বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের বিশ্বকোষ (Encyclopedia of Bengali Language and Literature)
তন্ময় ভট্টাচার্য (অ্যাডভোকেট)
সহজিয়া মত বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে এক জটিল, বহুস্তর বিশিষ্ট ও বিতর্কিত তাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক প্রবাহের নাম। এ মতের কেন্দ্রে আছে দেহ, প্রেম ও সাধনার এক অপার রহস্যচর্চা। সহজিয়া বিশ্বাস করে, মানবদেহ ক্ষুদ্র ব্রহ্মাণ্ডস্বরূপ, আর সেই দেহই ঈশ্বরসাধনার সর্বোচ্চ উপায়। দৈহিক সাধনার মাধ্যমে—বিশেষত পরকীয়া প্রেমের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই—সিদ্ধিলাভ সম্ভব, এমনটাই এই মতের মূলসূত্র। সহজ সাধনাকে সহজিয়া নামে পরিচিত এই ধারাটি মূলত জন্মলাভ করে বৌদ্ধ বামাচার থেকে, বিশেষত বজ্রযানী বৌদ্ধদের মধ্যে। ১০শ শতকে কানু ভট্ট নামক এক বৌদ্ধ বাংলা ভাষায় প্রেমসাধনার গীতির মাধ্যমে এই মতের সূত্রপাত করেন। তাঁর চর্যা-চর্য্য-বিনিশ্চয় ও বোধিচর্য্যাবতার নামক গ্রন্থগুলি এই মতের প্রাচীন রূপের বয়ান দেয়। এদের ভাষায় অশ্লীলতার সূক্ষ্ম আবেদন আছে। জয়দেবের গীতগোবিন্দ একটি সহজিয়া সাহিত্য, এর মধ্যে কোনো অধ্যাত্ম নেই, পদ্মাবতীর সাথে তার নিজের শারীরিক প্রেমের সংস্কৃত রূপ হলো গীতগোবিন্দ । চণ্ডীদাস এই ধারার নবজাগরণ ঘটান চতুর্দশ শতকে, যিনি রামী নামের এক রজকিনীর প্রেমে পড়ে, সহজিয়া মতের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা দেন—এই প্রেম কোনও ভোগকেন্দ্রিক নয়, বরং একান্ত পরিশুদ্ধ, আত্মসাধনার পথ।
“নায়িকা সাধন,শুনহ লক্ষণ,
যেরূপে করিতে হয়।
শুষ্ক কাষ্ঠের সম,আপনার দেহ
করিতে হয়॥
ব্রহ্মাণ্ড ব্যাপিয়া,আছয়ে যে জন
কেহ না দেখয়ে তারে।
প্রেমের পীরিতি,যে জন জানয়ে,
সেই সে পাইতে পারে॥”
চণ্ডীদাসের গানগুলি কখনও ধাঁধার মতো, কখনও স্বচ্ছ, কিন্তু সর্বত্রই আছে এক প্রেমদর্শনের আধ্যাত্মিক অভিঘাত। “সহজিয়া বলে সবাই—কিন্তু ক’জন জানে তার মানে?”—এই প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি বুঝিয়ে দেন যে, সহজিয়া তত্ত্ব এক অন্তর্গত উপলব্ধির জিনিস, যার সাধক হতে হলে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও গভীর ত্যাগের প্রয়োজন। এই প্রেম সাধিকা নারীকে হতে হয় চিরব্রতচারিণী, বাহ্যজগতে প্রেমিককে অস্বীকার করে নিজ হৃদয়ে তার পূজারিণী। এই সাধনা খেলায় খেলে আগুনে ঝাঁপ দেওয়া, সাপের মুখে ব্যাঙের নৃত্য করানো একই ব্যাপার—এই রকম কঠিন আত্ম-শাসনের মধ্য দিয়েই মোক্ষ লাভ সম্ভব, বলেছিলেন চণ্ডীদাস।
“সাপের মুখেতে ভেকেরে নাচাবি
তবেত রসিক-রাজ।
“যে জন চতুর, সুমেরু শেখর
সুতায় গাঁথিতে পারে।
“মাকড়সার জালে, মাতঙ্গ বাঁধিলে
এ রস মিলয়ে তারে॥”
শুন রজকিনী রামি, ও দুটি চরণ, শীতল বলিয়া,
শরণ লইলাম আমি।
রজকিনী রূপ, কিশোরী স্বরূপ, কাম গন্ধ নাহি তায়।
না দেখিলে মন, করে উচাটন, দেখিলে পরাণ জুড়ায়॥
তুমি রজকিনী আমার রমণী, তুমি হও মাতৃ পিতৃ।
ত্রিসন্ধ্যা যাজন, তোমার ভজন, তুমি বেদমাতা গায়ত্রী॥
তুমি বাগ্বাদিনী, হরের রমণী, তুমি সে গলার হারা।
তুমি স্বর্গ মর্ত্ত্য, পাতাল, পর্ব্বত, তুমি সে নয়ানের তারা॥
তোমা বিনে মোর সকলই আঁধার, দেখিলে জুড়ায় আঁখি।
যে দিন না দেখি ও চাঁদবদন মরমে মরিয়া থাকি॥
ও রূপ মাধুরি পাশরিতে নারি, কি দিয়ে করিব বশ।
তুমি সে মন্ত্র, তুমি সে তন্ত্র, তুমি উপাসনা বস॥
রজকিনী রূপ, কিশোরী স্বরূপ কাম গন্ধ নাহি তায়।
রজকিনী প্রেম, নিকষিত হেম বঢ়ু চণ্ডীদাস গায়॥
সহজিয়ার সাধনপথ দুই প্রকার: এক, মনোমার্গে বৈদেহী ভাবসাধনা; দুই, দেহমার্গে মিলনের মাধ্যমে স্বরূপানন্দের উপলব্ধি। এখানে নারী হলেন রাধা, পুরুষ কৃষ্ণ—এই মিলনে মহাভাবের, সহজানন্দের প্রকাশ। কিন্তু এই দেহসাধনা বা পরকীয়া প্রেমমূলক উপাসনার জন্য সহজিয়ারা গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের কাছে সন্দেহভাজন ও নিন্দার পাত্র হন। চৈতন্য মহাপ্রভু কখনও তাঁর শিষ্যদের নারীসঙ্গের অনুমতি দেননি। চৈতন্য সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন এবং তার অনুগামীরা গৃহস্থ আশ্রম অঙ্গীকার করেছিলেন, নিজ স্ত্রী ভিন্ন অন্য নারীতে গমন করেন নি। রূপ ও সনাতন গোস্বামীও সহজিয়া মতের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। তবু সাধারণ মানুষের মধ্যে সহজিয়া মত বিস্তার লাভ করে। আঠারো শতকের বাউল সম্প্রদায়ের মধ্যেও এই তত্ত্বের সম্প্রসারণ ঘটে। নিত্যানন্দ পুত্র বীরচন্দ্র সহজিয়া নেড়া-নেড়ীদের বৈষ্ণব সমাজের অন্তর্ভুক্ত করলে বৈষ্ণব সহজিয়া মত গড়ে ওঠে। গৌড়িয়া বৈষ্ণবগন এর ঘোর নিন্দা করেছিলেন ।
মাগুর মাছের ঝোল
ভরা যুবতীর কোল
বোল হরিবোল…
সহজিয়া সাহিত্যে রচিত হয় এক বিশাল সাহিত্যসম্ভার। এই সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য দেহসাধনার প্রতীকি ব্যঞ্জনা, রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার ব্যাখ্যা, ও গূঢ় তত্ত্বকে সহজ ভাষায় উপস্থাপন। বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এ মতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
সহজ সহজ, সবাই কহয়
সহজ জানিবে কে।
তিমির অন্ধকার যে হৈয়াছে পার
সহজ জেনেছে সে॥ (চণ্ডীদাস)
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সহজিয়া রচনার মধ্যে আছে বিবর্তবিলাস (অকিঞ্চন দাস), আনন্দভৈরব, অমৃতরসাবলী, প্রেমবিলাস, রাধারসকারিকা, দেহকড়চা, সহজোপাসনা-তত্ত্ব, সিদ্ধান্তচন্দ্রোদয়, রতিবিলাসপদ্ধতি, রাগময়ীকণা, রত্নসার প্রভৃতি।
সহজিয়া সাধনার মূল তীর্থ ক্ষেত্র হয়ে ওঠে কেঁদুলি—জয়দেবের মেলা, যেখানে প্রতি পৌষ সংক্রান্তিতে হাজার হাজার বাউল সহজিয়া জমায়েত হন। চণ্ডীদাস-রামীর কাহিনি, রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার শরীর-প্রধান ব্যাখ্যা, সহজ দর্শনের প্রেমসংক্রান্ত উচ্চারণ, বাউল-মরমিয়া-তান্ত্রিক চিন্তার সম্মিলনে সহজিয়া মত এক বিস্ময়কর ধর্ম-সাহিত্য-সমাজ-সংস্কৃতি সংক্রান্ত ধারা হয়ে ওঠে বাংলায়।
তবে এও সত্য, বহু সাধক এই পথে শরীরজ ‘সাধনাকে’ ভোগে পর্যবসিত করে, যার ফলে সাহিত্যে ও সমাজে সহজিয়া মত একাধিকবার বিতর্কিত হয়েছে। গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের শ্রেষ্ঠ আচার্যগণ—বিশেষত ভক্তি সিদ্ধান্ত সারস্বতী ও তাঁর অনুগামীগণ—সহজিয়া, বাউল, দরবেশ প্রভৃতি সম্প্রদায়কে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁদের মতে, এই সকল সম্প্রদায় চৈতন্য মহাপ্রভুর নাম ব্যবহার করে অনাচারমূলক যৌনাচারকে ধর্মীয় মোড়কে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে, যা গুরুতর অপব্যবহার।
বৈদিক আশ্রমব্যবস্থা—ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বনপ্রস্থ ও সন্ন্যাস—এই চার স্তরই মানবজীবনের ধর্মীয় কাঠামো হিসেবে গ্রহণযোগ্য ছিল। গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মে চৈতন্যদেবের রাধা কেবল প্রেমভক্তির (মহাভাব ) প্রতীক, এর বাইরে কোনো শরীরজ বা যৌনার্থমূলক ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। মহাভারতের কৃষ্ণ কখনও রাধার নাম করেননি বা কোনো পরকীয়া প্রেমের প্রকাশ ঘটাননি। তাঁর পত্নীরা ছিলেন—রুক্মিণী, সত্যভামা, কলিন্দী প্রভৃতি আটজন। মগধরাজ জরাসন্ধকে পরাস্ত করে তিনি যে বহু নারীকে উদ্ধার করেন, তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন বার্ধক্যপ্রাপ্ত, যাঁদের কেউ বিয়ে করতে রাজি হতেন না। কৃষ্ণ তাঁদের আশ্রয় ও সুরক্ষা দেন, বিবাহসূত্রে সমাজে স্থান দেন, কিন্তু কখনো ভোগ করেননি।
সহজিয়া মতের মূল উৎস বিকৃত বৌদ্ধধর্ম (৭০০ খ্রিস্টাব্দ)। বিকারগ্রস্ত বৌদ্ধ এবং তন্ত্রসাধকগণ ‘সহজযান’ ধারণার প্রচার করত, যা মূলত একান্তভাবে গুপ্ত এবং দুর্বোধ্য যোগতত্ত্ব ও কামতত্ত্বের সঙ্গে জড়িত ছিল। অতীশ দীপঙ্কর প্রভৃতি বিকারগ্রস্ত বৌদ্ধদের সময়েই এর চরম বিস্তার ঘটে। এই ধারার অন্তর্গত ছিল গুহ্য সমাজতন্ত্র, চক্র সংবর্ত, যোগিনী তন্ত্র, ইত্যাদি গূঢ় সাধনাবিধি, যেখানে চক্র, এবং নারী-পুরুষের যৌন সংবেদন-সাধনাকে লক্ষ্য করা যায়।
এই সমস্ত গোপন সম্প্রদায়গুলির অনেকগুলি বামাচার বা রতির মাধ্যমে মুক্তির চিন্তায় বিশ্বাসী ছিল। বিকৃত এই মত একপর্যায়ে নাস্তিক্য, নৈর্ব্যক্তিক ভোগবাদ, এবং সামাজিক শৃঙ্খলাভঙ্গের রূপ নেয়। সমাজচ্যুত বা রাজচ্যুত গুহ্য সমাজ ও সহজিয়া সম্প্রদায়গুলি তাদের নিজস্ব তন্ত্রসাধনার গোপনতা রক্ষা করেও ইতিহাসের অন্তরালে বিলীন হয়ে যায়।
বঙ্গদেশে চৈতন্যদেবের নামকে ব্যবহার করে কিছু বিকৃত সহজিয়া ও বাউল সম্প্রদায় এই বৌদ্ধ-তান্ত্রিক আদর্শকে নতুন রূপ দিতে চেষ্টা করে। কিন্তু শ্রীধরস্বামী, সনাতন গোস্বামী, বলদেব বিদ্যাভূষণ প্রমুখ বৈষ্ণবাচার্যগণ এই পথকে শাস্ত্রবিরুদ্ধ ও অধার্মিক বলে প্রত্যাখ্যান করেন। সহজিয়া মত একটি বিকারগ্রস্ত ও অপসংস্কৃতির ধারা, যার উৎস ঐতিহাসিকভাবে বিকৃত বৌদ্ধ ও তান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিহিত, বৈষ্ণব শুদ্ধভক্তির সঙ্গে অসঙ্গত এবং সমাজ ও ধর্ম উভয়ের জন্যই অবক্ষয়মূলক।
“যোনি সিদ্ধি, সহজ বিদ্যা শুন্য পুরান কয়
দশ মহাবিদ্যা, তারা উপাসনা যোনি ভিন্ন নয়”
দশমহাবিদ্যার (যেমন কালী, তারা, ত্রিপুরাসুন্দরী, ভগবতী ইত্যাদি) উপাসনা প্রকৃতপক্ষে যোনি-তত্ত্ব কেন্দ্রীক।
সহজিয়া মতবাদ গ্রন্থপঞ্জি
কৃষ্ণদাসের নামে প্রচলিত গ্রন্থাবলি (১–৯):
১. স্বরূপবর্ণন
২. বৃন্দাবন ধ্যান
৩. গুরু-শিষ্য সংবাদ
৪. রূপমঞ্জরী
৫. প্রার্থনা
৬. রসভক্তি লহরী
৭. রাগরত্নাবলী
৮. সিদ্ধিনাম
৯. আত্মসাধন
এই গ্রন্থগুলি সহজিয়া সাধনপথের দার্শনিক ও তাত্ত্বিক কাঠামো নির্মাণে মূখ্য। ‘গুরু-শিষ্য সংবাদ’ ও ‘আত্মসাধন’-এ মধ্যযুগীয় বাংলা গদ্যের প্রাথমিক রূপ লক্ষণীয়।
নরোত্তম দাসকৃত বা নরোত্তম দাসের নামে প্রচলিত গ্রন্থাবলি (১০–১৯):
১০. অমৃতরসচন্দ্রিকা
১১. প্রেমভাবচন্দ্রিকা
১২. সারাতসার কারিকা
১৩. ভক্তিলতিকা
১৪. সাধ্য প্রেমচন্দ্রিকা
১৫. রাগমালা
১৬. স্বরূপकल्प লতিকা
১৭. প্রেমবিলাস
১৮. তত্ত্ব নিরূপণ
১৯. রসভক্তি চন্দ্রিকা
এগুলি মূলত রসতত্ত্ব, ভক্তিতত্ত্ব ও দেহতত্ত্ব ভিত্তিক সাধনপদ্ধতির ব্যাখ্যা প্রদান করে। ‘রাগমালা’ প্রাচীন সংগীত ও রসের সংযোগে সহজিয়া মতের গীতিমালার প্রতিরূপ।
প্রেমদাসকৃত (২০–২১):
২০. উপাসনা পটল
২১. আনন্দভৈরব
উভয় গ্রন্থেই দেহসাধনা ও রাধাকৃষ্ণভাবের একত্রীকরণ লক্ষ্যণীয়।
মথুরাদাস প্রণীত:
২২. আনন্দলহরী
— সহজভাব বা সহজানন্দের প্রতীক এই রচনায় প্রেম, রাধারস ও শৃঙ্গারতত্ত্ব মিলে এক মিষ্ট কাব্যিক অভিব্যক্তি গঠিত হয়েছে।
মন্মথরদাস প্রণীত:
২৩. দীনমণি চন্দ্রোদয়
— একাধিক সহজিয়া মতালম্বী সম্প্রদায়ে প্রসিদ্ধ কাব্যরূপে রচিত এই গ্রন্থে রাধাকৃষ্ণ তত্ত্ব ও মন্ত্রসাধনার সংমিশ্রণ আছে।
মুকুন্দদাস প্রণীত (২৪–২৯):
২৪. সিদ্ধান্ত চন্দ্রোদয়
২৫. অমৃতরসবল্লী
২৬. বৈষ্ণবঅমৃত
২৭. সারাতসার কারিকা
২৮. সাধন উপায়
২৯. রাগরত্নাবলী
বিশেষ করে ‘সারাতসার কারিকা’ ও ‘সাধন উপায়’ সহজিয়া মতের দার্শনিক গূঢ়তা প্রকাশ করে। ‘রাগরত্নাবলী’ পরবর্তীকালে সংগীত-ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
যদুনাথ দাস প্রণীত:
৩০. তত্ত্ব কথা
— সহজিয়া দেহতত্ত্বের মূল ব্যাখ্যা সংবলিত একটি আলোচিত রচনা।
জগৎকৃষ্ণ দাস প্রণীত:
৩১. যোগাগম
— দেহ ও চেতনার সমন্বয়ে সহজযোগের দর্শন।
রসময় দাস প্রণীত:
৩২. ভণ্ডতত্ত্ব সার
— এক ব্যঙ্গাত্মক ও আত্মানুসন্ধানমূলক সহজিয়া রচনা।
রসিক দাস প্রণীত:
৩৩. রতিবিলাস
— দেহযোগ ও রতিসাধনার উপর কাব্যগদ্যরূপে রচিত।
রাধাবল্লভ দাস প্রণীত:
৩৪. সহজতত্ত্ব
— সহজপথের তাত্ত্বিক বর্ণনা, দেহযোগ-ভিত্তিক তত্ত্বপুঞ্জ।
বংশীদাস প্রণীত (৩৬):
৩৬. দীপকউজ্বল
৩৬. নিকুঞ্জ রহস্য
— রাধাকৃষ্ণের নিকুঞ্জলীলার গূঢ় তত্ত্বাবলম্বনে রচিত। সহজিয়া সাহিত্যে অনন্য।
সনাতন গোস্বামীর নামে প্রচলিত ও কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য দাবিকর্তা এক লেখকের রচনা (৩৮):
৩৮. সিদ্ধরতি কারিকা
৩৮. বিবর্ত্তবিলাস
— সাধনার ভেতর দিয়ে রতির সাধনায় সিদ্ধি ও রসানন্দের বর্ণনা।
