বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের বিশ্বকোষ (Encyclopedia of Bengali Language and Literature)
তন্ময় ভট্টাচার্য (অ্যাডভোকেট)
পালি উপভাষা প্রাচীন মগধ সাম্রাজ্যের একটি আঞ্চলিক প্রাকৃত উপভাষা, যা সংস্কৃত ও পুরাতন প্রাকৃত ভাষাগুচ্ছ থেকে বিকশিত হয়। ‘পালি’ শব্দটির মূল অর্থ ‘পাঠ’ বা ‘বিধান’, যা সংস্কৃতজাত শব্দ। এই ভাষার প্রকৃত নাম পালি নয়—ধর্মগ্রন্থে ব্যবহৃত ভাষাকে বোঝাতে পরবর্তীকালে ‘পালি’ শব্দটি গৃহীত হয়। যদিও এই ভাষার উৎস মগধ অঞ্চলের লোকভাষায়, পালি আসলে একধরনের সাহিত্যিক প্রাকৃত, যা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্টভাবে বিন্যস্ত হয়।
খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে প্রায় ১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পালি ভাষায় রচিত ত্রিপিটক সংকলিত হয়। ত্রিপিটক—যার অন্তর্গত বিনয় পিটক, সুত্ত পিটক ও অভিধর্ম পিটক—থেরবাদী বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান গ্রন্থসমূহ। এই ভাষা বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে ধর্মীয় ক্ষেত্রে এক গৌরবময় অবস্থান পায়। ‘থের’ শব্দটি সংস্কৃতে ‘স্থিত’ বা ‘অচঞ্চল’ অর্থে ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ থেরবাদীরা এমন এক চেতনা বা আত্মার অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেন যা পরিবর্তনশীল নয়। এর থেকে অনুমান করা যায়, প্রাথমিক বৌদ্ধদের মধ্যে আত্মার চিরন্তনত্বে বিশ্বাস ছিল।
গৌতম সিদ্ধার্থ, যিনি নব বুদ্ধ (Neo-Buddhist) নামে পরিচিত, পূর্ববর্তী কাশ্যপ বুদ্ধ বা আদিবুদ্ধের দর্শনের বিরুদ্ধপথে গিয়ে আত্মার অস্তিত্ব অস্বীকার করে ‘অনাত্মবাদ’ প্রচার করেন। কাশ্যপ বুদ্ধের মতে আত্মা এক অচঞ্চল, নিত্য ও অপরিবর্তনীয় সত্তা, যা জন্ম ও মৃত্যুর পরেও অবিনশ্বর থাকে। কিন্তু গৌতম বুদ্ধ সেই ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আত্মা বলে কিছু নেই, কেবলমাত্র খণ্ডিত উপাদানের সমষ্টি ও তার কার্যক্রমই চেতনাজাগতিক অভিজ্ঞতার উৎস।
যদি বলা হয় কেবল ‘কর্ম’ পুনর্জন্ম ঘটায়, তবে ‘কর্ম’-এর মধ্যেই যেন একটি গূঢ়, আত্মস্বরূপ শক্তি নিহিত—যা স্বতন্ত্র অস্তিত্ববোধে বিশ্বাস না করেও কার্যত আত্মার ভূমিকাই পালন করছে। এই কারণে অনেক দার্শনিক মনে করেন, কর্ম যদি জন্মদানের ক্ষমতা রাখে তবে সে-ই একপ্রকার ‘আত্মা’র ছদ্মবেশী রূপ; নিও-বৌদ্ধ চিন্তায় ‘কর্ম’ই যেন অস্বীকৃত আত্মার ছায়াপাত।
এই দ্বৈততার মধ্যে একটি মৌলিক দার্শনিক সংকট উদ্ভূত হয়: যদি আত্মা না থাকে, তবে পুনর্জন্ম গ্রহণ করে কে? কেবল কর্মফল যদি পুনর্জন্ম ঘটায়, তবে কর্ম নিজেই কি আত্মার ছদ্মরূপ নয়? এই প্রশ্নের সদুত্তর গৌতম বুদ্ধ দিতে পারেননি বলে অনেকে মনে করেন। এই বিরোধাত্মক দ্বন্দ্বই গৌতম বুদ্ধের দর্শনের একটি মৌলিক দুর্বলতা হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।
গৌতম সিদ্ধার্থ মগধী প্রাকৃত ভাষায় কথা বলতেন এবং তিনি আলার কালামসহ একাধিক বৈদিক গুরুদের অধীনে শিক্ষালাভ করেছিলেন। তার দর্শন মূলত বেদান্ত ও সাংখ্য তত্ত্বের উপর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ গড়ে ওঠে। এছাড়া নিও-বৌদ্ধ গৌতম সিদ্ধার্থ শারীরিক শ্রম বা উৎপাদনমূলক কর্মে বিশ্বাস করতেন না। তাঁর আদর্শ ভিক্ষুসমাজ নিজেরা খাদ্য উৎপাদনে অংশ নিত না, বরং সনাতনী গৃহস্থদের দ্বারস্থ হয়ে অনুগ্রহপ্রাপ্ত খাদ্যেই জীবিকা নির্বাহ করত। এই দৃষ্টিভঙ্গি কৃষিভিত্তিক সমাজের মৌল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং কর্মকে বাস্তব উৎপাদনশীলতার মানদণ্ডে না মেপে কেবল নৈতিক ফলাফলের ধারণায় রূপান্তর করে ফেলে। এইভাবে নিও-বৌদ্ধ ধর্মে কর্ম ও পুনর্জন্মের ধারণা যেমন দার্শনিক সংকট সৃষ্টি করে, তেমনি শারীরিক পরিশ্রম বা উৎপাদনকে তুচ্ছজ্ঞান করার প্রবণতাও একটি ঐতিহাসিক ও নৈতিক প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
পালি উপভাষা দেবনাগরী লিপিতে সংরক্ষিত হলেও প্রাচীন কালে ব্রাহ্মী লিপিতেও লিখিত হয়েছে। পালি ব্যাকরণ ‘কচ্চায়নব্যাকরণ’ নামে পরিচিত। এই ব্যাকরণে সংস্কৃত ব্যাকরণতত্ত্বের ছাপ সুস্পষ্ট। মোগ্গলায়ন নামক পণ্ডিত ‘পদসাধনম্’ নামক গ্রন্থে বর্ণমালার তালিকা প্রদান করেন, যেখানে বলা হয়েছে: “अ आ इ ई उ ऊ ए ओ, क ख ग घ ङ, च छ ज झ ञ, ट ठ ड ढ ण, त थ द ध न, प फ ब भ म, य र ल व स ह ळ अं”—এই চল্লিশোর্ধ বর্ণগুলি পালি ভাষায় ব্যবহৃত হয়। পদসাধনম্-এ বলা হয়েছে: “अआदयो तिताळीस वणणा”—অর্থাৎ অ-আ ইত্যাদি ৪৩টি বর্ণ পালিতে প্রচলিত। এই বর্ণব্যবস্থা সংস্কৃত বর্ণমালার অনুরূপ হলেও উচ্চারণ ও ধ্বনিগতভাবে কিছুটা ভিন্ন।
জিনবচনানুরূপা অকারদেও নিগ্গহিতন্তা তে-চত্তাল্লি সক্খরা পচ্চেকং ৱণ্ণা নাম হন্তি যথা –
অ আ ই ঈ উ ঊ এ ও ক খ গ ঘ ঙ চ ছ জ ঝ ঞ ট ঠ ণ ত থ দ ধ ন প ফ ব ভ ম য র ল স হ ব ळ অং
ইতি – ক-কার-আদি-স্ব-কারো উচ্চারণত্ত্থো = ৱণ্ণীয়তি অত্ত্থো এতেহীতি ৱণ্ণা – অ-আদি মরিয়াদা ভূতো ইয়েসন্তো অ-আদয়ো।
ভারতে পালি উপভাষার ব্যবহার চতুর্থ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ পুরোপুরি লুপ্ত হয়ে যায়। কারণ সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ভাষার ব্যবহার কখনোই বিস্তৃত ছিল না। বরং প্রশ্ন তোলা যায়, আদৌ কি পালি কখনোই কথ্য ভাষা হিসেবে উত্তর ভারতে ব্যবহৃত হয়েছে? অনেকেই মনে করেন, এটি মূলত পাণ্ডিত্যচর্চার ধর্মগ্রন্থভিত্তিক একটি ভাষা ছিল। এর বিপরীতে, পিশাচী ভাষা—যার কোন রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না—উত্তর ভারতে ও বর্তমান বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অনেক দিন ধরে প্রচলিত ছিল।
বুদ্ধ কশ্যপের (कश्यप बुद्ध) জন্মস্থান ছিল বারাণসী শহর যেখানে রাজা কিকি রাজত্ব করেছিলেন; তাঁর পিতা ছিলেন ব্রাহ্মণ ব্রহ্মদত্ত এবং তাঁর মাতা ধনবতী, একজন ব্রাহ্মণ মহিলা। তিনি দুই হাজার বছর ধরে গৃহস্থালি জীবনযাপন করেছিলেন; তাঁর তিনটি প্রাসাদ ছিল হংস, যশ এবং শিরিনন্দ। তাঁর স্ত্রী ছিলেন সুনন্দা, একজন ব্রাহ্মণ মহিলা যার পরিচারিকা ছিলেন আটচল্লিশ হাজার ব্রাহ্মণ মহিলা; তাঁর পুত্র ছিলেন বিজিতসেন।
বুদ্ধং সরণং গচ্ছামি।
ধম্মং সরণং গচ্ছামি।
সঙ্ঘং সরণং গচ্ছামি।
দুতিয়ম্পি বুদ্ধং সরণং গচ্ছামি।
দুতিয়ম্পি ধম্মং সরণং গচ্ছামি।
দুতিয়ম্পি সঙ্ঘং সরণং গচ্ছামি।
ততিয়ম্পি বুদ্ধং সরণং গচ্ছামি।
ততিয়ম্পি ধম্মং সরণং গচ্ছামি।
ততিয়ম্পি সঙ্ঘং সরণং গচ্ছামি।
গৌতম সিদ্ধার্থ বুদ্ধের মৃত্যুর কাহিনি মহাপরিনির্বাণ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যা মগধরাজ আজাতশত্রুর শাসনকালে সংঘটিত বলে বিবেচিত। হর্যঙ্ক বংশীয় রাজা বিম্বিসারের পুত্র আজাতশত্রু প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৪৯২ থেকে ৪৬০ সালের মধ্যে মগধ শাসন করেন। ধারণা করা হয়, গৌতম বুদ্ধ এই সময়কালের একটু পরে, প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ সালের আশেপাশে ভারতের উত্তরভাগে ধর্মপ্রচার করেছিলেন।
এবম মে সুতং – একং সময়ং ভগবা (গৌতম সিদ্ধার্থ) রাজগহে বিহরতি গিজ্ঝকূটে পব্বতে। তেন খো পন সময়েন রাজা মাগধো অজাতশত্রু বেদেহিপুত্তো বজ্জী অভিযাতুকামো হোতি। সো এবমাহ – ‘‘অহং হিমে বজ্জী এৱংমহিদ্ধিকে এৱংমহানুভাৱে উচ্ছেচ্ছামি বজ্জী, বিনাসেস্সামি বজ্জী, অনযব্যসনং আপাদেস্সামি বজ্জী’’তি।
বুদ্ধের উপদেশগুলো প্রথমদিকে মৌখিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছিল এবং খ্রিস্টপূর্ব ১০০ সালের দিকে পালি ভাষায় লিখিত হয়; তার কিছুদিন পর সংস্কৃত অনুবাদও প্রস্তুত হয়। কিন্তু বৈদিক গুরুকুলের মত বৌদ্ধ ভিক্ষুরা পুরো ধর্মপাঠ হুবহু মুখস্থ করার অভ্যাস গড়ে তোলেননি। ফলত বুদ্ধের শিক্ষাগুলো সেই রকম পবিত্রতা ও নিখুঁততা নিয়ে সংরক্ষিত হয়নি যেমনটি বৈদিক ঐতিহ্যে হয়। গৌতমের ত্রিশ বছরের ধর্মজীবনের মধ্যে তাঁর প্রথম অনুসারীরা হয়তো মাত্র কিছু নৈতিক ও নৈতিক-সাংঘিক মূলতত্ত্বই স্মরণে রেখেছিলেন। তার শিক্ষাগুলি ছিল মূলত নীতিকেন্দ্রিক ও আচারভিত্তিক, অনেকটা আজীবক সম্প্রদায়ের মত, এবং প্রথমদিককার ভিক্ষুগণ এগুলিকে সম্পূর্ণভাবে লিপিবদ্ধ করেননি। এই ধারা পরবর্তী কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত বজায় ছিল, এবং গৌতমের মৃত্যুর অন্তত ৩০০ বছর পরেও বৌদ্ধধর্মের পূর্ণাঙ্গ নথিকরণ শুরু হয়নি।
প্রায় সব পালি ধর্মগ্রন্থেই এক ধরনের নির্ধারিত ভূমিকা, শব্দভান্ডার এবং সংলাপধর্মী কাঠামো দেখা যায়। এর থেকে বোঝা যায়, বৌদ্ধ ধর্মোপদেশগুলো একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে পরে রচিত ও সম্পাদিত হয়েছে, যা গৌতম বা তাঁর নিকটতম শিষ্য আনন্দ বা ব্রাহ্মণ কাশ্যপের প্রত্যক্ষ বচনের সঙ্গে পুরোপুরি মিল খায় না।
ব্রাহ্মণদের তুলনায় বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ তাঁদের ধর্মগ্রন্থসমূহ ত্রিপিটক বা তিপিটক নামে সংগঠিত করেন—অর্থাৎ “তিন ঝুড়ি”। এই তিনটি ঝুড়ির মধ্যে বুদ্ধের সমস্ত ধর্মশিক্ষা সঞ্চিত রাখা হত। পাণ্ডুলিপিসমূহকে এভাবে ঝুড়িতে ভরে পরিবহনযোগ্য করে রাখার ফলে ভিক্ষুগণ সহজেই সম্পূর্ণ ধর্মগ্রন্থ বহন করতে পারতেন ও রাজসভায় বা বর্ষাবাসের সময় এগুলো পাঠ করতে পারতেন। এর বিপরীতে, ব্রাহ্মণগণ কোনো ধর্মগ্রন্থ বহন করতেন না; তাঁরা মন্ত্র মুখস্থ করে তা স্মৃতিপাঠের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতেন।
প্রথম প্রজন্মের বৌদ্ধ ভিক্ষুদের (যাঁরা ভিক্ষু নামে পরিচিত) প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ধ্যানকেন্দ্রিকতা। এতে তারা ব্রাহ্মণদের থেকে স্বতন্ত্র হয়ে ওঠেন, কারণ ব্রাহ্মণেরা ছিলেন প্রধানত যজ্ঞ-অনুষ্ঠানের পুরোহিত। ব্রাহ্মণেরা পরমব্রহ্মকে উদ্দেশ্য করে যজ্ঞ সম্পাদন করতেন, যার মাধ্যমে কর্মক্ষয় বা মোক্ষপ্রাপ্তি সম্ভব—এমন বিশ্বাস প্রচলিত ছিল। অপরদিকে, বুদ্ধ ধ্যানের মাধ্যমে কর্মের গতি পর্যবেক্ষণ এবং চিত্তকে সমস্ত বিষয়বস্তু থেকে প্রত্যাহার করার উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এই ধারা উপনিষদীয় বেদান্তের ভাবধারার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলে যায়। বেদান্ত শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ‘বেদের সমাপ্তি’ হলেও দার্শনিকভাবে এটি দুঃখের সমাপ্তি—যা নির্বাণ-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত, যদিও দু’টির মধ্যে কিছু কারিগরি পার্থক্য রয়ে গেছে।
বিভিন্ন বৌদ্ধ সম্প্রদায় বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করত। মহাসাংঘিক সম্প্রদায় প্রাকৃত ভাষা গ্রহণ করে, সর্বাস্তিবাদীরা সংস্কৃত ব্যবহার করে, স্থবিরবাদীরা পিশাচী ভাষায় ধর্মচর্চা করে, এবং সাম্মিতীয় সম্প্রদায় অপরভ্রংশ ভাষা ব্যবহার করে। অপরদিকে জৈন ধর্মে ব্যবহৃত ভাষা ছিল আর্ধমাগধী, যা জৈন আগম গ্রন্থে সংরক্ষিত আছে।
গ্রন্থপঞ্জি
- कच्चायनव्याकरणं
- पदसाधनं – मोग्गलायन
- तिपिटक (त्रिपिटक) – विनय पिटक, सुत्त पिटक, अभिधम्म पिटक
- A.K. Warder – Pali Metre and Literature
- Rhys Davids – Pali-English Dictionary
- Advocatetanmoy: Buddhist Canon – Pali Text – Original Tripitaka
পালি উপভাষার উদাহরণ
तेन समयेन बुद्धो भगवा सावत्थियं विहरति जेतवने अनाथपिण्डिकस्स आरामे. तेन खो पन समयेन आयस्मा उदायी सावत्थियं कुलूपगो होति, बहुकानि कुलानि उपसङ्कमति. यत्थ पस्सति कुमारकं वा अपजापतिकं, कुमारिकं वा अपतिकं, कुमारकस्स मातापितूनं सन्तिके कुमारिकाय वण्णं भणति: “अमुकस्स कुलस्स कुमारिका अभिरूपा दस्सनीया पासादिका पण्डिता ब्यत्ता मेधाविनी दक्खा अनलसा. छन्ना सा कुमारिका इमस्स कुमारकस्सा”ति. ते एवं वदेन्ति: “एते खो भन्ते अम्हे न जानन्ति “के वा इमे कस्स वा”ति. सचे भन्ते अय्यो दापेय्य आनेय्याम मयं तं कुमारिकं इमस्स कुमारकस्सा”ति. कुमारिकाय मातापितूनं सन्तिके कुमारकस्स वण्णं भणति: “अमुकस्स कुलस्स कुमारको अभिरूपो दस्सनीयो पासादिको पण्डितो ब्यत्तो मेधावी दक्खो अनलसो. छन्नायं१ कुमारिका तस्स कुमारकस्सा”ति. ते एवं वदेन्ति: “एते खो भन्ते अम्हे न जानन्ति: ‘के वा इमे कस्सवा’ति, किस्मिं विय कुमारिकाय वत्तुं. सचे भन्ते अय्यो याचापेय्य दज्जेय्याम मयं इमं कुमारिकं तस्स कुमारकस्सा”ति. एतेनेव उपायेन आवाहानि’पि कारापेति. विवाहानि’पि कारापेति. वारेय्यानि’पि कारापेति. (From Vinaypitak)
তে ন সময়েন বুদ্ধো ভগবা সাবত্থিয়ং বিহরতি জেতবনে অনাথপিণ্ডিকস্স আরামে। তেন খো পন সময়েন আয়স্মা উদায়ী সাবত্থিয়ং কুলূপগো হোতি, বহুকানি কুলানি উপসঙ্কমতি। যত্থ পস্সতি কুমারকং বা অপজাপতিকং, কুমারিকং বা অপতিকং, কুমারকস্স মাতাপিতূনং সন্তিকে কুমারিকায় বর্ণং ভণতি: “অমুকস্স কুলস্স কুমারিকা অভিরূপা দস্সনীয়া পাসাদিকা পণ্ডিতা ব্যত্তা মেধাবিনী দক্খা অনলসা। ছন্না সা কুমারিকা ইমস্স কুমারকস্সা”তি। তে এবং বদেন্তি: “এতে খো ভন্তে অম্হে ন জানন্তি “কে বা ইমে কস্স বা”তি। সচে ভন্তে অয্যো দাপেয়্য আনেয়্যাম ময়ং তং কুমারিকং ইমস্স কুমারকস্সা”তি। কুমারিকায় মাতাপিতূনং সন্তিকে কুমারকস্স বর্ণং ভণতি: “অমুকস্স কুলস্স কুমারকো অভিরূপো দস্সনীয়ো পাসাদিকো পণ্ডিতো ব্যত্তো মেধাবী দক্খো অনলসো। ছন্নায়ং১ কুমারিকা তস্স কুমারকস্সা”তি। তে এবং বদেন্তি: “এতে খো ভন্তে অম্হে ন জানন্তি: ‘কে বা ইমে কস্সবা’তি, কিস্মিং বিয কুমারিকায় বত্তুং। সচে ভন্তে অয্যো যাচাপেয়্য দজ্জেয়্যাম ময়ং ইমং কুমারিকং তস্স কুমারকস্সা”তি। এতেনেব উপায়েন আৱাহানি’পি কারাপেতি। বিবাহানি’পি কারাপেতি। ৱারেয়্যানি’পি কারাপেতি।
সেই সময়ে ভগবান বুদ্ধ শ্রাবস্তীতে অনাথপিণ্ডিকের জেতবন বিহারে অবস্থান করছিলেন। সেই সময়ে আয়ুষ্মান উদায়ী শ্রাবস্তীতে বিভিন্ন গৃহস্থ পরিবারে যাতায়াত করতেন, বহু গৃহস্থ পরিবারে নিয়মিত যেতেন। যেখানে তিনি কোনো কুমার (অবিবাহিত ছেলে) বা বিধবা, এবং কোনো কুমারী (অবিবাহিত মেয়ে) বা স্বামীবিয়োগিনীকে দেখতেন, তখন তিনি সেই ছেলেটির বাবা-মায়ের সামনে মেয়েটির প্রশংসা করে বলতেন:
“অমুক পরিবারের কুমারী মেয়ে রূপবতী, দর্শনীয়, নম্র স্বভাবের, বিদুষী, সুবুদ্ধি সম্পন্ন, কর্মঠ এবং অক্লান্ত। এই কুমারীটি এই কুমারের উপযুক্ত।”
তখন লোকেরা বলত: “ভন্তে, আমরা তো জানি না—এরা কারা, এরা কার সন্তান। যদি আপনি অনুগ্রহ করে দেন, আমরা সেই কুমারীটিকে এই কুমারের জন্য গ্রহণ করতে পারি।”
পরে তিনি সেই কুমারীর বাবা-মায়ের সামনে ছেলেটির গুণাগুণ বলে বলতেন: “অমুক পরিবারের ছেলে রূপবান, মনোহর, সৌম্য, জ্ঞানী, বিচক্ষণ, কর্মনিপুণ এবং অক্লান্ত। এই কুমারীটি ঐ কুমারের উপযুক্ত।”
তখন লোকেরা বলত: “ভন্তে, আমরা তো জানি না এরা কারা বা কার সন্তান। কোন প্রেক্ষিতে আমরা এই কুমারীকে তার সঙ্গে বিবাহ দেব? যদি আপনি অনুগ্রহ করে অনুরোধ করেন, তবে আমরা এই কুমারীকে ওই কুমারের সঙ্গে বিবাহ দিতে পারি।”
এইভাবেই (বুদ্ধ) বিবাহের উদ্যোগ নিতেন, বিবাহ সম্পন্ন করাতেন এবং বিবাহের আয়োজন ও আচারাদিও পরিচালনা করতেন।
මාවිසින් මෙසේ අසන ලදී: එක් සමයෙක්හි භාග්යවතුන් වහන්සේ පන්සියක් පමණ වූ මහත් බික්සඟන සමඟ රජගහනුවරටත් නාලන්දා නුවරටත් අතරෙහි දීර්ඝමාර්ගයට පිළිපන්සේක් වෙති. සුප්පිය නම් පිරිවැජියාත් බඹදත් නම් තරුණ අතැවැස්සා සමඟ රජගහ නුවරටත් නාලන්දා නුවරටත් අතරැ වූ දික් මඟට පිළිපන්නේ වේ. එහි දී සුප්පිය පිරිවැජි නොයෙක් කරුණින් බුදුරජාණන් වහන්සේට දොස් කියයි, ධර්මයට දොස් කියයි, සංඝයාට දොස් කියයි. එහෙත් ඔහුගේ අතැවැසි තරුණ බඹදත් තෙමේ නොයෙක් කරුණින් බුදුරජාණන් වහන්සේ පසසයි, ධර්මය පසසයි, සංඝයා පසසයි. මෙසේ ඒ ඇදුරු අතැවැසි දෙදෙන එකෙක් අනෙකාට ඉඳුරා ම විරුද්ධවාද ඇත්තෝ භාග්යවතුන් වහන්සේත් බික්සඟපිරිසත් අනුව ගියෝ වෙත්. (Sinhalese text from Dirghanikaya)
আমি বিসিন মেসে আসন লদি: এক সমযেকহি ভাগ্যবতুং বহংসে পন্সিযক পমন উ মহৎ বিক্সগন সমঙ্গ রজগহনুবরতত নালন্দা নুবরতত অতরেহি দীর্ঘমার্গযত পিলিপংসেক বেতি। সুপ্তিয় নাম পিরিব্যজিয়াত বম্বদৎ নাম তরুণ অত্যৱেস্সা সমঙ্গ রজগহ নুবরতত নালন্দা নুবরতত অতর এ উ দিক্ মঙত পিলিপন্নে বে। এহি দি সুপ্পিয় পিরিব্যজি নয়েক করুণিন বুদুরজানং বহংসেত দোস কিয়য়ি, ধর্মযত দোস কিয়য়ি, সংঘযাত দোস কিয়য়ি। এহেত ওহুগে অত্যৱেসি তরুণ বম্বদৎ তেমে নয়েক করুণিন বুদুরজানং বহংসে পসসয়ি, ধর্ময পসসয়ি, সংঘযা পসসয়ি। মেসে এ অ্যদুরু অত্যৱেসি দেদেন একেক অনেকাত ইন্দুরা ম বিরুদ্ধবাদ এত্থো ভাগ্যবতুং বহংসেত বিক্সগপিরিসত অনুব গিয়ো বেত।
আমি এই কথা শুনেছিলাম—এক সময় ভগবান বুদ্ধ প্রায় পাঁচশ জন ভিক্ষু-সঙ্গ নিয়ে রাজগৃহ ও নালন্দার মধ্যবর্তী দীর্ঘ পথে ভ্রমণ করছিলেন। ঠিক তখনই সুপ্তিয় নামের এক পারিব্রাজক ও তার সেবক যুবক বম্বদত্ত একই পথে রাজগৃহ থেকে নালন্দার দিকে যাত্রা করছিল। সেই পথে হাঁটতে হাঁটতে সুপ্তিয় বহু বিষয়ে ভগবান বুদ্ধকে, ধর্মকে ও সংঘকে নানাভাবে নিন্দা করতে থাকে। কিন্তু তার তরুণ সেবক বম্বদত্ত নানা যুক্তিতে বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের প্রশংসা করতে থাকে। এইভাবে তারা দুজন, একে অপরের বিপরীত মনোভাব নিয়ে, পথ চলতে থাকল। তারা যেমন নিজেদের মধ্যে বিতর্কে লিপ্ত ছিল, তেমনি ধীরে ধীরে ভগবান বুদ্ধ ও ভিক্ষুসঙ্ঘের কাছাকাছি চলে আসে এবং তাদের অনুসরণ করতে থাকে।
