে গাঁথা ছোট উপন্যাসটি পাঠককে ফিরিয়ে নেয় পুরনো কলকাতার রঙিন সময়ের মাঝে।

বৈদিক শব্দ নিঘন্টু: বাংলা তৎসম শব্দের উৎস

বাংলা তৎসম শব্দের মূল উৎস সাধারণত সংস্কৃত, যা বৈদিক শব্দভাণ্ডারের অন্তর্গত। বৈদিক অভিধান নিঘণ্টু ও নিরুক্ত নামক বইয়ে রয়েছে ঋষি যাস্কের রচনা। সেখান থেকে সংগৃহীত শব্দসমূহ “নিঘণ্টব” নামে পরিচিত, যা বেদ থেকে নেয়া। এই শব্দগুলো মূলত আধ্যাত্মিক এবং বাস্তব জীবনের বস্তুর প্রতিনিধিত্ব করে। বিভিন্ন প্রকৃতির নাম, যেমন পৃথিবী, আকাশ, সূর্য, নদী, জল, এবং আগুন এর মধ্যে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীশ্রী হরিনামামৃত ব্যাকরণ

শ্রীজীবে গোস্বামী ছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ষড়গোস্বামীদের একজন, যিনি ভাগবততত্ত্ব, দর্শন ও ব্যাকরণে অসামান্য পণ্ডিত ছিলেন। বৃন্দাবনে তিনি এই গ্রন্থটি রচনা করেন, উদ্দেশ্য ছিল ভাষাশিক্ষাকে ভক্তিমার্গের সঙ্গে যুক্ত করা। তাঁর বিশ্বাস ছিল, শব্দ নিজেই ঈশ্বরের রূপ— প্রতিটি অক্ষর ও ধ্বনি শ্রীকৃষ্ণের প্রকাশ। তাই ব্যাকরণ শুধু ভাষার নিয়ম নয়, ভক্তির সাধনাও।

দ অক্ষর

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশ্বকোষে ‘দ’ ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর উচ্চারণ, দেবতাসঙ্গী ও ধ্যানবিধি, এবং ব্যাখ্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ‘দ’ বর্ণের প্রয়োগে সুখ ও আনন্দ লাভ হয়; এটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং পৌরাণিক ধর্মগ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে।

কোষগ্রন্থ

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অভিধানের ইতিহাস প্রাচীনকাল থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন অভিধান রচনার মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে। পণ্ডিতদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ শব্দ, অর্থ এবং চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যা ভারতীয় ভাষাবিজ্ঞানের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

আমেরিকায় ইহুদি অভিবাসনের ইতিহাস: ১৬৬০ থেকে আজ পর্যন্ত

আমেরিকায় ইহুদি অভিবাসনের ইতিহাস শুরু হয় ১৬৬০ সালে সেফারদিক শরণার্থীদের আগমনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে আশকেনাজি ইহুদিরা বিশাল সংখ্যায় পূর্ব ইউরোপ থেকে এসে গড়ে তোলে শক্তিশালী এক সম্প্রদায়। বাণিজ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে তাদের অবদান আমেরিকাকে সমৃদ্ধ করেছে। সংগ্রাম, বিশ্বাস আর সাফল্যের এই কাহিনি আজও অনুপ্রেরণার উৎস।

সাহিত্য সম্রাট জার্নাল