মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার “গ্রেট ড্যাডি” বলা যায়—কারণ আদর্শগত পরিবর্তন, প্রাতিষ্ঠানিক চাপ এবং আক্রমণাত্মক বিজেপি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও টিকে থাকা ও জয়ী হওয়ার শিল্প তিনি রপ্ত করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন সমসাময়িক ভারতীয় গণতন্ত্রে জনতাবাদী কৌশল, আঞ্চলিক আত্মপ্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের স্থায়ী শক্তির এক অনন্য কেস স্টাডি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান ও রাজনৈতিক জীবন: স্ট্রিট ফাইটার থেকে বাংলার ‘দিদি’, রাজনৈতিক আধিপত্য ও ক্ষমতা ব্যবস্থাপনার শিল্প
পর্ব এক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থান কোনো উত্তরাধিকার, আদর্শিক প্রশিক্ষণ বা প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে তৈরি হয়নি। তাঁর নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে দীর্ঘদিনের সরাসরি সংঘাতের ভেতর দিয়ে।
১৯৫৫ সালের ৫ জানুয়ারি দক্ষিণ কলকাতায় জন্ম নেওয়া মমতা বাংলার অভিজাত রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে নয়, বরং তার ব্যতিক্রম হিসেবেই রাজনীতিতে আসেন। তাঁর বাবা প্রমিলেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যু পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলে দেয়। এই অভাব তাঁর ভাষার আগেই তাঁর মানসিকতা গড়ে তোলে।
অনেকে “গরিব মানুষ”-কে ভোটব্যাংক হিসেবে পরে আবিষ্কার করেন। কিন্তু মমতা অভাবকে বয়ে বেড়িয়েছেন স্মৃতি, ক্ষোভ আর স্বভাব হিসেবে। তাই তাঁর রাজনীতি কখনোই বইয়ের তত্ত্বে সীমাবদ্ধ ছিল না—তা ছিল শরীরী, তাৎক্ষণিক ও একান্ত ব্যক্তিগত।
১৯৭০-এর দশকে তাঁর ছাত্রজীবন কাকতালীয়ভাবে বাংলায় বামপন্থী সাংস্কৃতিক আধিপত্যের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। তখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নিরপেক্ষ জায়গা ছিল না ; সেগুলো ছিল আদর্শ তৈরির কারখানা। বাম মতাদর্শের বিরোধিতা করলে সামাজিক মূল্য দিতে হতো। সেই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনে মমতার যোগদান কোনো সুযোগসন্ধান ছিল না—তা ছিল সরাসরি বিরোধিতা।
সত্তরের দশকের মাঝামাঝি ছাত্র পরিষদে উঠে আসার সময় তিনি আদর্শগত পাণ্ডিত্যে নয়, বরং শারীরিক সাহস, সোজাসাপ্টা ভাষা ও সংগঠনের কাজে নিরলস পরিশ্রমে নিজেকে আলাদা করে তোলেন। তিনি মার্ক্সবাদকে যুক্তিতে হারাননি; তিনি রাস্তায় লড়ে তাকে ক্লান্ত করে তুলেছিলেন।
১৯৮৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর যাদবপুরে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে তাঁর প্রথম বড় জাতীয় রাজনৈতিক সাফল্য আসে। এই জয়ের প্রতীকী গুরুত্ব বিশাল। যাদবপুর ছিল বামপন্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্গ। সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সংসদীয় মার্ক্সবাদের মার্জিত মুখ। মমতা তাঁকে হারান আদর্শ বদলে নয়, বরং বাম সংস্কৃতির ভাষা ও ভঙ্গি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে।
তিনি সরু গলিতে প্রচার করেন, রুক্ষ কথ্য বাংলায় কথা বলেন এবং নিজেকে বামের “বাংলার স্বাভাবিক শাসক” ভাবনার সরাসরি বিরোধী হিসেবে তুলে ধরেন। ২৯ বছর বয়সে সংসদে তিনি নতুন মুখ হিসেবে নয়, এক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই প্রবেশ করেন।
১৯৮৯ সালে পরাজয় তাঁকে দুর্বল করেনি; বরং আরও কঠোর করে তোলে। একই বছরে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র জিতে তিনি চুপচাপ বিধায়ক হয়ে থাকেননি। আশির দশকের শেষভাগ ও নব্বইয়ের শুরুতে তিনি লাগাতার আন্দোলনের রাজনীতি গড়ে তোলেন—রেল অবরোধ, অনশন, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ।
এই সময়েই তাঁর চেনা চেহারা তৈরি হয়—সাধারণ সুতির শাড়ি, রাবারের চটি, কাপড়ের ব্যাগ। এটি কাকতালীয় ছিল না। এটি ছিল বাংলার ভদ্রলোক রাজনীতির বিরুদ্ধে সচেতন প্রতিবাদ, যেখানে ভদ্রতা, তাত্ত্বিক জ্ঞান আর সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হতো।
১৯৯১ সালের জুনে দক্ষিণ কলকাতা থেকে জিতে কেন্দ্রীয় সরকারে ঢোকা তাঁর জীবনের এক দ্বন্দ্ব প্রকাশ করে। তিনি পদমর্যাদায় উন্নীত হলেও স্বভাবে বিদ্রোহীই থেকে যান। নরসিমহা রাও সরকারের অধীনে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করলেও বাংলার কংগ্রেস রাজনীতিতে তিনি গভীরভাবে অসন্তুষ্ট ছিলেন।
তিনি রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্বকে নিষ্ক্রিয়, আপসকামী এবং বামফ্রন্টের কাছে নতজানু মনে করতেন। এই ক্ষোভ চরমে পৌঁছায় ১৯৯৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, ক্রীড়া দুর্নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনের সময় তাঁর ওপর হামলার পর। রক্তাক্ত মাথার সেই ছবি তাঁকে শুধু লড়াকু নেত্রী নয়, ত্যাগের প্রতীকে পরিণত করে। এর পর কংগ্রেস থেকে তাঁর বিচ্ছেদ আর ফেরানো যায়নি।
১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি সেই বিচ্ছেদ নতুন দল গঠনে রূপ নেয়—সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এটি শুধু ভাঙা দল ছিল না; এটি ছিল বাংলার রাজনীতির ভাষা বদলানোর চেষ্টা। দলের নামেই ছিল কংগ্রেসের অভিজাততা ও কমিউনিস্টদের অনমনীয় মতবাদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের দাবি।
একই বছর বিজেপির সঙ্গে তাঁর জোট সমালোচিত হলেও এতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়—রাজনৈতিক গতি থামায় এমন কোনো আদর্শকে তিনি বাধা হতে দেবেন না।
১৯৯৯ সালের অক্টোবরে অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকারের রেলমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম বড় প্রশাসনিক পরীক্ষা দেন। তিনি কাঠামোগত সংস্কারের বদলে দৃশ্যমানতাকে গুরুত্ব দেন—সস্তা ভাড়া, অঞ্চলভিত্তিক ট্রেন ঘোষণা, লাগাতার মিডিয়া উপস্থিতি। কিন্তু বাংলায় বাম শাসন তখনও অটুট। ২০০১ সালে তিনি আবারও বিরোধিতায় আটকে পড়েন।
বড় ভাঙন আসে নির্বাচনে নয়, জমির প্রশ্নে। ২০০৬ সালে সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের জন্য জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তে তিনি এমন এক ফাটল ধরেন যা বাম সরকার সামলাতে পারেনি। গ্রামীণ বাংলায় জমি শুধু আয়ের উৎস নয়—তা নিরাপত্তা, উত্তরাধিকার ও সম্মানের বিষয়।
২০০৬ সালের ৪ ডিসেম্বর তাঁর অনশন ছিল কোনো নীতিগত আলোচনার জন্য নয়; এটি ছিল নৈতিক চাপ সৃষ্টি। ৯ ডিসেম্বর অনশন ওঠার আগেই শিল্পায়ন রাজ্য জবরদস্তির প্রশ্নে পরিণত হয়।
নন্দীগ্রাম সেই সংঘাতকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায়। ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ পুলিশের গুলিতে গ্রামবাসীদের মৃত্যু বাম সরকারের নৈতিক দাবি ভেঙে দেয়। মমতা শুধু বিরোধিতা করেননি; তিনি জনরোষের মুখ হয়ে ওঠেন।
২০০৮ সালে টাটা মোটরসের সিঙ্গুর ছেড়ে যাওয়া ছিল তিন দশকে বাম শাসনের প্রথম বড় পিছু হটা। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ভরাডুবি স্পষ্ট করে দেয়—পতন আর কল্পনা নয়। ২০১১ সালের ১৩ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটে। আদর্শে নয়, মানসিক ক্লান্তিতে।
২০১১ সালের ২০ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি জাঁকজমক এড়িয়ে সাদামাটা ভঙ্গিতে ক্ষমতাকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরেন। সেই দিন থেকেই তাঁর দ্বিতীয় রাজনৈতিক জীবনের শুরু—স্ট্রিট ফাইটার তখন রাষ্ট্রে পরিণত।
২০১১-এর পর তাঁর নেতৃত্ব আন্দোলন থেকে ব্যবস্থাপনায় রূপ নেয়। তাঁর শাসন ছিল না প্রযুক্তিনির্ভর বা প্রাতিষ্ঠানিক; তা ছিল ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও বণ্টনমূলক। কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্প শুধু সুবিধা দেওয়ার জন্য নয়, সরাসরি আবেগী সম্পর্ক তৈরির জন্য।
একই সঙ্গে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। প্রশাসন ও দল একাকার হয়ে যায়। ২০১৩ সালের সারদা কেলেঙ্কারিতে তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল দায় স্বীকার নয়, বরং বয়ান তৈরি—সব তদন্তকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখানো। ২০১৬ সালে নারদ কাণ্ডের পর এই প্রবণতা আরও শক্ত হয়।
তবু ভোটে তাঁর আধিপত্য অটুট থাকে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে বোঝা যায়—শাসনের মান নয়, আবেগী আনুগত্যই মুখ্য।
২০১৭-এর পর বিজেপির উত্থানে তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসে। বিজেপি তাঁর শাসন নয়, তাঁর সাংস্কৃতিক বৈধতাকেই প্রশ্ন করে। ২০১৯ সালে বিজেপির ১৮ আসন জয় তাঁর দুর্বলতা দেখিয়ে দেয়। জবাবে তিনি বাঙালি পরিচয়কে সামনে এনে নিজেকে “বাইরের আগ্রাসনের” বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে তুলে ধরেন।
২০২১ সালের নির্বাচনে আহত হয়ে হুইলচেয়ার থেকে প্রচার করে তিনি এই লড়াইকে “বাংলা বনাম দিল্লি” বানান। ২ মে ফলাফল আসে—বিপুল জয়।
তৃতীয় মেয়াদে কেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর সংঘাত কাঠামোগত হয়ে ওঠে। CAA, NRC বিরোধিতা, যুক্তরাষ্ট্রবাদ—সবই রাজ্যের আত্মসম্মানের প্রশ্নে রূপ নেয়। ২০২৪ সালে ২৯টি আসন জিতে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে আবার প্রাসঙ্গিক হন।
দুর্নীতির অভিযোগ সত্ত্বেও তাঁর “দিদি” ভাবমূর্তি আরও শক্ত হয়। শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির পরও তাঁর কর্তৃত্ব ভাঙে না। তিনি এখন শুধু নেত্রী নন—তিনি প্রতীক।
এই জনপ্রিয়তা এক বিপরীত বাস্তবতার ওপর দাঁড়ানো। তিনি একদিকে কর্তৃত্ববাদী বলে অভিযুক্ত, অন্যদিকে রক্ষক হিসেবে পূজিত। দুর্নীতি মানা হয়, কিন্তু আপেক্ষিক করে দেখা হয়। টিকে থাকাই এখানে নৈতিকতার চেয়ে বড়।
১৯৮৪ থেকে ২০২৪—এই সময়ে মমতা শুধু রাজনীতি করেননি, বাংলায় ক্ষমতার ভাবনাই বদলে দিয়েছেন। আদর্শের জায়গায় আবেগ, প্রতিষ্ঠানের জায়গায় ব্যক্তিত্ব, শাসনের জায়গায় গল্প।
পর্ব দুই
২০২১ সালের মে মাসের পর, তৃতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি পৌঁছানোর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা পশ্চিমবঙ্গে এমন এক স্তরে পৌঁছায়, যার সঠিক নাম খুঁজে পেতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও হিমশিম খান। এই ক্ষমতা আর শুধু ভোটের জয় নয়, শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও নয়, আবার নিয়মিত শাসনকাজের উপর নির্ভরশীলও নয়। এটি ধীরে ধীরে এক ধরনের প্রতীকী সার্বভৌমত্বে পরিণত হয়।
বাংলার রাজনীতিতে তখন আর বিকল্প নীতি বা প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের তুলনা হয় না। রাজনীতির কেন্দ্রে থাকে একটাই প্রশ্ন—মমতা আছেন, না নেই। নির্বাচন আর পছন্দের লড়াই থাকে না; তা হয়ে ওঠে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গণভোট।
এই পরিবর্তনের সঙ্গেই দুর্নীতির অভিযোগ তীব্রতর হয়—যা স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেকোনো সরকারকে টালমাটাল করে দিতে পারত। ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম প্রকাশ্যে আসে। এটি শুধু প্রশাসনিক ভুলের ইঙ্গিত ছিল না; বরং দলীয় নেতা, দালাল ও প্রশাসনের একাংশের মধ্যে পৃষ্ঠপোষকতার জাল স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গ্রেপ্তারি, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং দীর্ঘ তদন্ত শুরু হয়।
কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এর প্রভাব সীমিতই থাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো বড় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথে যাননি। বরং তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ দেন। তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে দেখানো হয়, আর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে—আইনকে ব্যবহার করে বাংলার স্বায়ত্তশাসন ভাঙার চেষ্টা চলছে।
এইভাবে জবাবদিহিকে সংঘাতে বদলে দেওয়াই তাঁর টিকে থাকার অন্যতম কার্যকর কৌশল হয়ে ওঠে। প্রতিটি অভিযোগ বৃহত্তর “ঘেরাও”–এর গল্পের অংশ হয়ে যায়। প্রতিটি গ্রেপ্তারকে ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং সামষ্টিক শাস্তি হিসেবে দেখানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তিনি খুব কম ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের নির্দিষ্টভাবে রক্ষা করেন। তিনি রক্ষা করেন আন্দোলনকে, দলকে, রাজ্যকে। দুর্নীতিকে ব্যক্তিগত না করে তিনি নৈতিক দায় নিজের ওপর পড়তে দেন না। ফলে নেত্রী থাকেন “উর্ধ্বে”, আর দুর্নীতি নেমে যায় নিচের স্তরে।
এই আলাদা অবস্থান আরও জোরদার হয় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনযাপনের মাধ্যমে। দলের বিরুদ্ধে বিপুল অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তাঁর নিজের জীবন অত্যন্ত সাধারণ। ছোট বাড়ি, জাঁকজমক এড়িয়ে চলা, সাদামাটা উপস্থিতি—এই দৃশ্যমান সরলতা তাঁর জন্য এক ধরনের নৈতিক ঢাল হয়ে ওঠে।
অসম সমাজে প্রতীকী সরলতা অনেক সময় স্বচ্ছ প্রশাসনের থেকেও বেশি কাজ করে। তাঁর সমর্থকেরা স্বীকার করেন যে দুর্নীতি আছে, কিন্তু বিশ্বাস করেন—এর পেছনে তাঁর ইচ্ছা বা চরিত্র নেই। ব্যবস্থার পচন আর ব্যক্তিগত সততার মধ্যে পার্থক্যটি সচেতনভাবে টিকিয়ে রাখা হয়।
এই সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের বিরোধ সামলানোর পদ্ধতিও তাঁর নেতৃত্বশৈলীকে স্পষ্ট করে। ২০২১-এর পর দলছুট বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বন্ধ হয়নি, কিন্তু সেগুলো দ্রুত ও নিঃশব্দে সামলানো হয়। বড় নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হয় প্রকাশ্য নাটক ছাড়াই। নতুন মুখদের কখনো এগিয়ে আনা হয়, কখনো আড়ালে রাখা হয়।
তিনি দল চালান আদর্শ দিয়ে নয়, অনিশ্চয়তা দিয়ে। আনুগত্য পুরস্কৃত হয়, কিন্তু স্থায়িত্বের নিশ্চয়তা নেই। এতে দল নির্ভরশীল থাকে, স্বতন্ত্র হয়ে উঠতে পারে না।
একই সঙ্গে বিজেপি-শাসিত কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত আরও কাঠামোগত হয়। GST বকেয়া, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর ত্রাণ, কেন্দ্রীয় সংস্থার ক্ষমতা—এই সবই নিয়মিত সংঘাতের বিষয় হয়ে ওঠে। প্রতিটি বিরোধ প্রকাশ্যে নাটকীয়ভাবে তুলে ধরা হয়। চিঠি পড়ে শোনানো হয়, বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসা হয়, সাংবাদিক সম্মেলন হয়ে ওঠে প্রতিবাদের মঞ্চ।
মমতা ভালো করেই বোঝেন—মিডিয়া-নির্ভর রাজনীতিতে সমস্যা মেটানোর চেয়ে সংঘাত দৃশ্যমান করা অনেক বেশি কার্যকর। ফলাফল অস্পষ্ট থাকলেও প্রতিবাদের ছবি সমর্থন জোরদার করে।
২০২২ সালের পর জাতীয় বিরোধী রাজনীতিতেও তিনি একই কৌশল নেন। তিনি বিরোধীদের ওপর আদর্শ চাপাননি। বরং নিজেকে কৌশলনির্ধারক নয়, আবেগের সংযোজক হিসেবে তুলে ধরেন। কলকাতায় বৈঠক, প্রতীকী সফর, মেপে বলা বক্তব্য—সব মিলিয়ে তিনি প্রাসঙ্গিক থাকেন, কিন্তু দায়িত্ব নেন না।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার ৪২টি আসনের মধ্যে ২৯টি জিতে এই কৌশল সফল হয়। বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকলেও বাংলায় তাদের অগ্রগতি থেমে যায়। মমতা জাতীয় বিকল্প হননি, কিন্তু তিনি হয়ে ওঠেন এক ধরনের আঞ্চলিক ভেটো শক্তি—যিনি বিস্তার আটকাতে পারেন, গল্প ভাঙতে পারেন, সংসদের অঙ্ক বদলাতে পারেন।
তবে এই স্থিতিশীলতার নিচে ক্লান্তির লক্ষণ স্পষ্ট। শহুরে পরিকাঠামোর চাপ, শিল্পের স্থবিরতা, শিক্ষিত বেকারত্ব—সবই অমীমাংসিত। রাজ্যের ঋণ বাড়ছে। বিনিয়োগের গল্পে পরিকল্পনার চেয়ে ইচ্ছাই বেশি।
এই সমস্যাগুলোর জবাবে তিনি ব্যর্থতা অস্বীকার করেন না, বরং অন্যত্র সরিয়ে দেন—পুরনো অবহেলা, কেন্দ্রের বাধা, বাইরের শত্রু। সাফল্য হলে তা ব্যক্তিগতভাবে তুলে ধরা হয়। ভারসাম্য থাকে, কিন্তু তা ক্রমশ গল্পনির্ভর।
এই ক্লান্তির মধ্যেও যে আবেগ তাঁকে টিকিয়ে রাখে, তা হলো ভয়—সংস্কৃতি হারানোর ভয়, রাজনৈতিক অস্তিত্ব মুছে যাওয়ার ভয়, এমন এক কেন্দ্রের ভয় যা রাজ্যের ভাষা বোঝে না। মমতা নিজেকে এই ভয়ের বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে তুলে ধরেন।
এই কাঠামোতে তাঁর শাসনের ত্রুটি সহনীয় হয়ে ওঠে, কারণ বিকল্পকে দেখানো হয় আরও ভয়াবহ হিসেবে। এখানেই “কাল্টিক” আনুগত্যের যুক্তি—এটি লেনদেন নয়, আত্মরক্ষা।
অনেকে তাঁকে সাধারণ জনতাবাদী ভেবে ভুল করেন। তিনি তা নন। জনতাবাদ যেখানে এলিটদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জাগায়, মমতা সেখানে স্থানচ্যুতির বিরুদ্ধে টান তৈরি করেন। তিনি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন না; দেন পরিচিত ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা।
২০২৫ সালে এসে তিনি এক বৈপরীত্যপূর্ণ শিখরে দাঁড়িয়ে—ভোটে অপ্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভঙ্গুর; নৈতিকভাবে বিতর্কিত, কিন্তু আবেগে নিরাপদ; জাতীয়ভাবে দৃশ্যমান, কিন্তু কৌশলে সীমাবদ্ধ।
তাঁর রাজনৈতিক ব্যবস্থা চলে কারণ তিনি সর্বত্র উপস্থিত। এখানেই উঠে আসে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত প্রশ্ন—উত্তরাধিকার। তৃণমূল কংগ্রেসে তাঁর মতো স্বতন্ত্র বৈধতা সম্পন্ন দ্বিতীয় সারির নেতৃত্ব নেই। ক্ষমতা এতদিন কেন্দ্রীভূত যে সহজে বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব নয়।
ইতিহাস বলে, ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা সংকটে নয়, পরিবর্তনের সময়ে আসে। সংকট সামলাতে মমতা পারদর্শী। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিতেও এই ব্যবস্থা টিকবে কি না—সেই প্রশ্ন এখনও খোলা।
সময় সেই প্রশ্ন না তোলা পর্যন্ত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই থাকবেন—শুধু একজন মুখ্যমন্ত্রী নয়, বরং সেই অক্ষ, যার চারপাশে সমকালীন বাংলা রাজনীতি ঘোরে।
পর্ব তিন
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের এই দীর্ঘ পর্যায়ে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন প্রশাসনিক বা নির্বাচনী নয়, বরং স্মৃতি ও ইতিহাস নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। ক্ষমতা শুধু বর্তমান শাসন করতে চায় না; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে অতীতকেও নিজের মতো করে সাজাতে চায়।
২০২১ সালের পর থেকে মমতার রাজনৈতিক ভাষায় বারবার ফিরে আসে লড়াই, আঘাত, বিশ্বাসঘাতকতা ও টিকে থাকার স্মৃতি—ভাবনার জন্য নয়, বরং অস্ত্র হিসেবে।
ঘটনাগুলো আর সময়ের ধারায় বলা হয় না; বলা হয় আবেগের ধারায়। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম এখন ইতিহাসের অধ্যায় নয়, বরং স্থায়ী নৈতিক চিহ্ন। কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিটি সংঘাতকেই এই “প্রতিরোধের ইতিহাস”-এর অংশ করে দেখানো হয়। এতে সময় যেন গুলিয়ে যায়—২০০৬ সালের আন্দোলনকারী আর ২০২৫ সালের মুখ্যমন্ত্রী একই গল্পের শরীরে একসঙ্গে বাস করেন।
এই স্মৃতি-রাজনীতি আরও শক্ত হয় নানা আচার ও পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে। প্রতি বছর বিশেষ দিন পালন, ১৯৯৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বরের আঘাতের গল্প বারবার বলা, ২০২১ সালের ১০ মার্চের পর হুইলচেয়ার থেকে প্রচারের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা—সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত জীবন হয়ে ওঠে সমষ্টিগত উত্তরাধিকার। ভোটারদের কাছে শাসনের হিসাব চাওয়া হয় না; চাওয়া হয় বিশ্বাস ও আনুগত্য মনে রাখা। এর ফলে রাজনৈতিক জবাবদিহির জায়গা দখল করে নেয় আবেগী ধারাবাহিকতা। সমালোচনা আর মতভেদ থাকে না; তা হয়ে ওঠে প্রায় অবমাননা।
এই নির্মাণে তাঁর লিঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ—এবং প্রায়ই ভুল বোঝা—ভূমিকা পালন করেছে। শুরু থেকেই তিনি বাংলার পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক ছাঁচ ভেঙেছেন। তিনি না অতিরিক্ত কোমল নারীসত্তা গ্রহণ করেছেন, না পুরুষতান্ত্রিক কর্তৃত্ব নকল করেছেন। বরং তিনি গড়ে তুলেছেন এক ধরনের মাতৃত্বপূর্ণ কর্তৃত্ব, যা না স্নেহময়, না নিষ্ক্রিয়।
“দিদি” নামটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৈরি হয়নি; এটি ধীরে ধীরে গড়ে তোলা হয়েছে। এই শব্দটি ক্ষমতার দূরত্ব কমিয়ে আত্মীয়তার অনুভূতি তৈরি করে। এখানে শাসন আছে, কিন্তু ভয় নেই; কর্তৃত্ব আছে, কিন্তু দূরত্ব নেই। সময়ের সঙ্গে এই পারিবারিক ফ্রেমটি ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগকে শাসকের বিরুদ্ধে নয়, বরং এক অভিভাবক চরিত্রের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখানো হয়।
এই লিঙ্গভিত্তিক প্রতীকই দুর্নীতির গল্পকে আরও জটিল করে তোলে। একই ধরনের অভিযোগে পুরুষ নেতারা যেখানে শোষক হিসেবে চিহ্নিত হন, মমতাকে তাঁর সমর্থকেরা সাধারণত সেইভাবে দেখেন না।
২০২২ সালের পর নিয়োগ কেলেঙ্কারি, পুরসভার অনিয়ম বা দলঘনিষ্ঠ দালালদের অভিযোগ—সবকিছুকেই ব্যাখ্যা করা হয় এইভাবে যে, তিনি নিজে কঠোর, কিন্তু চারপাশে ত্রুটিপূর্ণ লোকজন রয়েছে। এই আলাদা করে দেখার প্রবণতা প্রমাণ বাড়লেও বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখে।
কিন্তু এই অতিরিক্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার প্রাতিষ্ঠানিক মূল্য খুব বড়। ২০২৩ সালের মধ্যে শিক্ষা বোর্ড, পুরসভা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা—বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান কার্যত স্বায়ত্তশাসন হারায়। সিদ্ধান্ত ক্রমশ অনানুষ্ঠানিক পথে নিতে হয়। আমলারা নিয়ম মানার বদলে “নেত্রীর ইচ্ছা” আন্দাজ করতে শেখেন।
এর ফলে প্রশাসন থেমে যায়নি; বরং নমনীয় হয়ে পড়েছে—কিন্তু ভয়ে ভয়ে। এমন ব্যবস্থায় দক্ষতার চেয়ে সামঞ্জস্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই সময়ে বিচারব্যবস্থার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কেও টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়। ২০২২ সালের পর নিয়োগ মামলায় আদালতের হস্তক্ষেপ সরকারকে কঠোর নজরদারিতে ফেলে। মমতা রায়ের বিরুদ্ধে শুধু আইনি যুক্তি দেননি; তিনি সেগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আদালতের সিদ্ধান্তকে সামাজিক বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন বলে দেখানো হয়েছে। এই বক্তব্য এমন এক সমাজে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়, যেখানে বহু আগে থেকেই প্রতিষ্ঠানকে নিরপেক্ষ নয়, ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়।
প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলেও তাঁর ভোটের অঙ্ক অটুট থাকে। কারণ তাঁর রাজনীতি এখন প্রতিষ্ঠান-পূর্ব স্তরে কাজ করে। মানুষ শাসনের মান পরিসংখ্যানে মাপে না; তারা দেখে পরিচয় ও আবেগের মিল। ভাষা, উৎসব, ভাতা, প্রতীকী প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে একটি আবেগী পরিবেশ তৈরি হয়।
মমতা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন না; তিনি দেন সংরক্ষণের আশ্বাস। যখন সাংস্কৃতিক হুমকির অনুভূতি প্রবল হয়, তখন সংস্কার নয়—পরিচিত ধারাবাহিকতাই বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় স্তরে বিরোধীরা যখন দিশাহীন, তখন তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইঙ্গিত না দেওয়াটাই কৌশলগত সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায়। এতে তিনি জাতীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে আসা কঠোর পরীক্ষার বাইরে থাকেন, কিন্তু প্রতিরোধের মুখ হিসেবে মর্যাদা বজায় রাখেন। বাংলায় জয়ই তাঁর কাছে যথেষ্ট।
এই মুহূর্তে তাঁর রাজনীতির মূল সমস্যা পরাজয়ের আশঙ্কা নয়, বরং সময়ের চাপ। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে নেতৃত্বের মনস্তত্ত্ব বদলে যায়। হঠাৎ সিদ্ধান্তের জায়গা দখল করে নিয়ন্ত্রণ। ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমে। দক্ষতার চেয়ে আনুগত্য বেশি মূল্যবান হয়ে ওঠে।
মমতার প্রথম দিকের রাজনীতি ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা; তাঁর বর্তমান ক্ষমতা টিকে আছে নিয়ন্ত্রণের ওপর। এই পরিবর্তন সূক্ষ্ম, কিন্তু গভীর প্রভাব ফেলে।
২০২৫ সালে এসে বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতিটি স্তরে—দলীয় গঠন, আবেগ, প্রতীকে—মমতার ছাপ স্পষ্ট। খুব কম নেতা পারেন নিজেদের এতটা অপরিহার্য করে তুলতে। কিন্তু এই সাফল্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে দুর্বলতা। এক ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর দাঁড়ানো ব্যবস্থা নতুন করে তৈরি হতে পারে না সহজে।
যোগ্য উত্তরসূরির অনুপস্থিতি কাকতালীয় নয়; এটি কাঠামোগত। ক্ষমতা এতটাই কেন্দ্রীভূত হয়েছে যে স্বাভাবিকভাবে তা ছড়িয়ে পড়ে না।
সম্ভবত ইতিহাস তাঁকে আদর্শবাদী বা সংস্কারকের চেয়ে টিকে থাকার রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবেই দেখবে। তাঁর কৃতিত্ব শুধু সরকার বদলানো বা প্রতিপক্ষ হারানো নয়; তিনি আধুনিক ভারতের এক রাজ্যে বৈধতার ধারণাই নতুন করে সাজিয়েছেন।
তিনি আদর্শের জায়গায় আবেগ, প্রতিষ্ঠানের জায়গায় ঘনিষ্ঠতা, আর শাসনের জায়গায় ধারাবাহিক গল্প বসিয়েছেন।
এই মডেল গণতন্ত্রের বিকাশ নাকি ক্লান্তি—তা নিয়ে বিতর্ক চলবে। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত—১৯৮৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নিজের স্থায়িত্বের চারপাশে বাঁকিয়ে নিয়েছেন।
তিনি শুধু ব্যবস্থার ভেতরে উঠে আসেননি; তিনি ব্যবস্থার আবেগী যুক্তিই বদলে দিয়েছেন, যাতে তাঁর টিকে থাকাই হয়ে ওঠে স্বাভাবিক।
— তন্ময় ভট্টাচার্য
10th January 2026
Read More
হিন্দি ভারতের ‘ডিফ্যাক্টো’ জাতীয় ভাষা: সেনাবাহিনীর কমান্ডিং ভাষা
শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক জাতিসংঘ ভাষণ (১৯৭৪)
