১৯০৬ সালের বঙ্গভাগের পেছনে ব্রিটিশ সরকারের প্রশাসনিক সুবিধা, জনসংখ্যা, দূরত্ব ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের যুক্তি তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু সমালোচকেরা এসব যুক্তির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বঙ্গভাগের প্রশাসনিক কাঠামো, ঢাকা ও ময়মনসিংহের উদাহরণ, শিক্ষা ও বন্দর উন্নয়ন, ঔপনিবেশিক বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং জনগণের সঙ্গে শাসকের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করলে সিদ্ধান্তটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সংশয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
Archives
হাওড়া আদালতে সরকারি কৌঁসুলি প্যানেল নিয়ে প্রশ্ন: অভিজ্ঞ আইনজীবীদের উপেক্ষা কেন?
হাওড়া আদালতে ৪ আগস্ট সরকারি কৌঁসুলি ও সরকারি পক্ষের আইনজীবী নিয়োগ ঘিরে আইনজীবী মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পেশাগত অভিজ্ঞতা, সিনিয়রিটি ও যোগ্যতার তুলনায় রাজনৈতিক পরিচয় কতটা গুরুত্ব পেয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ, পুরসভা, পঞ্চায়েত, সমবায়, সরকারি সম্পত্তি ও বৃহৎ প্রকল্পের মামলা আদালতে এলে সরকারের স্বার্থ কার্যকরভাবে রক্ষা করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করা হচ্ছে।
হাওড়া জেলা আদালতে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় স্মারক সিম্পোজিয়াম: ইতিহাস, রাষ্ট্রদর্শন ও জাতীয় চেতনা
A symposium on Dr. Shyamaprasad Mukherjee’s life and contributions was held on July 29, 2026, at the Howrah Bar Association. It featured discussions by legal experts and scholars on his political philosophy’s relevance today, emphasizing themes of national unity and constitutional development. The event marked a significant intellectual initiative in the bar’s history.
সর্বাথপিডিয়া: চেতনা, সভ্যতা ও বৈদিক জ্ঞানতত্ত্বের সমন্বিত বিশ্বকোষ
সর্বাথপিডিয়া একটি বিস্তৃত জ্ঞানব্যবস্থা ও বিশ্বকোষ, যা মানবসভ্যতা, আইন, দর্শন, প্রযুক্তি, চেতনা এবং ইতিহাসকে একটি আন্তঃসংযুক্ত কাঠামোর মধ্যে বিশ্লেষণ করে। এটি প্রচলিত এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো কেবল তথ্যসংগ্রহ নয়; বরং ভারতীয় জ্ঞানতত্ত্ব, বৈদিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আধুনিক গবেষণাকে সমন্বিত করে একটি বিকল্প বৌদ্ধিক মানচিত্র নির্মাণের প্রচেষ্টা। সর্বার্থপিডিয়ার মূল লক্ষ্য হলো বিচ্ছিন্ন জ্ঞানক্ষেত্রগুলিকে একত্রে সংযুক্ত করে সভ্যতার বিকাশ, জ্ঞানের উৎপত্তি এবং মানবচিন্তার ধারাবাহিক বিবর্তনকে বোঝা।
বালুচরী শাড়ি
বালুচরী শাড়ি পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী একটি রেশমবস্ত্র, যা বিষ্ণুপুরে উদ্ভূত। মল্লরাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় শাড়িতে পৌরাণিক কাহিনির চিত্র ও মুঘল-লোকশিল্পের সংমিশ্রণ দেখা যায়। ঔপনিবেশিক যুগ ও আধিকারের প্রভাবের পর, এটি বর্তমানে GI স্বীকৃতি পেয়েছে এবং আধুনিক ফ্যাশনে সমাসেসমূহিত হয়েছে।
বৈদিক শব্দভান্ডার
বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের বিশ্বকোষের উপস্থাপনায় বৈদিক সাহিত্যের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যেখানে চারটি প্রধান বিভাগ—সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ—বর্ণিত হয়েছে। বৈদিক শব্দভান্ডার প্রায় ১,২৫,০০০ মৌলিক শব্দ এবং ৫০ লক্ষ শব্দরূপ ধারণ করে। ঋগ্বেদের ১০,৫৮০ মন্ত্র ও ১,৫৩,৮২৬ শব্দ উল্লেখযোগ্য। পাণিনির পূর্বে ইন্দ্র-ব্যাকরণ কার্যকর ছিল এবং বেদকে মহাবিশ্বের ধ্বনি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, যা মানবজীবনের সঙ্গে জড়িত।
ফজলুল হকের রাজনৈতিক অভিযাত্রা — উত্থান, শাসন, বিচ্ছেদ; বঙ্গরাজনীতির গল্প
আবুল কাসেম ফজলুল হক (1873-1962) ছিলেন বিংশ শতকের শুরুতে বাংলার সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির কেন্দ্রে। তিনি মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেসে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে হকের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে, এবং তিনি কৃষকপ্রজা পার্টির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মুখে তাঁর পতন ঘটে, তবে বাঙালির রাজনৈতিক আত্মপ্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ও Legacy আজও গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে।
বাংলার ‘দিদি’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক আধিপত্য ও ক্ষমতাশিল্প
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন আধুনিক ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী কেস স্টাডি। কংগ্রেসের ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন এবং টানা তিনবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া—এই যাত্রা মূলত সংঘাত, আবেগ ও টিকে থাকার রাজনীতির ইতিহাস।
১৯৮৪ সালে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র জিতে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশের পর তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন এক নিরন্তর আন্দোলনকারী হিসেবে। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পথ তৈরি করে এবং ২০১১ সালে তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে।
২০২১ সালের পর তাঁর শাসন শুধু নির্বাচনী জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতীকী ও আবেগী কর্তৃত্বে রূপ নেয়। দুর্নীতির অভিযোগ, কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত এবং প্রশাসনিক চাপকে তিনি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ভাষায় রূপান্তর করেন। “দিদি” পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি এক ধরনের মাতৃত্বপূর্ণ কর্তৃত্ব গড়ে তোলেন, যা ব্যক্তিগত সরল জীবনযাপনের সঙ্গে মিলিয়ে তাঁর জনপ্রিয়তাকে স্থায়ী করে।
জাতীয় রাজনীতিতে তিনি বিকল্প প্রধানমন্ত্রী না হলেও বিজেপি-বিরোধী শক্তির গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মুখ হয়ে ওঠেন। তবে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে প্রশাসনিক কেন্দ্রীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং উত্তরাধিকার সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সার্বিকভাবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদর্শ বা সংস্কারের চেয়ে আবেগ, পরিচয় ও ধারাবাহিকতার রাজনীতি দিয়ে বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
পুজোর পাঁচালি – অলক ভট্টাচার্য
অলোক ভট্টাচার্যের ‘পূজোর পাঁচালী’ নিয়ে এই বই-রিভিউতে ধরা পড়েছে দুর্গাপূজার আবহ, নস্টালজিয়া, শহরজীবনের স্মৃতি এবং আধুনিক গদ্যের স্বাদ। চার অধ্যায়ে গাঁথা ছোট উপন্যাসটি পাঠককে ফিরিয়ে নেয় পুরনো কলকাতার রঙিন সময়ের মাঝে।
বৈদিক শব্দ নিঘন্টু: বাংলা তৎসম শব্দের উৎস
বাংলা তৎসম শব্দের মূল উৎস সাধারণত সংস্কৃত, যা বৈদিক শব্দভাণ্ডারের অন্তর্গত। বৈদিক অভিধান নিঘণ্টু ও নিরুক্ত নামক বইয়ে রয়েছে ঋষি যাস্কের রচনা। সেখান থেকে সংগৃহীত শব্দসমূহ “নিঘণ্টব” নামে পরিচিত, যা বেদ থেকে নেয়া। এই শব্দগুলো মূলত আধ্যাত্মিক এবং বাস্তব জীবনের বস্তুর প্রতিনিধিত্ব করে। বিভিন্ন প্রকৃতির নাম, যেমন পৃথিবী, আকাশ, সূর্য, নদী, জল, এবং আগুন এর মধ্যে উল্লেখ রয়েছে।
