হাওড়া আদালতের টয়লেট-ট্র্যাজেডি, প্রতিশ্রুতি, ও সমাধান !
শুভ বিজয়া ২০২৬-এর পুণ্যলগ্নে জনৈক ভদ্রমহিলা অ্যাডভোকেট আমাকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানালেন। বাঙালির চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী মিষ্টির বাক্স, কোলাকুলি কিংবা অন্তত একটি রসগোল্লার ছবি আসবে বলে মনে মনে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু না! আধুনিক নারীশক্তি আমাকে সরাসরি একটি শৌচাগারের ভিডিও পাঠিয়ে দিলেন। বুঝলাম, বিজয়া ২০২৬-এ শুভেচ্ছা বিনিময়ের রীতিতে এক ঐতিহাসিক বিবর্তন ঘটেছে। আগে মানুষ বলত, ‘শুভ বিজয়া, ভালো থাকবেন।’ এখন বলা হচ্ছে, ‘শুভ বিজয়া, এই নিন কমোড দর্শন করুন!’
মহিলাদের টয়লেট নিয়ে কী-ই বা বলব, সে এক আত্মকথা! বলার চেয়ে না বলেই যেন বেশি বলা হয়ে যায়। সেই মহিলা-টয়লেট টপকে পুরুষদের টয়লেটে যেতে হয়। পুরুষদের টয়লেটটি বেশ প্রশস্ত। আর ওই মহিলা-টয়লেট টপকানোর সময় কী দেখলাম, তা নিয়ে দাঁড়িয়ে চিন্তা করার অবসরটুকু পাওয়া যায়।
হাওড়া কোর্টের শৌচাগার সমস্যা কোনও সাধারণ সমস্যা নয়। এটি একটি সভ্যতার সংকট, প্রশাসনিক দর্শনের ব্যর্থতা এবং মানবাধিকারের কমোডকেন্দ্রিক পূর্ণ ব্যাখ্যা। এই সমস্যা নিয়ে আন্দোলন হয়েছে, মিটিং হয়েছে, টেবিলে ফাইলের জন্ম হয়েছে, ফাইলের মৃত্যু হয়েছে, আবার সেই মৃত ফাইলের পুনর্জন্মও ঘটেছে। শুধু শৌচাগারের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি।
সমাধান এতবার দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে যে, দোরগোড়াটিরও বোধহয় এখন হাঁপানি হয়েছে। কিন্তু সমাধান প্রতিবারই এমনভাবে উধাও হয়েছে, যেন কোনও সাক্ষী আদালতে এসে বিচারকের প্রশ্ন শুনে হঠাৎ স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত হয়েছেন।
বিশেষত মহিলা আইনজীবীদের শৌচাগারটি এক অনন্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। সেখানে প্রবেশের সাহস, অবস্থান করার ধৈর্য এবং নিরাপদে বেরিয়ে আসার সৌভাগ্য—এই তিনটি গুণ অর্জন না করলে একজন আইনজীবীর পেশাগত জীবন পূর্ণতা পায় কি না, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিত।
পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, মহিলা শৌচাগারের দুর্দশা অতিক্রম করে, পুরুষদের, শৌচাগারের দিকে যাত্রা করাই যেন এক ধরনের নাগরিক অভিযাত্রা। পুরুষদের শৌচাগার আবার বেশ খোলামেলা, প্রশস্ত এবং উদার হৃদয়ের অধিকারী। সেখানে জায়গার অভাব নেই; অভাব কেবল আধুনিক সভ্যতার সঙ্গে ব্যবহারকারীর পরিচয়ের।
মহিলা শৌচাগারের সামনে দাঁড়িয়ে গভীর দার্শনিক চিন্তা করার সুযোগও অবারিত। জীবনের অর্থ কী? সভ্যতা কাকে বলে? প্রশাসন কেন আছে? মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে এত কমিটি, এত মিটিং, এত আলোচনা কেন? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোনও দার্শনিক দিতে পারবেন না। কিন্তু হাওড়া কোর্টের শৌচাগারের সামনে দাঁড়ালে প্রশ্নগুলি আপনাআপনি মাথায় আসে।
বার অ্যাসোসিয়েশনের মহিলা আইনজীবীদের শৌচাগারটি ‘মেরামত করা হবে’—এই অমৃতবাণী বহু বছর ধরে শোনা যাচ্ছে। কথাটি এতবার উচ্চারিত হয়েছে যে, একে এখন বারের অলিখিত রুল বুকে একটি মৌলিক অনুচ্ছেদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। যেমন ভারতীয় সংবিধানে মৌলিক অধিকার আছে, তেমনই হাওড়া বারে আছে মৌলিক প্রতিশ্রুতি—শৌচাগার মেরামত হইবে, কিন্তু কবে হইবে তাহা ঈশ্বরও জানেন না।
একসময় শোনা গেল, ডিস্ট্রিক্ট জাজ নাকি প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করেছেন। আশার আলো দেখা দিয়েছিল। মনে হয়েছিল, এই বুঝি ইতিহাসের চাকা ঘুরবে, এই বুঝি মহিলা আইনজীবীরা তাঁদের মৌলিক প্রয়োজনের জন্য আর মহাভারতের অভিমন্যুর মতো চক্রব্যূহে প্রবেশ করতে বাধ্য হবেন না।
কিন্তু হায়! একদল অদৃশ্য কুশীলব এসে সেই আশার প্রদীপে জল ঢেলে দিলেন। অভিযোগ, কমিটির কিছু দূরদর্শী ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে বরাদ্দ অর্থের এমন পরিণতি হলো যে, টাকাটি শৌচাগারের দরজা পর্যন্ত পৌঁছনোর আগেই সরকারি তহবিলে প্রত্যাবর্তন করল।
অর্থাৎ শৌচাগার পেল না সংস্কার, সরকার পেল টাকা, আর আইনজীবীরা পেলেন অভিজ্ঞতা। প্রশাসনিক অর্থনীতির এই মডেল পৃথিবীর অন্য কোথাও প্রয়োগ করা যায় কি না, তা নিয়ে গবেষণা করা উচিত। যে টাকা খরচ না করেও উন্নয়নের আলোচনা চালানো যায়, সেটিই বোধহয় প্রকৃত টেকসই উন্নয়ন!
এরপর আসি একতলার মহিলা শৌচাগারে। সেটি আমি স্বচক্ষে দেখিনি। তবে শুনছি, সেখানে নাকি ঘটেছে এক অভূতপূর্ব নবকলেবর। এমন রূপান্তর যে, পুরনো শৌচাগারটি নিজের ছবি দেখলে নিজেই হয়তো চিনতে পারবে না।
আর সেই আনন্দেই আমাদের নারী আইনজীবী বিজয়ার মিষ্টি না পাঠিয়ে শৌচাগারের ভিডিও পাঠিয়েছেন। ভিডিও দেখে মনে হলো, এ তো আর সাধারণ শৌচাগার নয়! যেন পাঁচতারা হোটেলের বিশেষ অতিথিদের জন্য নির্মিত এক বিলাসবহুল বিশ্রামাগার। শুধু দরজায় ‘হাওড়া বার—প্রিমিয়াম ওয়েলনেস স্যুইট’ লেখা নেই।
তবে একটি গুরুতর অভাব চোখে পড়ল। একটি গদিওলা সোফা-কাম-বেড কোথায়?
বছরের পর বছর ধরে আমাদের দিদি-বোনেরা আদালতে এসে মামলা লড়ছেন, যুক্তি সাজাচ্ছেন, সাক্ষী জেরা করছেন, বিচারপ্রার্থীদের আশ্বাস দিচ্ছেন। আর প্রয়োজনের সময়ে শৌচাগারের লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁদের যে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়, তাতে শান্তিরক্ষা বাহিনীতেও তাঁদের নিয়োগ করা যেতে পারে।
এত দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যখন অবশেষে তাঁরা নির্ঝঞ্ঝাটে প্রাতঃকৃত্য সম্পন্ন করবেন, তখন শরীরে ক্লান্তি আসতেই পারে। সেই অবস্থায় একটি আরামদায়ক সোফায় বসে একটু বিশ্রাম নেওয়া কি তাঁদের অধিকার নয়?
সোফাটি থাকলে দুই মহিলা আইনজীবী পাশাপাশি বসে সুখ-দুঃখের গল্প করতে পারবেন। একজন বলবেন, ‘আজ আমার মামলাটা উঠল না।’ অন্যজন বলবেন, ‘আমার ক্লায়েন্ট এখনও ফি দেয়নি।’ তৃতীয়জন এসে হয়তো বলবেন, ‘আমার স্বামী আবার সকালে চা না খেয়েই বেরিয়ে পড়েছেন।’
এইভাবে শৌচাগারটি হয়ে উঠবে নারী-সংলাপের এক নতুন কেন্দ্র, যেখানে বিচারব্যবস্থা, সংসারব্যবস্থা এবং জলব্যবস্থা—তিনটিরই গভীর বিশ্লেষণ সম্ভব হবে।
আমার বিনীত প্রস্তাব, শৌচাগারে একটি সোফা বসানো হোক। সঙ্গে দুটি কুশন, একটি ছোট টেবিল এবং সম্ভব হলে একটি চায়ের ফ্লাস্ক রাখার ব্যবস্থা করা হোক। এতে মহিলা আইনজীবীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। আর তাঁরা সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে স্বামীদের সঙ্গে একটু ভালো ব্যবহার করলে, স্বামীরাও হয়তো গরম চা ও জলখাবারের সৌভাগ্য অর্জন করবেন।
অর্থাৎ একটি সোফা থেকে পারিবারিক শান্তি, পারিবারিক শান্তি থেকে সামাজিক স্থিতিশীলতা, আর সামাজিক স্থিতিশীলতা থেকে জাতীয় উন্নয়ন—হাওড়া কোর্টের শৌচাগার থেকেই শুরু হতে পারে ভারতের নতুন অর্থনৈতিক বিপ্লব!
এবার আসি দোতলার পুরুষদের শৌচাগারে। সেখানে নাকি অভিনব ফরাসি কমোড বা প্যান বসানো হয়েছে। আধুনিকতার জয়যাত্রায় এটি নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু সমস্যা হলো, কমোড আধুনিক হয়েছে, ব্যবহারকারীর অভ্যাস এখনও প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে আছে।
ফলে কেউ কেউ নাকি কমোডের উপরেই উঠে বসছেন—যেন সেটি কোনও আধুনিক সিংহাসন, আর তিনি হস্তিনাপুরের রাজা দুর্যোধন! কমোডের মাথায় উঠে প্রাতঃকৃত্য সম্পন্ন করার এই অভিনব পদ্ধতি দেখে মনে হয়, স্থাপত্য আধুনিক হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সভ্যতার সফটওয়্যার আপডেট এখনও বাকি।
অবশ্য তাঁদের একেবারে দোষ দেওয়া যায় না। দেশের বাড়িতে ভোরবেলা ঘটি বা লোটা হাতে মাঠের দিকে যাত্রা করার যে সুপ্রাচীন ঐতিহ্য, তা কি আর কয়েকটি টাইলস, একটি ফ্লাশ এবং একটি বিদেশি কমোড দিয়ে মুছে ফেলা সম্ভব?
মানুষ চাঁদে পৌঁছেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করেছে, মহাকাশে উপগ্রহ পাঠিয়েছে। কিন্তু প্রাতঃকৃত্যের ক্ষেত্রে কয়েক হাজার বছরের অভ্যাসের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি এখনও মাঝেমধ্যে পরাজিত হয়। রকেটের বিজ্ঞান যতই উন্নত হোক, কমোডের বিজ্ঞান বুঝতে মানুষের আরও কিছুটা সময় লাগবে।
আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে নাকি বাড়িতে জলের বিল বাঁচানোর মহৎ উদ্দেশ্যে প্রাতঃকৃত্য অসম্পূর্ণ রেখেই আদালতে চলে আসেন। তারপর হাওড়া বারের এই নবনির্মিত বিলাসবহুল শৌচাগারে এসে পরম শান্তিতে দায়িত্ব পালন করেন।
এখানে এসে তাঁদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতার এক বিরল প্রকাশ ঘটে। বাড়িতে জল বাঁচান, আদালতেও জল বাঁচান। এক ফোঁটা জলে যদি কাজ চলে যায়, তাহলে দশ ফোঁটা খরচ করার কী প্রয়োজন?
ভারত সরকারের ‘জল বাঁচাও’ অভিযানের প্রকৃত সাফল্য কোথায়, তা নিয়ে এতদিন নানা বিতর্ক ছিল। কিন্তু হাওড়া বারের শৌচাগার সেই বিতর্কের অবসান ঘটাতে পারে। এখানে জলের ব্যবহার দেখে মনে হয়, প্রতিটি ব্যবহারকারী ব্যক্তিগতভাবে দেশের জলসম্পদ রক্ষার শপথ নিয়েছেন।
তবে একটি বিনীত অনুরোধ—জল বাঁচানোর উৎসাহে যেন শৌচাগার পরিষ্কারের প্রয়োজনীয় জলটুকুও বাঁচিয়ে ফেলা না হয়। কারণ পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিবেশকে পরবর্তী ব্যবহারকারীর জন্য অসহনীয় করে তোলা এক জিনিস নয়।
– অবশেষে বার অ্যাসোসিয়েশনের মিটিংয়ে বিস্তর চেঁচামেচি, হট্টগোল এবং চুলোচুলির পর একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বারের মাসিক চাঁদা পঞ্চাশ টাকা হবে।
কেন? শৌচাগার পরিষ্কারের জন্য। যাতে মাননীয় সেক্রেটারি কার্তিকবাবু ঝাড়ুদারদের পিছনে দু’হাতে টাকা খরচ করতে পারেন।
পঞ্চাশ টাকা শুনতে সামান্য মনে হলেও, আইনজীবীদের কাছে এটি একটি গুরুতর অর্থনৈতিক প্রশ্ন। কারণ আইনজীবী এমন এক পেশাজীবী, যিনি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে ফি আদায়ের জন্য বছরের পর বছর মামলা লড়তে পারেন, কিন্তু নিজের বারের মাসিক চাঁদা বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে সংবিধান, গণতন্ত্র ও আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্নও তুলতে পারেন।
তবু এই চাঁদা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই। কারণ শৌচাগার পরিষ্কার রাখা কোনও বিলাসিতা নয়; এটি সভ্য প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম দায়িত্ব। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—পঞ্চাশ টাকা বাড়ানোর পর শৌচাগারের উন্নতি কতটা হবে, আর কমিটির সভার চা-বিস্কুটের মান কতটা উন্নত হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের ইতিহাস দেবে।
বারের সুযোগ্য প্রেসিডেন্ট মহাশয় অবশ্য শৌচাগারের মতো তুচ্ছ বিষয়ে মাথা ঘামিয়ে নিজের উচ্চ চিন্তাভাবনার অবমাননা করতে চান না। তিনি হয়তো মনে করেন, আইনজীবীদের কাজ আইন নিয়ে চিন্তা করা, কমোড নিয়ে নয়।
কথাটি যুক্তিসংগত। কিন্তু যে আইনজীবী ঘণ্টার পর ঘণ্টা আদালতে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করেন, তাঁর নিজের মৌলিক প্রয়োজনের জায়গাটুকু যদি ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকে, তবে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করাও কি নেতৃত্বের দায়িত্ব নয়?
কমিটি অবশ্য শেষ পর্যন্ত অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। নিচের তলায় পুরুষদের জন্যও অনুরূপ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে বহুদিনের প্রতীক্ষিত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে সভা, সেমিনার, প্রবন্ধ, বিতর্ক কত কিছুই তো হলো। কিন্তু হাওড়া বার দেখিয়ে দিল, সাম্য প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে প্রত্যক্ষ উপায় কী!
একতলায় মহিলা, দোতলায় পুরুষ, আর দু’তলাতেই সভ্যতার পরীক্ষা!
তবে আমার শেষ প্রস্তাবটি — হাওড়া বারে একটি ‘শৌচাগার উন্নয়ন স্থায়ী কমিটি’ গঠন করা হোক। কমিটির চেয়ারম্যান হবেন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী, সম্পাদক একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক এবং উপদেষ্টা হবেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি কমোডে ওঠা ও কমোডে বসার মধ্যে মৌলিক পার্থক্যটি জানেন।
কমিটি প্রতি মাসে বৈঠক করবে। বৈঠকে আলোচিত হবে—জলের ব্যবহার, পরিষ্কারের মান, সাবানের প্রাপ্যতা, দরজার ছিটকিনি এবং সোফা-কাম-বেডের সম্ভাব্য অবস্থান। প্রতি বৈঠকের কার্যবিবরণী তিন কপি করে তৈরি হবে। এক কপি বারের দপ্তরে, এক কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এবং তৃতীয় কপি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণার জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
শৌচাগারের উন্নতি না হলেও অন্তত নথিপত্রের উন্নতি হবে। আর নথিপত্র উন্নত হলে হাওড়া কোর্টের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ থাকবে।
শেষ কথা একটাই — বিচারব্যবস্থার মর্যাদা শুধু আদালতের এজলাসে, বিচারকের আসনে কিংবা আইনজীবীর কালো কোটে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানের সভ্যতা প্রকাশ পায় সেই জায়গাতেও, যেখানে মানুষ কোনও সামাজিক পরিচয়, পদমর্যাদা কিংবা পেশাগত অহংকার ছাড়াই নিজের সবচেয়ে স্বাভাবিক প্রয়োজনটুকু পূরণ করতে যায়।
তাই শৌচাগারকে অবহেলা করবেন না। কারণ আদালতে মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করে, আর শৌচাগারের লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে প্রকৃতির বিচারের জন্য।
হাওড়া কোর্টে ন্যায়বিচার কবে মিলবে, তা নিয়ে বিতর্ক চলুক। কিন্তু অন্তত প্রাতঃকৃত্যের জন্য যেন আর কাউকে বিচারাধীন থাকতে না হয়!
শুভ বিজয়া ২০২৬।
পরের বছর কেউ মিষ্টি পাঠালে ভালো লাগবে। তবে শৌচাগারের আরেকটি ভিডিও পাঠালে সেটিও সাদরে গ্রহণ করব — যদি সঙ্গে একটি সোফা-কাম-বেডের ক্যাটালগ থাকে!
তন্ময় ভট্টাচার্য
তারিখ: ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ (বুধবার)
Read More
