বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের বিশ্বকোষ (Encyclopedia of Bengali Language and Literature)
তন্ময় ভট্টাচার্য (অ্যাডভোকেট)
পদবি বনাম বর্ণব্যবস্থা
বাংলা শব্দ “পদবি” (অর্থাৎ কর্ম-উপাধি> Surname) প্রাচীন বর্ণব্যবস্থার সঙ্গে আদৌ সম্পর্কযুক্ত নয়। “পদবি” মূলত কোনো ব্যক্তির পেশাগত পরিচিতি ও দায়িত্বের চিহ্নরূপে ব্যবহৃত হয় এবং তা কর্মজীবনের পরিপ্রেক্ষিতে বিকাশ লাভ করে। কখনও কখনও একটি পদবি একটি উপাধিতে পরিণত হয়েছে। পক্ষান্তরে, ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের পুরুষসূক্তে যেভাবে মানবসমাজকে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, ও শূদ্র—এই চারটি বর্ণে বিভক্ত করা হয়েছে, তা মূলত একটি ধর্মাশ্রিত (Legal) ও সাংগঠনিক অর্থনীতিক দৃষ্টিভঙ্গি। এখানে আমরা বলতে পারি না যে কখন বৈদিক হোত্র > হোতা হুই হয়ে উঠলো এবং গোত্রজ ব্রাহ্মণ গুই হয়ে গেলো ।
ভগবদগীতাতেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন—
“চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ”
অর্থাৎ: “এই চার বর্ণ আমি সৃষ্টি করেছি, গুণ ও কর্মভেদ অনুসারে।”
এখানে গুণ মানে প্রকৃতিগত প্রবণতা (স্বভাব), আর কর্ম মানে জীবিকা অর্জনের পদ্ধতি। রাজা ও সভা ছিল এই বর্ণব্যবস্থার অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য দায়ী। কিন্তু এই সুসংবদ্ধ শ্রম-কেন্দ্রিক জীবনব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা শুরু হয় বৌদ্ধধর্মের উত্থানের পর থেকে। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা (২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) উৎপাদন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ না করে জনসাধারণের দানে (ভিক্ষা) নির্ভর করতে শুরু করেন। প্রতিদিন দুপুর ১২টায় ভিক্ষা, বর্ষাকালে আশ্রয় ইত্যাদির প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও তারা অর্থনৈতিক উৎপাদনে অংশগ্রহণ করতেন না। এই কর্মবিমুখ জ্ঞান, বাস্তব সমাজ অর্থনীতির পক্ষে কার্যকর ছিল না।
বৈদিক সংস্কৃতিতে সন্ন্যাস গ্রহণ করতে গেলে অবশ্যই পূর্ববর্তী তিনটি আশ্রম—ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, এবং বনপ্রস্থ—অতিক্রম করা আবশ্যক। “শ্রম” শব্দটি অর্থাৎ ‘শ্রমণ’ বা কর্মই (Labour) বৈদিক জীবনের মূলমন্ত্র। যারা এই ধারার বাইরে ছিলেন, তারা “চণ্ডাল” শ্রেণিভুক্ত হন এবং তাঁদের জন্য নির্ধারিত হয় শ্মশানে মৃতদেহের উদ্দেশ্যে নিবেদিত খাদ্য গ্রহণ ও শ্মশান কর আদায়ের বিশেষাধিকার—যার উপর রাজকর আরোপিত হতো না।
খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে বৌদ্ধধর্মের কর্মবিমুখ আদর্শ ছড়িয়ে পড়লে, সমাজের একটি শ্রেণিকে তাদের নির্দিষ্ট পেশা অনুসারে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার জন্য “পদবি” বা উপাধি প্রথার সূচনা হয়। এইভাবে “পদবি” হলো একটি পেশাগত উপবিভাগ চিহ্নিত করার প্রশাসনিক প্রয়াস, যা বর্ণব্যবস্থার সঙ্গে ধর্মতাত্ত্বিক (Legal) অর্থে সম্পর্কিত নয়।
জিনতাত্ত্বিক তথা DNA-স্তরে ব্রাহ্মণ ও শূদ্র—উভয়েরই মৌলিক বৈজ্ঞানিক গঠন এক ও অভেদ্য; পার্থক্য গঠিত হয়েছে কেবল সমাজ-নির্ধারিত ভূমিকা ও চিহ্নিতকরণে। বাংলায় প্রাচীনকালে, বিশেষ করে আদিশূর-পর্বে (সম্ভবত নবম শতকে), উত্তর ভারতের (সম্ভবত বর্তমান কানপুর অঞ্চল) কতিপয় ব্রাহ্মণকে বাংলায় আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তাঁদের “কুলীন” উপাধি দিয়ে স্থানীয় ব্রাহ্মণদের (বিশেষত শ্রীহট্টের ভট্টাচার্যদের) তুলনায় একধাপ উচ্চস্থানে স্থাপন করা হয়।
আয়াতঃ পঞ্চবিপ্রশ্চ কান্যকুব্জপ্ৰদেশতঃ।
সস্ত্রীকা সহ পুত্রৈশ্চ সহভৃত্যৈশ্চ তে তথা।
একইভাবে, সেই সময়কার শ্রীহট্ট ও মিথিলার বিদ্যমান কায়স্থদের তুলনায় আমন্ত্রিত কায়স্থদের একধাপ উচ্চে স্থান দেওয়া হয় এবং তাদের কুলীন কায়স্থ রূপে চিহ্নিত করা হয়। এই পুনর্গঠনের ফলে কিছু ব্রাহ্মণ দ্ব্যর্থতার মধ্যে পড়েন, যারা পরে “মিশ্র” পদবি গ্রহণ করেন। চৈতন্য মহাপ্রভুর পিতা, জগন্নাথ মিশ্র, এমনই এক ব্রাহ্মণ বংশজাত ছিলেন, যাঁদের পূর্বপুরুষেরা “ভট্টাচার্য” উপাধি ব্যবহার করতেন। চৈতন্যের পিতার সহচর ও আত্মীয় হিসেবে পরিচিত বাসুদেব সার্বভৌম (ভট্টাচার্য) ছিলেন এই পরিবারীয় শাখারই অংশ, তাঁরা ছিলেন পিতৃসংশ্লিষ্ট খুড়তোতো ভাই।
আবার আদিশূরের কোষাগারে ঘোষ, বসু, মিত্র এবং সরখেল পদবিধারী কায়স্থগণ উচ্চপদস্থ রাজস্ব অফিসার ছিলেন। পরবর্তীকালে চৈতন্য আন্দোলনের অভিঘাতে বহু উচ্চবর্ণীয় কায়স্থ এমনকি ব্রাহ্মণরাও ভক্তিসূচকভাবে ‘দাস’ পদবি গ্রহণ করেন—যেমন “রঘুনন্দন দাস”, “মাধব দাস”, ইত্যাদি। কিন্তু মহাপ্রভুর পরলোকগমনের (১৫৩৩ খ্রিঃ) পর প্রায় এক শতকের মধ্যে (১৫৩৫–১৬৩৫ খ্রিঃ) ভক্তি আন্দোলনের গতি শিথিল হলে, এই ‘দাস’ পদবি ব্যবহারকারীরা ক্রমে সমাজে শূদ্র শ্রেণির সমতুল্য হিসেবে গণ্য হতে শুরু করেন। সামাজিক অবস্থানের এই বিপরীত-ক্রমবিকাশ সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে এক বিশিষ্ট দৃষ্টান্ত।
বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের ইতিহাস ও সমাজ-সংস্কৃতির আলোকে নাম ও পদবীর ব্যবহার বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, চৈতন্য মহাপ্রভুর সময়কাল (১৫শ শতকের শেষভাগ থেকে ১৬শ শতকের প্রথমভাগ) থেকেই বাংলায় নাম লেখার রীতিতে গঠনমূলক দিক ও সামাজিক স্তরভিত্তিক পার্থক্য গড়ে উঠতে শুরু করে। ওই সময় গৌরাঙ্গ মিশ্র, বাসুদেব ভট্টাচার্য, শ্রীনিবাস ভট্টাচার্য, অদ্বৈত ভট্টাচার্য, নরহরি চক্রবর্তী—এইসব নামের রীতিতে দেখা যায়, ব্যক্তিনামের পরে উপাধি সংযুক্ত হচ্ছে। ‘ভট্টাচার্য’ এই উপাধিটি কখনও সংক্ষেপে ‘ভট্ট’ অথবা ‘আচার্য’ রূপেও লেখা হতো। মুখুটি গ্রামের পণ্ডিতেরা নামের শেষে লিখতেন ‘মুখোপাধ্যায়’, সপ্তগ্রামের ব্রাহ্মণরা ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’, আর আদিশূরের দানপ্রাপ্ত গঙ্গাপারের (গ্রামের) ব্রাহ্মণেরা ‘গঙ্গোপাধ্যায়’। এই শ্রেণির পণ্ডিতেরা বহু সময়ে তাঁদের নামের শেষে ‘শর্মণ’ লিখতেন—যেমন ঈশ্বরচন্দ্র শর্মণ (বন্দ্যোপাধ্যায়)। অন্যদিকে বাঙালি কায়স্থ যাঁরা প্রকৃতপক্ষে ক্ষত্রিয় বংশজাত, তাঁরা অনেক সময় ‘বর্মন’ লিখতেন, আর শূদ্র শ্রেণির ব্যক্তিরা নামের শেষে লিখতেন ‘দাস’। যেমন রঘুনাথ দাস, কালিদাস, লোচন দাস, বৃন্দাবন দাস, মুকুন্দরাম দাস। বাঙালি কায়স্থদের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় মুরারী গুপ্ত (১৫৩৬–১৫৪০), কেদারনাথ দত্ত (১৮৩৮ – ১৯১৪) এবং তাঁর পুত্র বিমলচরণ দত্ত প্রভৃতি পদবি ও নামরীতি।
মহিষ্য (মাহিষ্য) শ্রেণির লোকেরা, যাঁরা শূদ্রজাত বলে বিবেচিত হলেও আদিতে ক্ষত্রিয়, তাঁরা বহু পদবি ব্যবহার করতেন—যেমন দিন্দা, পরিয়া, মাইতি, গুচ্ছাইত, হাতি, মালি, শুর, কোলে, দন্ডপাট, জনা, সন্ত্রা, বেরা, সামন্ত, গিরি, ভূঁইয়া, মণ্ডল, ভৌমিক, কর, হাতি, দাস, কাঠাল, ঘরুই, সেনাপতি, পাল, দে, সামুই, মাঝি, পুরকাইত, প্রামাণিক, শিকদার, বাগ, বৈদ্য, গায়েন, মান্না, পাত্র, পল্লে (পোলে), হালদার, নাইয়া, কয়াল, দলুই, বিশ্বাস, খানড়া, ধারা, নায়ক, শাসমাল, প্রধান, গোলুই, পারুই, মরিয়া বা মৌর্য, শও, হাজরা, মল্লিক, সানা, আদক, বারিক, দাসাধিকারী, ভূই, শীত, পাঁজা, মিদ্যা, ঢাক,ঢোল,দুলে, চাকি, তরফদার, রায় (জেলে/চাষি) ইত্যাদি। বিশেষভাবে বলা দরকার, পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর, হাওড়া অঞ্চলে মহিষ্যরা সংখ্যাধিক্য ও প্রাধান্যসম্পন্ন শ্রেণি এবং সদগোপ ও আগুরিদের তুলনায় উচ্চতর শ্রেণিভুক্ত (class)।
বৈদ্যব্রাহ্মণদের মধ্যে দেখা যায় ‘সেন-শর্মা’ বা ‘দাস-শর্মা’ নামের ব্যবহার, এমনকি ‘দাশগুপ্ত’ পদবিও প্রচলিত। বৈশ্য শ্রেণির মধ্যে সাহা, শীল, পোদ্দার, চন্দ্র, ভৌমিক, সরকার, আঢ্য, শিকদার, সেন, বরাল, নাগ, সাধু, লাহা, খান (হিন্দু ব্যবসায়ী শ্রেণিতেও), রুদ্র, পল, কর্মকার, প্রামাণিক, মোদক প্রভৃতি পদবি প্রচলিত।
কায়স্থ সমাজের মধ্যে আটঘর উপাধি হিসেবে প্রসিদ্ধ পদবিগুলি— বসু, ঘোষ, গুহ, মিত্র, দে, দত্ত, ধর, কর। এছাড়া মুখার্জি, বন্দ্যোপাধ্যায়, গাঙ্গুলি, চট্টোপাধ্যায়, ঘোষাল, সান্যাল, মৈত্র, ভাদুড়ি, লাহিড়ী, বাগচী, চক্রবর্তী, ভট্টাচার্য, গোস্বামী ইত্যাদি পদবি মূলত ব্রাহ্মণ সমাজভুক্ত। কায়স্থদের মধ্যে ঘোষ (সৌকলীন গোত্র), বসু-মল্লিক, মিত্র, গুহ, দত্ত, দেব, সিনহা, পালিত, সরকার, দে-সরকার, মজুমদার, চৌধুরী ইত্যাদি পদবি প্রচলিত। বৈদ্য শ্রেণির মধ্যে সেন, গুপ্ত, সেনগুপ্ত, সেনবারাট, দাশগুপ্ত, মল্লিক—এই সকল পদবি প্রচলিত।
বাঙালি ওবিসি শ্রেণির মধ্যে (যাঁদের অনেকে মণ্ডল কমিশনে তালিকাভুক্ত, কেউবা আজও তালিকার বাইরে) গন্ধবানিক, আগুরি, কংসবানিক, সদগোপ, মোদক, তিলি, তন্তুবায়, কুম্ভকার, কর্মকার, নাপিত, বড়ুজীবি, তাম্বুলি, বৈষ্ণব, মহিষ্য, সোনারবণিক, জুঁই, সাহা ইত্যাদি শ্রেণির বিভিন্ন পদবি ও নামরীতি দেখা যায়। এগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে গন্ধবনিকদের মধ্যে দত্ত, চন্দ্র, নন্দী, পল, দাস, দওন, লাহা, প্রামাণিক, কুণ্ডু, দে, নাগ, সেন, সিনহা; আগুরি সম্প্রদায়ে চৌধুরী, হাজরা, রায়, সমন্ত, কোনার, পাঁজা; কংসবনিকদের মধ্যে নন্দন, দত্ত, দাস; সদগোপদের মধ্যে ঘোষ, হাজরা, সরকার, পাল, নিয়োগী, সুর, পাঁজা, মণ্ডল প্রভৃতি পদবি প্রচলিত।
ঘর ঘড়া চাকি – বেলুন ঢাক ঢোল ঢেঁকি
খিল কপাট ভড় – ঘুঘু ঘোড়া বোয়াল ধর ।
মুসলমান সমাজে দেখা যায় তরফদার, দফাদার, গোলদার, থানদার, মালী, লস্কর, সরদার, নস্কর, কাজী, চৌধুরী, খোন্দকার, মুন্সী, দেওয়ান, গাজী, সরকার, মল্ল, পাতোয়ারী, মোল্লা, তালুকদার, চাকলাদার, রোশনদার, হাওলাদার, দিহিদার, ভূঁইয়া, মুস্তাফি, মালাঙ্গি, মাতুব্বর, গোমস্তা, ঢালি, কানুনগো, মল্লিক, মণ্ডল, প্রামাণিক, পোদ্দার, হক, আবদুল, আবদুর, আহমেদ, রহমান, উদ্দিন, শিকদার, হালদার, জয়রদার, কারকুন ইত্যাদি পদবি।
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছু পদবি হিন্দু-মুসলিম উভয় সমাজেই দেখা যায়, যেমন—হালদার, শিকদার, তরফদার, তালুকদার, সরকার, মুন্সী, মল্লিক, কানুনগো, চাকলাদার ইত্যাদি। মুসলিম যুগ ও মুঘল আমলে, বিশেষত মুর্শিদকুলি খাঁর সময়ে এইসব প্রশাসনিক পদবির উত্থান ঘটে।
বাঙালি হিন্দু তফসিলি জাতিভুক্ত সম্প্রদায়ে নামকরণে বহুবিধ বৈচিত্র্য দেখা যায়। ‘দাস’, ‘বিশ্বাস’, ‘নস্কর’, ‘সরকার’, ‘মণ্ডল’, ‘হালদার’, ‘হীরা’, ‘বরুই’, ‘কীর্তনিয়া’, ‘সাহা’, ‘প্রামাণিক’, ‘মৃধা’ ইত্যাদি পদবি এসব শ্রেণির মধ্যে বহুল পরিচিত। জালদাস নামটি চট্টগ্রাম অঞ্চলের হিন্দু জেলে সম্প্রদায়ের পদবি, যেমন লেখক হরিশংকর জালদাস। অপরদিকে, কায়স্থ শ্রেণির এক দুর্লভ পদবি ছিল ‘ওয়াডেদার’, যার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াডেদার।
বৈদ্য শ্রেণির উৎপত্তি নিয়ে বলা হয় যে, দক্ষিণ ভারতের বীর্যবান ভেল্লাল বৈদ্যরা, যাঁরা পূর্বে সামরিক ক্ষমতাসম্পন্ন ছিলেন, পরবর্তীতে ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে ব্রাহ্মণসম মর্যাদা অর্জন করেন এবং ‘বৈদ্য’ উপাধি প্রাপ্ত হন।
কিছু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পরবর্তীকালে পুনরায় সনাতন ধর্মে প্রত্যাবর্তন করেন (১১০০ -১২০০ খ্রিস্টাব্দ)। তবে তারা বৌদ্ধধর্মে থাকাকালীন যে উপাধি বা পদবি গ্রহণ করেছিলেন, সেগুলি রক্ষা করে রেখেছিলেন। এই পুনরাগত সনাতনী হিন্দুদের অনেকের পদবি এখনও সেই বৌদ্ধ ঐতিহ্যের চিহ্ন বহন করে। যেমন—শীল, রক্ষিত, মাঝি, বড়ুয়া (পরুয়া), ভদ্র, মাল, মালাকার, পাল, সেন ইত্যাদি।
এই সকল পদবি এবং নামরীতির ইতিহাস বাংলার সামাজিক স্তরবিন্যাস, অর্থনৈতিক শ্রেণি, ধর্মীয় রীতিনীতি ও ভাষাভাষিক বিন্যাসের এক জটিল ও বৈচিত্র্যময় চিত্র উপস্থাপন করে, যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রেক্ষাপটে অপরিহার্য একটি অনুষঙ্গ।
উপরিউক্ত যে সমস্ত বিষয় বলা হল, সেগুলিকে কথ্য ভাষায় প্রায়শই ‘জাতি’ নামে ডাকা হয়—যেমন নমশূদ্র জাতি, কায়স্থ জাতি ইত্যাদি। কিন্তু এগুলির সঙ্গে ইংরেজি ‘Race’ বা ‘জাতিগত শ্রেণি’, যেটি ওল্ড টেস্টামেন্ট বা বাইবেলের প্রাচীন জাতিসত্তার ধারণার সঙ্গে যুক্ত, তার কোনও মিল নেই। বর্তমান হিন্দু সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল—এই সমাজের মানুষ হোক প্রকৃত হিন্দু, কিংবা হিন্দু ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত মুসলমান বা খ্রিস্টান—অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের একটি বৈদিক পরিচয় রয়ে গেছে, তা হল ‘গোত্র’।
এই গোত্র হল এক প্রাচীন ঋষিকুলীয় পরিচিতি, যা পিতৃবংশ ধরে আসে, এবং বহু ক্ষেত্রে আজও মনে রাখা হয়। কেউ যদি নিজের গোত্র ভুলে যায়, তাহলে সাধারণভাবে ‘কশ্যপ’ গোত্র ধরা হয়। এইভাবেই হিন্দু সমাজে জাতিগত পরিচয় যতই বহুবিধ হোক না কেন, তার মূল ভিত্তিতে একটি বৈদিক সূত্র থেকেই তার পরিচয় নির্ধারিত হয়, যার মূলে রয়েছে গোত্র ও ঋষিকুল।
বাংলার প্রচলিত ও বহুল ব্যবহৃত উপাধিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল: আচার্য, আদক, অধ্য, আদিত্য, আইচ, আশ, আতা, আতার্থি, বাগ, বাগচি, বাগদী, বৈরাগী, বক্সী, বল, বালা, বন্দ্যোপাধ্যায় / ব্যানার্জী, বণিক, বর, বরাল, বরাট, বারিক, বর্মন, বারুই, বসু, বসাক, বটব্যাল, বাউরী, বেজ / বেইজ, বেরা, ভদ্র, ভদুরী, ভাণ্ডারী, ভঞ্জ, ভর, ভৌমিক, ভৌয়াল, ভূঁইয়া, বিদ, বিশ্বাস, বিশি, বিষয়ী, বিষ্ণু, ব্রহ্ম , চন্দা, চন্দ্র, চাকী, চক্লাদার, চক্রবর্তী, চৌধুরী, চট্টোপাধ্যায় / চট্টার্জী, দোলুই, দাম, দাস, দস্তিদার, দাসগুপ্ত, দাস ভৌমিক, দত্ত / দত্তা, দান / দাউ / দান, দণ্ডপাট, দেব, দেবনাথ, দেবরায়, দেওয়ান, দে, দৈতারি (মূলত ওড়িয়া), ধালী, ধাং, ধর, ধারা, ঢোল, ডিণ্ডা, দীর্ঘাঙ্গী, গঙ্গোপাধ্যায় / গাঙ্গুলী, গড়াই, গায়েন, ঘর, ঘরামি, ঘটক, ঘোরুই, ঘোষ, ঘোষাল, ঘোষ চৌধুরী, ঘোষ-দস্তিদার, গুছাইত, গুহ, গুহ-নিয়োগী, গুহঠাকুরতা, গুইন, গুপ্ত, হালদার, হাইত, হাওলাদার, হাতি, হাজরা, হীরা, হোম, যশ , জানা, কবিরাজ, কর, কাঞ্জিলাল, কংসবণিক, কর্মকার, কারফা, কৈবর্ত, খান, খাস্তগীর, খাটুয়া, কীর্তনীয়া, কল্য, কনার, কুইলা, কুণ্ডু, কুশারী, লাহা, লাহিড়ী, মাইতি, মাঝি / মাঝী, মাল, মল্লিক, মালাকার, মণ্ডল / মন্ডল, মান্না, মজুমদার / মজুমদার, মিস্ত্রি, মিত্র, মোদক, মৈত্র, ময়রা, মৌলিক, মুদি, মুখোপাধ্যায় / মুখার্জী, মুখোটি, মুন্সী, মুস্তাফী, নাগ, নহা, নন্দন, নন্দী, নস্কর, নাথ, নায়ক / নায়েক, নিয়োগী, পাচাল, পাইন, পাইক, পাকরাশি, পাল , পালাধী, পালচৌধুরী, পালিত, পান, পাজা, পাঠক, পতি, পাত্র, প্রামাণিক, প্রতিহার, পোদ্দার, পোরেল, পুরকায়স্থ / পুরকায়েত, পুটিতুণ্ড, রাহা, রক্ষিত, রায়, রায়চৌধুরী, রুদ্র, সাধু, সাধুখাঁ, সাহা, সাহানা, সমাই / সামুই / সাপুই / সাফুই, সমাজদার / সমাজদার, সামন্ত, সান্যাল, সন্ত্রা, সরকার, সরকারেল, শাসমল, শীত, শী, সোম, শাউ / শ’/শও, সেন, সেনাপতি, সেনগুপ্ত, শেঠ, শূর, শিকদার, সিমলাই, সিংহ, শিকারী, সুত্রধর, তালুকদার, তরফদার, ঠাকুর। এদের প্রত্যেকেই গোত্র ব্যবহার করে।
টুডু, হাসদা, মান্ডি, মাহাতো, হেমব্রম ইত্যাদি পদবিধারীরা পূর্বে একটি নির্দিষ্ট টোটেম বা প্রতীক চিহ্ন অনুসরণ করতেন, যা ছিল কচ্ছপ। এই কচ্ছপ প্রতীক মূলত কশ্যপ গোত্রের ইঙ্গিত বহন করে। অর্থাৎ গোত্রের দৃষ্টিকোণে তারা কশ্যপ গোত্রভুক্ত ছিলেন বা এখনও সেই ঐতিহ্য বহন করেন। পরবর্তীকালে এই সমস্ত গোষ্ঠীগুলি বাংলার প্রেক্ষাপটে ‘শিডিউল্ড ট্রাইব’ বা তফসিলি উপজাতি হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন। বাউরী, চর্মকার, ধোবা, ডোম, বাগদী, ভূঁইমালী, হাড়ি, জেলে-কৈবর্ত, কোটাল, মেথর, নমঃশূদ্র, চণ্ডাল, পোদ বা পৌণ্ড্রক্ষত্রিয়, রাজবংশী, শুঁড়ি ইত্যাদি ভারতীয় সংবিধান অনুসারে তাদের তফসিলি জাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই লোকেরা বর্ণ হিন্দু এবং গোত্র যুক্ত।
বঙ্গভূমিতে পাওয়া গোত্রের নাম: অগস্ত্য ,অত্রি ,অনাবুকাক্ষ, অব্য বৈয়াঘ্র, আত্রেয়, আঙ্গিরস্, আলম্যান, কাত্যায়ন, কান্ব, কান্যায়ন, কাঞ্চন, কাশ্যপ, কুশিক, কৌন্ডিল্য, কৌশিক, কৃষ্ণাত্রেয়, ঘৃত কৌশিক, গর্গ, গৌতম, জৈমিনী, জামদগ্ন্য, বৃদ্ধি, বৃহস্পতি, বৈয়াঘ্রপদ্য, ভরদ্বাজ, মৌদ্গল্য, বাৎস্য, বশিষ্ঠ ,বাসুকী, বিষ্ণু, বিশ্বামিত্র, ভরদ্বাজ, রোহিত, শক্তি, শান্ডিল্য, শুনক, সাবর্ণ, সাঙ্কৃতি, সৌকালিন ,সোপায়ন ।
কাশ্যপ ও নারায়ণ: জল, সৃষ্টিতত্ত্ব ও বৈদিক দর্শন
কাশ্যপের আক্ষরিক অর্থ কচ্ছপ। কচ্ছপ জলে থাকে। জল বা ‘নর’ শব্দটি নিরুক্ত ও নিঘন্টু-তে (ঋগ্বেদের প্রাচীন ভাষ্যগ্রন্থ, যাস্ক আচার্য কর্তৃক সংকলিত) বর্ণিত হয়েছে। সেই ‘নর’ ই নারায়ণ—অর্থাৎ ‘যিনি নরের আশ্রয়ে অবস্থান করেন’। এখানে “নর” মানে জল এবং “আয়ন” মানে আশ্রয়, অর্থাৎ জলাশ্রিত ঈশ্বর, যিনি সৃষ্টি-প্রক্রিয়ার উৎস ও কারণ।
নারায়ণই ঋগ্বেদে হিরণ্যগর্ভ নামে পরিচিত—“স্বর্ণময় গর্ভে থাকা সৃষ্টির বীজ”। যখন কেউ বলে “মরণে নরকে যাবে”, সেই “নরক” শব্দের একটি গভীর রূপান্তরিত অর্থ দাঁড়ায়—“জলে গমন”, অর্থাৎ মৃতদেহ পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে জলে মিশে যাবে।
ভগবদ্গীতায় বলা হয়:
“মম যোনির্ মহৎ ব্রহ্ম, তস্মিন্ গর্ভং দধাম্যহম্”
(গীতা ১৪.৩)
অর্থাৎ, “আমার গর্ভ হলো মহৎ ব্রহ্ম (জলরূপ), আমি তাতে সৃষ্টি রোপণ করি।” এইভাবে, জলের মধ্যে থেকেই প্রাণ ও সৃষ্টির সূচনা হয়, এবং জলে-ফিরে-যাওয়াই মৃত্যু পরবর্তী ‘সত্য’।
কশ্যপ এই সৃষ্টির মধ্যে একটি রহস্যময় চরিত্র। তিনি পৌরাণিক সাহিত্যে বহু জীবের পিতা—দেবতা, দানব, গন্ধর্ব, নাগ, পশু ও মানব জাতির। কিন্তু একটি গভীরতর দৃষ্টিভঙ্গিতে কশ্যপ এক প্রতীক—একমাত্র নারায়ণের নিঃশব্দ পরমস্থিতি থেকে যখন প্রথম পরিবর্তনের সূচনা হয়, সেই পরিবর্তনের প্রথম উৎস হল কশ্যপ। আধুনিক ভাষায় বললে, কশ্যপ সেই ‘entropy’—যা নিরপেক্ষ সাম্যাবস্থার মধ্যে পরিবর্তন আনে, বিভাজন ঘটায়, সময় ও স্থানের উদ্ভব ঘটায়, এবং বহুত্বকে সম্ভব করে তোলে।
বৈদিক তত্ত্ব অনুযায়ী সময়ের উদ্ভব ঘটে গতির মাধ্যমে, আর গতি তখনই হয় যখন কণিকাগুলি সরে যেতে শুরু করে। এই সরে যাওয়া বা বিকরণই হল জড়বিশ্বের ভেতরে অন্তর্নিহিত প্রবণতা—যা একরূপতা থেকে বহুরূপতার দিকে টানে। সেই সূত্রে কশ্যপ হলেন সেই তাপগতীয় অসাম্য—entropy—যার ফলে সৃষ্টি, বিনাশ ও পরিবর্তন সম্ভব হয়। এক নিরবিকল্প ব্রহ্ম থেকে সৃষ্টির প্রবাহের সূচনা কশ্যপের মধ্যে দিয়ে ঘটে, কারণ তিনিই সেই দ্বৈততার জন্মদাতা, যেখান থেকে কার্য-কারণ, আকাশ-কাল, সুখ-দুঃখ সব কিছু উদ্ভূত হয়।
রবীন্দ্র নাথের বক্তব্য
“আমার বয়স যখন ছিল অল্প, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন বঙ্গসাহিত্যের রাজাসনে, তখন প্রসঙ্গক্রমে তাঁর নাম করতে হলে আমরা বলতুম বঙ্কিমবাবু, শুধু বঙ্কিমও কারো কারো কাছে শুনেছি, কিন্তু কখনো কাউকে বঙ্কিম চাটুজ্জে বলতে শুনি নি। সম্প্রতি রুচির পরিবর্তন হয়েছে কি? এখন শরৎচন্দ্রের পাঠকদের মুখে প্রায় শুনতে পাই শরৎ চাটুজ্জে। পরোক্ষে শুনেছি আমি রবি ঠাকুর নামে আখ্যাত। রুচি নিয়ে তর্কের সীমা নেই কিন্তু শরৎচন্দ্রই আমার কানে ভদ্র শোনায়, শরৎবাবুতেও দোষ নেই, কিন্তু শরৎ চাটুজ্জে কেমন যেন খেলো ঠেকে। যাই হোক, এরকম প্রসঙ্গে বাদ-প্রতিবাদ নিরর্থক, মোট কথা হচ্ছে এই, ব্যাঙাচি পরিণত বয়সে যেমন ল্যাজ খসিয়ে দেয় বাঙালির নামও যদি তেমনি পদবী বর্জন করে আমার মতে তাতে নামের গাম্ভীর্ষ বাড়ে বৈ কমে না। বস্তুত নামটা পরিচয়ের জন্যে নয় ব্যক্তিনির্দেশের জন্যে। পদ্মলোচন নাম নিয়ে আমরা কারো লোচন-সম্পর্কীয় পরিচয় খুঁজি নে একজন বিশেষ ব্যক্তিকেই খুঁজি। বস্তুত নামের মধ্যে পরিচয়কে অতিনির্দিষ্ট করার দ্বারা যদি নামমাহাত্ম্য বাড়ে তবে নিম্নলিখিত নামটাকে সেরা দাম দেওয়া যায়: রাজেন্দ্রসুনু-শশিশেখর মৈমনসৈংহিক বৈষ্ণব নিস্তারিণীপতি চাক্লাদার।
সম্মানরক্ষার জন্যে পুরুষের নামের গোড়ায় বা শেষে আমরা বাবু যোগ করি। প্রশ্ন এই যে, মেয়েদের বেলা কী করা যায়। নিরলংকৃত সম্ভাষণ অশিষ্ট শোনায়। মা মাসি দিদি বউঠাকরুন ঠানদিদি প্রভৃতি পারিবারিক সম্বোধনই আমাদের দেশে মেয়েদের সম্বন্ধে চলে এসেছে। সমাজ-ব্যবহারের যে-গণ্ডির মধ্যে এটা সুসংগত ছিল তার সীমা এখন আমরা ছাড়িয়ে গেছি। আজকাল অনেকে মেয়েদের নামের সঙ্গে দেবী যোগ করাটাই ভদ্র সমোধন বলে গণ্য করেন। এটা নেহাত, বাড়াবাড়ি। মা অথবা ভগিনীসূচক সম্বোধন গুজরাটে প্রচলিত, যেমন অনসূয়া বেন, কস্তুরী বাই। আমাদের পক্ষে আর্যা শব্দটা দেবীর চেয়ে ভালো, কিন্তু ওটা অনভ্যস্ত, অতএব প্রহসনের বাইরে চলবে না। দেবী শব্দটা যদি প্রথামত উচ্চ বর্ণেই প্রযোজ্য তবু নামের সহযোগে ওর ব্যবহার আমাদের কানে সয়ে গেছে। তাই মনে হয় তেমনি অভ্যস্ত শ্রীমতী শব্দটা নামের সঙ্গে জড়িয়ে ব্যবহার করলে কানে অদ্ভুত শোনাবে না, যেমন শ্রীমতী সুনন্দা, শ্রীমতী শোভনা।
বিবাহিতা স্ত্রীর নামকে স্বামীর পরিচয়যুক্ত করা ভারতবর্ষে কোনো কালেই প্রচলিত ছিল না। আমাদের মেয়েদের নামের সঙ্গে তার পিতার বা স্বামীর পদবী জুড়লে প্রায়ই সেটা শ্রুতিকটু এবং অনেক স্থলেই হাস্যকর হয়। ইংরেজি নিয়মে মিসেস ভট্টাচার্য বললে তত দুঃখবোধ হয় না। কিন্তু মণিমালিনী সর্বাধিকারী কানে সইয়ে নিতে অনেকদিন কঠোর সাধনার প্রয়োজন হয়। যেরকম আবহাওয়া পড়েছে তাতে য়ুরোপে বিবাহিত নারীর পদবী পরিবর্তন বেশি দিন টিঁকবে বলে বোধ হয় না, তখন আবার তাড়াতাড়ি আমাদেরও সহধর্মিণীদের নামের ছাঁট-কাট করতে যদি বসি তবে নিতান্ত নির্লজ্জ না হলে অন্তত কর্ণমূল লাল হয়ে উঠবে। এক পাশ্চাত্য মহাদেশে মেয়েরা যখন নিজের নাম-স্বাতন্ত্র্য অবিকৃত রাখা নিয়ে আস্ফালন করবে সেদিন যাতে আমাদের মেয়েরা গৌরব করতে পারে সেই সুযোগটুকু গায়ে পড়ে নষ্ট করা কেন?” (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা শব্দতত্ত্ব ১৯৮৪)
তথ্যসূত্র: (1) মহেশ্বর মিশ্রের কুলপঞ্জিকা, (2) এড়ু মিশ্রের কুলার্ণব, (3) বাচস্পতি মিশ্রের কুলরাম, (4) ধ্রবানন্দ মিশ্রের মহাবংশাবলী, (5) সর্বানন্দ মিশ্রের কুলতত্ত্বার্ণব, (6) হরি মিশ্রের সারাবলী, (7) নুলো পঞ্চাননের গোষ্ঠীকথা।
