বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের বিশ্বকোষ (Encyclopedia of Bengali Language and Literature)
তন্ময় ভট্টাচার্য (অ্যাডভোকেট)
দক্ষিণেশ্বর বর্তমান কলকাতা শহরের উত্তর প্রান্তে গঙ্গার পূর্বতীরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক জনপদ ও কালীমন্দির-প্রতিষ্ঠিত তীর্থক্ষেত্র, যাহা ধর্ম, রাজনীতি ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে ঊনবিংশ ও বিংশ শতকে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে। ব্রিটিশ শাসনামলে এর খ্যাতি বিস্তৃত হয়ে উঠে রাসমণি দাসীর (২৮ সেপ্টেম্বর ১৭৯৩ – ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৮৬১) ঐতিহাসিক ভূমিকা ও দানপ্রবণতার কারণে। রাসমণি দাসী (রানি) বিশিষ্ট মহিষ্য বংশীয় জমিদার রাজচন্দ্র দাসের বিধবা ছিলেন এবং নিজ গৃহ, বিশ্বাস, ধর্মীয় উদারতা ও ব্রিটিশ প্রশাসনের সঙ্গে জটিল সম্পর্কসূত্রে বাংলা ইতিহাসে এক বিশিষ্ট আসনে অধিষ্ঠিত।
এই নদীপথেই, যা দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের ধারে প্রবাহিত, সেই একই গঙ্গার তীরে অবস্থিত ব্যারাকপুরে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম দেশপ্রেমের ঢেউ আঘাত হানে সাহসী সিপাহীদের অন্তরে, যা শেষপর্যন্ত সিপাহী বিদ্রোহে (Sepoy Mutiny) পরিণত হয়। দক্ষিণেশ্বর মন্দির নির্মিত হওয়ার সময়েই এই রাজনৈতিক বিপ্লবের আগুন ধীরে ধীরে বাঙালির মধ্যে সঞ্চারিত হতে থাকে। তখন কলকাতা ছিল সমগ্র ভারতের রাজধানী এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে লন্ডনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। এই অঞ্চলেই প্রায় ৩০০ বৎসর পূর্বে প্রসিদ্ধ সবর্ণ রায়চৌধুরী বংশের সদস্য দুর্গাপ্রসাদ রায়চৌধুরী ও ভবানীপ্রসাদ রায়চৌধুরী দক্ষিণেশ্বরে বসতি স্থাপন করিয়া এই জনপদের প্রাথমিক সাংস্কৃতিক ভিত্তি স্থাপন করেন।
১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে রানি রাসমণি দাসী দক্ষিণেশ্বর গ্রামে “সাহেবান বাগিচা” নামে খ্যাত একটি প্রায় ২০ একর (৮১,০০০ বর্গমিটার) জমি ইংরেজ ব্যবসায়ী জেক হেস্টি (Jake Hastie)-র নিকট হতে ৪২,৫০০ টাকায় ক্রয় করেন। এটা ছিল আংশিকভাবে এক পুরাতন মুসলিম কবরস্থান। সম্পত্তির এনডাউমেন্ট দলিলসমূহে রানি উল্লেখ করেন, “আমার প্রয়াত স্বামীর অভিপ্রায় পূরণের জন্য ৬ই সেপ্টেম্বর ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে উক্ত জমি ক্রয় করলাম এবং তৎপরে উক্ত ভূমিতে এক পাকা নবরত্ন মন্দির, বারো শিবমন্দির, এক বিষ্ণুমন্দির ও নাটমন্দির নির্মিত করলাম।”
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয় প্রায় ৯ লক্ষ টাকা, এবং নির্মাণকার্য সম্পন্ন হতে সময় লাগে আট বৎসর। মন্দির নির্মাণের দায়িত্বে নিযুক্ত ছিল ম্যাকিন্টস অ্যান্ড বার্ন কোম্পানি। ৩১ মে ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ, স্নানযাত্রার শুভ তিথিতে, নবপ্রতিষ্ঠিত নবরত্ন মন্দিরে শ্রীশ্রী জগদীশ্বরী মহাকালী প্রতিমার প্রতিষ্ঠা হয় এবং অন্যান্য দেবতাদেরও স্থাপন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠান উপলক্ষে সমগ্র দেশ হতে প্রায় এক সহস্র ব্রাহ্মণ আহূত হন। রামকুমার চট্টোপাধ্যায় সহ একদল ব্রাহ্মণ নিয়োগপ্রাপ্ত হন নিত্যপূজার জন্য। তাদের বেশিরভাগই মন্দির প্রাঙ্গণের পাশে বসবাসের অনুমতি পেয়েছিলেন । শ্রীশ্রীজগদীশ্বরীর প্রসাদ, স্মার্ত পূজা, পোশাক পরিবর্তন এবং অলঙ্কার প্রদানের জন্য ১০ জন ব্রাহ্মণকে বিশেষভাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। শেহনাইয়ের জন্য একটি নহবতখানা তৈরি করা হয়েছিল, বারাণসী থেকে বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল । পূজার ফুল এবং বিল্য-তুলসী পত্রের জন্য মন্দিরের বাইরে গঙ্গার পারে একটি বাগিচা স্হাপন করা হয়েছিল ।
রাসমণিকে রিপোর্ট করার জন্য এবং তারপর মথুর বাবুকে রিপোর্ট করার জন্য দুজন বিশেষ দূত নিযুক্ত করা হয়েছিল। বাগানের পিছনে টয়লেটের জায়গাটি নির্দিষ্ট ছিল, পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই সেখানে যেতেন। জানবাজার এলাকা থেকে নিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল প্রবেশ এবং বহির্গমন ব্যবস্থা। সন্ধ্যা আরতি পর এবং সকাল আরতির আগে কাউকে মন্দিররে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না।
কলকাতা জানবাজারের জমিনদার রাসমণি ও রাজচন্দ্র দাসের চার কন্যা ছিল—পদ্মমণি (ডাক নাম আটা), কুমারী, করুণাময়ী ও জগদম্বা। এক পুত্রসন্তান জন্মের পরই মৃত্যুবরণ করে। কন্যাদের বিবাহ মহিষ্য (শূদ্র) সম্প্রদায়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। জ্যেষ্ঠা পদ্মমণি বিবাহিত হন অপর এক মহিষ্য জমিদার পরিবারের সন্তান রামচন্দ্র দাসের সঙ্গে। দ্বিতীয়া কন্যা কুমারী বিবাহিত হন খুলনা নিবাসী প্যারীমোহনের সঙ্গে। তৃতীয়া করুণাময়ীর স্বামী ছিলেন মথুর মোহন বিশ্বাস(১৮১৭ – ১৬ জুলাই ১৮৭১), যিনি করুণাময়ীর মৃত্যুর পর রানি রাসমণির চতুর্থ কন্যা জগদম্বাকেও বিবাহ করেন। রাসমনির অনুরোধে প্যারীমোহন জানবাজার ‘রাজবাড়িতে’ বসবাস শুরু করেন । রাসমণি যতদিন বেঁচে ছিলেন, তিনি কখনও মন্দিরের প্রতি আগ্রহ দেখাননি, তিনি জামিনদারির এবং কোর্ট কাচারীর কাজ, হিসাবপত্র দেখতেন।
মথুরমোহন বিশ্বাস (সেজোবাবু) কলকাতার হিন্দু কলেজে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর দূরদর্শিতা ও ব্যক্তিগত কৌশলের জন্য সমসাময়িক মহলে তিনি ‘চতুর’ বলে পরিচিত ছিলেন। রানি রাসমণির কন্যা করুণাময়ীর স্বামী হবার পর এবং পরে জগদম্বার সঙ্গে বিবাহসূত্রে যুক্ত হবার পর, মথুরমোহন ধীরে ধীরে মন্দিরের সমস্ত প্রশাসনিক কর্তৃত্ব নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন।
রানি জীবিত থাকাকালীন মথুর মন্দির রক্ষণাবেক্ষণ ও দেবোত্তর সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে থাকেন। শোনা যায়, তিনি পরিকল্পনার মাধ্যমে রানি রাসমণির অন্যান্য জামাতা-আত্মীয়দের ধীরে ধীরে প্রান্তিক করে দেন এবং দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের দায়িত্ব কার্যত নিজের হাতে সংহত করেন। এই পদক্ষেপ অনেক ক্ষেত্রেই আত্মীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরোধ সৃষ্টি করে। এ সমস্ত প্রশমিত করতে তিনি তিনি মন্দিরকে ঘিরে অলৌকিকতায় পূর্ণ কল্পনাজাত কাহিনির এক পরিকল্পিত পরিবেশ সৃষ্টি করেন।
মথুর অলৌকিক ঘটনা, দেবীপ্রতিমার ‘জীবন্ততা’, স্বপ্নাদেশ সংক্রান্ত কাহিনি প্রচার করতে থাকেন। দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরকে ঘিরে যে সকল চমকপ্রদ অলৌকিক কাহিনি কালক্রমে লোকমুখে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে—তার উৎস মথুরমোহনের রচনা ও পরিকল্পনা। তিনি কখনও নিজেকে দেবীর ‘নিযুক্ত তত্ত্বাবধায়ক’ প্রচার করেন, কখনও রানি রাসমণির উদ্দেশ্যে দেবী প্রদত্ত স্বপ্নাদেশের কাহিনি রচনা করেন, আবার কখনও মন্দির প্রাঙ্গণে অলৌকিক ঘটনার ‘সাক্ষী’ রূপে নিজেকেই স্থাপন করেন। প্যারীমোহন এসবের জন্য মথুরের উপর রেগে যান এবং দুই পুরোহিতকে বহিষ্কার করেন, ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের মাহিনা কমিয়ে দেন।
মথুরমোহন বিশ্বাসের ১৬ জুলাই ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে (১ শ্রাবণ, ১২৭৮ বঙ্গাব্দ), কলিকাতার কালীঘাটস্থ বাসভবনে সন্ধ্যা ৫টার সময় ব্রেন স্ট্রোকে আকস্মিক মৃত্যুর পর দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে দ্বন্দ্ব, মতবিরোধ ও প্রশাসনিক সংকটের সূচনা ঘটে। মথুরমোহনের মৃত্যুর উত্তরসূরি ও অন্যান্য আত্মীয়দের মধ্যে মালিকানা, প্রশাসন এবং অর্থসম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ দানা বাঁধে। মথুরের তিন ছেলে এবং প্যারীমোহনের ছেলেদের মধ্যে কলহ মন্দির প্রাঙ্গনে নিত্য দেখা যেত, অলৌকিকতা বাস্তবতার রূপ নেয় ।
এই পারিবারিক বিরোধ ক্রমশই বৃহৎ আকার ধারণ করে এবং মন্দিরের নিয়মিত পূজার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্রাহ্মণ-পুরোহিত ও সেবায়েতকে বিতাড়িত করা হয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকায়, ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে রানি রাসমণির দেবোত্তর সম্পত্তির প্রশাসন ও মন্দির পরিচালনার উদ্দেশ্যে Calcutta High Court-এ একটি প্রশাসনিক মামলা (CS No. 308 of 1872) দায়ের করা হয়। মামলাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল রানি রাসমণির ‘অর্পণনামা’ অনুযায়ী একটি বৈধ ও সুষ্ঠু প্রশাসনিক স্কিম প্রণয়ন, যার মাধ্যমে মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা যায়। তবে এখনো পর্যন্ত মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি লাভ করে নাই ।
রানি রাসমণি কলকাতার জানবাজারস্থ বাসভবনে প্রতি শরৎকালে দুর্গাপূজার আয়োজন করতেন। স্বামী রাজচন্দ্রের মৃত্যুকালে তিনি ৬৮ লক্ষ টাকা অর্থসম্পদ ও ৮ লক্ষ টাকার Bengal Bank-এর শেয়ার উত্তরাধিকারস্বরূপ পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি দিনাজপুর জেলার এক ভূসম্পত্তি কালীমন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেবোত্তর সম্পত্তি রূপে দান করেন। এই দানপত্র ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে রেজিস্ট্রি হয় এবং ঠিক পরদিন, ১৯ ফেব্রুয়ারি, তিনি হৃদরোগে পরলোকগমন করেন। কালীমন্দির উদ্বোধনের পরে তিনি মাত্র পাঁচ বছর নয় মাস জীবিত ছিলেন। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর তিনি মাত্রা দুইবার মন্দিরে এসেছিলেন, শেষবার ভগ্ন হৃদয়ে মন্দির থেকে ফিরে যান ।
মন্দির ও দেবোত্তর এস্টেটের রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রথাগত বিবাদের নিরসনের জন্য ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে Calcutta High Court-এ CS No. 308 মামলা দায়ের হয়। Balaram Das vs. Guru Charan Biswas (ফাইলিং তারিখ: ০১-০১-১৮৭২) মামলায় ১৯১২ সালে একটি প্রশাসনিক স্কিম গৃহীত হয়, যাহা ১৬ জুলাই ১৯২৯ ও ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় সংশোধিত হয়। বর্তমান যুগে এই ট্রাস্টের সেবায়েতদের মধ্যে আর্থিক দুর্নীতি, অবৈধ সম্পত্তি দখল এবং দানের অপচয় সংক্রান্ত অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা বিচারাধীন। কলকাতা হাইকোর্টে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উক্ত মামলায় মন্তব্য করা হয়, ট্রাস্ট বোর্ডের সচিবের নামে দেবোত্তর সম্পত্তির রেকর্ড হয়ে যাওয়া, দেবতার নামে না থাকায়, রানি রাসমণির দানের মূল উদ্দেশ্য বিঘ্নিত হয়েছে। আদালত অবলম্বনে উঠে আসে, তিন সেবায়েত মিলে ৬০০ সদস্যের বোর্ডকে পাশ কাটাইয়া সম্পত্তি আত্মসাৎ করিতেছেন।
ঊনবিংশ শতকের মধ্যভাগে দক্ষিণেশ্বর ছিল অপেক্ষাকৃত নির্জন গ্রাম। Calcutta Review-এর জানুয়ারি ১৮৪৫ সংখ্যায় জে.সি. মার্শম্যান লেখেন—“A little higher up we have the village of Dukhinsore, remarkable chiefly for the country seat, mapped down in the map of Hastie’s Garden, but which has repeatedly changed hands during the last thirty years. To the north of it lies the Powder Magazine. During the last four years… four elegant houses have sprung up to the south of the garden.”
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের প্রাকমুহূর্তে দক্ষিণেশ্বর অঞ্চলের প্রবল দেশাত্মবোধের প্রভাবও লক্ষণীয়। ব্যারাকপুর অঞ্চলের সিপাহীরা একই নদীপথে অবস্থান করতো এবং এই বিদ্রোহ দক্ষিণেশ্বর মন্দির গঠনের ঐতিহাসিক সময়পর্বের সঙ্গেও সমকালীন। রানি রাসমণি ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশদের সহায়তা করে নিজে প্রসিদ্ধ হন, ব্রিটিশরাও মন্দিরের প্রসারে সহায়তা করে তাকে একপ্রকার সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রক বলয়রূপে পরিগণিত করেন। এই মন্দির অনেকাংশে বাঙালির বিদ্রোহী মানসিকতা দমন করবার এক প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে পরিণত হয়। মথুর বাবু সময় সময়ে ইংরেজদের সাথে দেখা করতেন ও তাদের পরামর্শ নিতেন ।
১৯২৫-২৬ সালের “দক্ষিণেশ্বর বোমা কাণ্ড” এক গোপন বিপ্লবী ষড়যন্ত্র, যাহা কাকোরি ট্রেন ডাকাতি ও আগত সশস্ত্র আন্দোলনের অংশ ছিল। রাজেন্দ্রনাথ লাহিড়ী এই মামলায় প্রথমে ধৃত হন এবং পরে তার দণ্ডাদেশ পরিবর্তন হয়ে মৃত্যুদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। বিপ্লবী অনন্ত হরি মিত্র ও প্রমোদ রঞ্জন চৌধুরীকে ১৯২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি দেওয়া হয়, তারা বিচারাধীন অবস্থায় গোয়েন্দা অফিসার ভূপেন চট্টোপাধ্যায়কে হত্যা করেন।
বর্তমানে দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির ও দেবোত্তর এস্টেট একটি ট্রাস্টের দ্বারা পরিচালিত হয়। ১৮৭২ সালে, রানী রাসমণির সম্পাদিত অর্পণামার দলিল বাস্তবায়নের জন্য একটি মামলা দায়ের করা হয়। ১৮৭৪ সালে উক্ত মামলায় একটি প্রাথমিক ডিক্রি পাস করা হয়। উক্ত মামলায় বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, একটি প্রশাসনিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। সময়ে সময়ে, উক্ত পরিকল্পনাটি এই মাননীয় আদালত কর্তৃক সংশোধন এবং নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে এই প্রকল্পের অধীনে, দেবোত্তর এস্টেটের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সেবাইতদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত তিনজন ট্রাস্টির উপর ন্যস্ত করা হয়। পরিবর্তিত প্রকল্প অনুসারে, নবনির্বাচিত ট্রাস্টি বোর্ডের মেয়াদ তিন বছরের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে এই সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে। ২৭শে জুন, ২০২৩ তারিখের আদেশে, আবেদনকারীদের মাননীয় আদালত কর্তৃক ট্রাস্টি বোর্ড গঠন এবং ১৩ই জুন, ২০২২ থেকে তিন বছরের জন্য ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাস্টি বোর্ডের পরবর্তী নির্বাচন বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে তিন মাস আগে অর্থাৎ ১২ই মার্চ, ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে হবে।
যেহেতু মন্দির ও দেবোত্তর এস্টেট জনসাধারণের কাছ থেকে অনুদান এবং রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল থেকে তহবিল পাচ্ছে, তাই ট্রাস্টটি, যা প্রথমে একটি ব্যক্তিগত ট্রাস্ট ছিল, সময়ের সাথে সাথে তার প্রকৃতি পরিবর্তন করে একটি পাবলিক ট্রাস্টে পরিণত হয়েছে।
“২০২১ সালের জি.এ. ৩০-এর ১০ মার্চ, ২০২২ তারিখের এক আদেশে, এই আদালত কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যকে দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির ও দেবোত্তর এস্টেটের চেয়ারম্যান-সহ বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করেছিল, যেখানে তাকে উক্ত মন্দির ও এস্টেটের নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল”।
৩০শে জানুয়ারী, ২০১৬ তারিখ পর্যন্ত আপডেট করা সেবাইতের সর্বশেষ তালিকা সংশোধনের পর, মাননীয় হাইকোর্টের আদেশ অনুসারে, চেয়ারম্যান কাম স্পেশাল অফিসার সেবাইতের উত্তরাধিকারীদের ভোটাধিকার এবং/অথবা শেয়ারের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন।
“উপরে বর্ণিত সেবাইতের উত্তরাধিকারীদের ভোটাধিকার এবং/অথবা অংশের পরিমাণ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে, মৃত সেবাইতের আইনগত উত্তরাধিকারী এবং প্রতিনিধিদেরকে দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির এবং দেবোত্তর এস্টেটের সেবাইতত্বের জন্য তাদের দাবি লিখিতভাবে দাখিল করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে, যথা, মৃত সেবাইতের মৃত্যু সনদ, মৃত সেবাইতের সেবাইতের প্রমাণপত্র (তাদের নিজস্ব ছবি সহ)।”
উক্ত নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সেবাইত হিসেবে তাদের নাম তালিকাভুক্তির জন্য এবং ভোটার তালিকায় তাদের বর্তমান অংশ রেকর্ড করার জন্য ৯০টি আবেদনপত্র গৃহীত হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের পরে প্রাপ্ত আবেদনগুলিও ২৪শে এপ্রিল, ২০২২ তারিখে মন্দির অফিসে বিবেচনা এবং শুনানি করা হয়েছিল।
নির্বাচিত তিন ট্রাস্টি, যথা কুশল চৌধুরী, সমরেন্দ্রনাথ সরকার এবং অশোক দাসকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, তারা অবিলম্বে বোর্ডের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং দক্ষিণেশ্বর মন্দির এবং দেবোত্তর এস্টেটের ব্যবস্থাপনার কাঠামো অনুযায়ী ১৩ জুন, ২০২২ থেকে তিন বছরের জন্য কাজ করবেন।
“রেকর্ড করা হয়েছে যে চেয়ারম্যান-কাম-স্পেশাল অফিসার ১০ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক বিনীতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যা এই আদালতের ১০ মার্চ, ২০২২ তারিখের আদেশ অনুসারে প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে, চেয়ারম্যান-কাম-স্পেশাল অফিসারের দাবি অনুসারে সমস্ত খরচ এবং ব্যয় যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে। উপরন্তু, আমি দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির এবং দেবোত্তর এস্টেটের জন্য নতুন ট্রাস্টি বোর্ড নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই আদালতকে তাঁর মর্মস্পর্শী এবং নিষ্কলুষ কাজ এবং সহায়তার জন্য বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা এবং কৃতজ্ঞতা রেকর্ডে রাখতে চাই। (শেখর বি. সরফ, জে.: ২৭ জুন, ২০২৩)”
রানী রাসমণির রেখে যাওয়া তহবিল ও সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগ, সেইসাথে দৈনিক দর্শনার্থী/ভক্ত এবং সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অনুদান, ১৯৮৬ সাল থেকে ৬০০ জন সেবাইতের মধ্যে তিনজন (নির্বাচিত সদস্য) দ্বারা শুরু হয়েছে এবং উক্ত দিকটি জনস্বার্থ মামলায় মাননীয় ডিভিশন বেঞ্চের সামনে তদন্তাধীন রয়েছে। (বিভাস পট্টনায়ক, জে, 3rd April, 2025)
Balaram Das v. Gurucharan Biswas & Ors.
Calcutta High Court (Original Side)
Nov 27, 2009
G.A No. 2983 of 2009,C.S No. 308 of 1872
Sanjib Banerjee, J.:— The Court: The trust is being administered by Court. In this suit filed in the year 1872 an order was made for administration in 1912 and the scheme was substantially modified on July 16, 1929…….
There will be an order appointing Dr. Tapas Kumar Banerjee, Barrister-at-law, as Chairman-cum-special officer to determine the voting rights of the sebaits after publishing due advertisements inviting information relating to sebaits to be furnished to him, and to conduct the election of the new Board of trustees which is to take charge on June 13, 2010.
Mr. Ashok Banerjee, Advocate is appointed to assist the Chairman-cum-special officer for the entire exercise.
IN THE HIGH COURT AT CALCUTTA
Ordinary Original Civil Jurisdiction
Original Side
Present: The Hon’ble Justice Shekhar B. Saraf
IA NO. GA/30/2021 With IA NO. GA/31/2022 With IA NO. GA/32/2022 With IA NO. GA/33/2022 With
IA NO. GA/34/2022 IN CS NO. 308 OF 1872
BALARAM DAS Versus GURU CHARAN BISWAS
২০২১ সালের জি.এ. ৩০-এর ১০ মার্চ, ২০২২ তারিখের এক আদেশে, এই আদালত কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যকে দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির ও দেবোত্তর এস্টেটের চেয়ারম্যান-সহ বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করেছিল, যেখানে তাকে উক্ত মন্দির ও এস্টেটের নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
IA NO. GA/42/2024
In
CS/308/1872
BALARAM DAS Vs GURU CHARAN BISWAS
বিভাস পট্টনায়ক, জে
3rd April, 2025
বর্তমানে দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির ও দেবোত্তর এস্টেট একটি ট্রাস্টের দ্বারা পরিচালিত হয়। ১৮৭২ সালে, রানী রাসমণির সম্পাদিত অর্পণামার দলিল বাস্তবায়নের জন্য একটি মামলা দায়ের করা হয়। ১৮৭৪ সালে উক্ত মামলায় একটি প্রাথমিক ডিক্রি পাস করা হয়। উক্ত মামলায় বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, একটি প্রশাসনিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। সময়ে সময়ে, উক্ত পরিকল্পনাটি এই মাননীয় আদালত কর্তৃক সংশোধন এবং নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে এই প্রকল্পের অধীনে, দেবোত্তর এস্টেটের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সেবাইতদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত তিনজন ট্রাস্টির উপর ন্যস্ত করা হয়। পরিবর্তিত প্রকল্প অনুসারে, নবনির্বাচিত ট্রাস্টি বোর্ডের মেয়াদ তিন বছরের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে এই সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে। ২৭শে জুন, ২০২৩ তারিখের আদেশে, আবেদনকারীদের মাননীয় আদালত কর্তৃক ট্রাস্টি বোর্ড গঠন এবং ১৩ই জুন, ২০২২ থেকে তিন বছরের জন্য ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাস্টি বোর্ডের পরবর্তী নির্বাচন বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে তিন মাস আগে অর্থাৎ ১২ই মার্চ, ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে হবে।
২০২৫ সালের জিএ ৪৪-এ আবেদনকারীর পক্ষে বিজ্ঞ আইনজীবী এবং ২০২৪ সালের জিএ ৪২-এ উত্তরদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বিদ্বান আইনজীবী পঙ্কজ হালদার দাখিল করেছেন যে ১৯১৪ সালে প্রণীত প্রকল্পটি সময়ে সময়ে ৫ থেকে ১০ বছর আগে পরিবর্তিত হয়েছিল এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে সংশোধিত হয়েছিল, যা প্রায় ৪০ বছর আগে। সর্বশেষ পরিবর্তিত প্রকল্পটি মন্দির এবং দেবোত্তর সম্পত্তির প্রশাসনের ক্ষেত্রে সেবাইতদের উপর কোনও কার্য সম্পাদন এবং কর্তব্য অর্পণ করে না, তাই একটি নতুন পরিবর্তিত প্রকল্প তৈরি করা প্রয়োজন যা ট্রাস্টি বোর্ডের বর্তমান নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতার উপর অপরিহার্য নিয়ন্ত্রণ এবং ভারসাম্য স্থাপন করবে। মন্দিরের উন্নয়ন এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিষয়গুলি সম্পর্কে বর্তমান সেবাইতদের কমপক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মতি অর্জনের জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, বিশেষ করে ভোটাধিকার ব্যতীত সকল সেবাইতদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্তমান প্রকল্পটি নীরব। বিভিন্ন দিক থেকে অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণের বিষয়ে এই প্রকল্পটি নীরব। মন্দিরের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়নের বিষয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের মাত্র তিনজন সদস্য সিদ্ধান্ত নেবেন কিনা, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠ সেবাইতের সিদ্ধান্তে, তা নিয়েও নীরবতা রয়েছে। মন্দিরের তহবিল/সম্পত্তির অব্যবস্থাপনা বা অপব্যবহার সম্পর্কিত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য অভিযোগ সেল এবং কর্তৃপক্ষ সম্পর্কেও এটি নির্দিষ্ট করে না। স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার স্বার্থে উক্ত মন্দিরের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য সেবাইদের ভূমিকা এবং সেবাইরা যদি তাদের কার্য সম্পাদনে ব্যর্থ হন, তাহলে কি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে বিষয়েও এই প্রকল্পটি নীরব।
২০২৪ সালের জিএ ৪২ অনুচ্ছেদে নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের আবেদন দাখিলের আগে, সেবাইতের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য অর্থাৎ ৬০০ সেবাইতের মধ্যে কোনও সভা বা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি এবং এই সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র ট্রাস্টি বোর্ডের বর্তমান সচিব কুশল চৌধুরীই গ্রহণ করেছেন। মন্দির ও দেবোত্তর এস্টেটের তহবিলের অপব্যবহার এবং অপব্যবহারের অভিযোগের মূল হোতার দৃষ্টান্তে, বর্তমান নির্বাচন অনুষ্ঠানের আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যিনি ট্রাস্টি বোর্ডের কর্তৃত্বও হরণ করেছেন এবং আগ্রহী সকল পক্ষকে চাপিয়ে না দিয়ে বা তাদের সেবা না দিয়ে আবেদন করেছেন। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দিক থেকে গৃহীত তহবিলের অপব্যবহার এবং অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, যেমন, বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী/ভক্ত এবং সরকারি কোষাগার, বিদেশ থেকে প্রতিমার নামে এবং উক্ত মন্দির ও দেবোত্তর এস্টেটের উন্নয়নের আড়ালে। উক্ত অভিযোগগুলি প্রাথমিকভাবে মাননীয় ডিভিশন বেঞ্চ কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। ২০২২ সালের WPA(P) ৫৫৯ ধারায় রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বিষয়ে হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও হলফনামা দাখিল করা হয়নি। ট্রাস্টি বোর্ড মন্দির প্রাঙ্গণে সমান্তরাল এনজিও পরিচালনা করছে। তাছাড়া, ট্রাস্টি বোর্ড সরকারি কোষাগার থেকে তহবিল পেয়েছে, যার ব্যয় তাদের আদালতের সামনে প্রকাশ করা উচিত।
রানী রাসমণির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি, যারা ঈশ্বরের নামে দিন দিন তাদের নিজস্ব আর্থিক সম্পদ বৃদ্ধি করছে, তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে। এটাও আশ্চর্যজনক যে, দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের সম্পত্তি দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবতার পরিবর্তে কথিত ট্রাস্ট বোর্ডের সচিবের কার্যালয়ের অনুকূলে রেকর্ড করা হয়েছে। ট্রাস্টি বোর্ডের সচিবের নির্দেশে, মন্দির প্রাঙ্গণে কমবেশি চারটি লাভজনক এনজিও পরিচালিত হচ্ছে।
