বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের বিশ্বকোষ (Encyclopedia of Bengali Language and Literature)
তন্ময় ভট্টাচার্য (অ্যাডভোকেট)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, কথাশিল্পী, গীতিকার ও দার্শনিক চিন্তক। ছদ্মনাম ভানুসিংহ নামে তিনি ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেছিলেন। তাঁর জন্ম কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে, পিতা ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। ঠাকুর পরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাজীবনও ছিল বৈচিত্র্যময়। তিনি ব্রিটেনের ব্রাইটনে পাবলিক স্কুলে পড়েন এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইন পড়ার জন্য ভর্তি হন। তবে সেই পড়াশোনা অসম্পূর্ণ রেখেই ১৮৮০ সালে বাংলায় ফিরে আসেন। তাঁর পিতার ইচ্ছা ছিল তিনি ব্যারিস্টার হবেন, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সম্পূর্ণভাবে সাহিত্য ও সৃজনশীলতার পথে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনের কাজ সম্পাদনের জন্য নিজেকে বহুস্তরীয় সংস্কৃতি দ্বারা সমৃদ্ধ করেছিলেন—ভারতীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি ইউরোপীয় সংস্কৃতিতেও। লন্ডনে উচ্চতর অধ্যয়ন ও বিদেশভ্রমণের মাধ্যমে তাঁর এই শিক্ষা আরও সম্প্রসারিত ও পরিপক্ব হয়েছিল। তাঁর যৌবনে তিনি পিতার সঙ্গে ভ্রমণ করতে করতে নিজ দেশ ভারতের বহু অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন, এমনকি হিমালয় পর্যন্ত গিয়েছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ খুব অল্প বয়স থেকেই বাংলা ভাষায় লেখা শুরু করেন। গদ্য ও পদ্য, গীতিকবিতা ও নাটক—সকল শাখাতেই তিনি কলম ধরেছেন। তিনি শুধু সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র রচনাই করেননি, সাহিত্য সমালোচনা, দর্শন ও সমাজতত্ত্ব নিয়েও পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছেন।
তাঁর কর্মমুখর জীবনের এক সময়ে, অনেকটা পূর্বপুরুষদের অনুশীলিত রীতির অনুকরণে, রবীন্দ্রনাথ স্বেচ্ছায় কর্ম থেকে কিছুটা বিরতি নিয়েছিলেন। তখন তিনি গঙ্গার একটি উপনদীর জলে ভাসমান নৌকায় সাধনার মতো নির্জন জীবনযাপন করেন। এই ধরণের একাকী ও ধ্যানমগ্ন জীবনের মধ্য দিয়েও তাঁর মনন ও সৃষ্টির ধারাকে তিনি অন্য এক স্তরে উন্নীত করেন”।
১৮৮৩ সালে দশ বছর বয়সী মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পরে পিতার আদেশে তিনি শিলাইদহের জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। সেই সময় থেকেই তিনি বহু গল্প, কবিতা ও গান রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে—গীতাঞ্জলি, গোরা, ঘরে বাইরে, শেষের কবিতা, চতুরঙ্গ, ডাকঘর, নষ্টনীড়, নৌকাডুবি, গল্পগুচ্ছ, যোগযোগ, রাজা এবং ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী।
১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদের জন্য রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ছিলেন প্রথম অ-ইউরোপীয় নোবেলজয়ী। ভারতীয় জাতীয় সংগীত জন গণ মন এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত আমার সোনার বাংলা—দু’টিই তাঁর লেখা।
১৯০১ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে একটি আশ্রম স্থাপন করেন, যা পরে ১৯১৮ সালে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। এটি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাত্র দুই বছরের মধ্যে গঠিত হয়। বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে বলা হয়, রবীন্দ্রনাথ বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় ও মহামনা মদনমোহন মালব্যের প্রতি একধরনের ঈর্ষা অনুভব করতেন। ১৯২০ সালে ভারতকলাভবন উদ্বোধনের সময় মালব্য তাঁকে ভারতকলাপরিষদের প্রথম সম্মানসূচক সভাপতি নিযুক্ত করলেও রবীন্দ্রনাথ কখনও বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে যাননি। বরং বাঙলা সাহিত্য সম্মেলনের সময় বারাণসী জঙ্গমবাড়ি এলাকাতে এলেও তিনি কখনও ভারতকলাভবন ঘুরে দেখেননি বা মালব্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।
রবীন্দ্রনাথ শুধু সাহিত্যসাধনাতেই সীমিত ছিলেন না; সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল বিশেষ। ১৯৩৪ সালের বিহার ভূমিকম্পের সময় মহাত্মা গান্ধী এটিকে ‘অস্পৃশ্যদের প্রতি অত্যাচারের জন্য ঈশ্বরের শাস্তি’ বললে রবীন্দ্রনাথ তীব্র আপত্তি জানান। একইভাবে গাঁধী ও আম্বেদকরের মধ্যে পৃথক নির্বাচনী এলাকা নিয়ে বিরোধেও তিনি মধ্যস্থতা করেন।
রবীন্দ্রনাথের জীবনাবসান ঘটে ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট। তাঁর শেষ দিনগুলিতে চিকিৎসা নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ড. নিলরতন সরকার এবং ড. বিধানচন্দ্র রায়ের পরামর্শে ৩০ জুলাই জোড়াসাঁকোর বাড়ির বারান্দায় একটি অস্থায়ী অপারেশন থিয়েটারে তাঁর অপারেশন করা হয়। মূত্রনালীতে সমস্যা থাকায় সার্জারি করে নল বসানো হয়েছিল, কিন্তু অপারেশনের পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যেতে থাকে। ৪ আগস্ট থেকে কিডনি কাজ বন্ধ করে দেয় এবং ৭ আগস্ট দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৫১ সালে বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভের পরে এর প্রথম উপাচার্য (উপাচার্য) নিযুক্ত হন। কিছুদিন যেতে না যেতেই তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে তৎকালীন আচার্য পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু রীতিমতো বিরক্ত হন। একই সময় রথীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। তিনি শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী মীরা দেবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
এই পরিস্থিতিতে আচার্য নেহরু তাঁকে নির্দেশ দেন নির্মলচন্দ্র এবং মীরাকে শান্তিনিকেতন থেকে সরিয়ে দিতে। রথীন্দ্রনাথ এই নির্দেশকে অপমানজনক বলে মনে করেন এবং অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। তিনি ২২ আগস্ট ১৯৫৩ সালে শান্তিনিকেতন ছেড়ে যান এবং সেই দিনটিকে নিজের ‘বিশ্বভারতীর বন্ধন থেকে মুক্তির দিন’ বলে উল্লেখ করেন। স্ত্রী প্রতিমা দেবীকে শান্তিনিকেতনে রেখেই রথীন্দ্রনাথ মীরা দেবীর সঙ্গে দেরাদুনে চলে যান। সেখানেই ১৯৬১ সালে তাঁর মৃত্যু হয়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সর্বকালের জন্য স্মরণীয় থাকবেন তাঁর গান, কবিতা এবং বিশেষত গীতাঞ্জলির জন্য।
উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস (সেপ্টেম্বর ১৯১২) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলির ইংরেজি সংস্করণে যে ভূমিকা বা “Introduction” লেখেন, তার এক বিশেষ অংশে তিনি বলেন:
“আমি এই অনুবাদগুলোর পাণ্ডুলিপি দিনের পর দিন আমার সঙ্গে বহন করেছি—রেলগাড়িতে, বাসের ছাদে, রেস্তোরাঁয় পড়েছি। এমনও হয়েছে, মাঝে মাঝে আমাকে বইটা বন্ধ করতে হয়েছে, কারণ আশপাশের কোনো অপরিচিত লোক দেখে ফেলবে কতটা গভীরভাবে এই পংক্তিগুলো আমাকে স্পর্শ করছে। আমার ভারতীয় বন্ধুরা বলেছেন, মূল বাংলায় এই গীতগুলি ছন্দের সূক্ষ্মতা, রঙের অনুবাদ-অযোগ্য কোমলতা, মাত্রার বৈচিত্র্যে ভরপুর। কিন্তু ভাবগতভাবে এগুলো এমন এক জগতের কথা বলে, যার স্বপ্ন আমি আজীবন দেখে এসেছি।
এটা যেন এক সর্বোচ্চ সংস্কৃতির কাজ, অথচ একই সঙ্গে যেন সাধারণ মাটিরই উৎপন্ন বস্তু, ঠিক ঘাস আর কাশফুলের মতো। এখানে এমন এক ঐতিহ্য আছে, যেখানে কবিতা ও ধর্ম এক ও অভিন্ন বিষয়। শত শত বছর ধরে সেই ঐতিহ্য চলে এসেছে—শিক্ষিত ও অনশিক্ষিত উভয়ের কাছ থেকে রূপক ও অনুভূতি আহরণ করে আবার সেই চিন্তা ও আবেগ জনসাধারণের মধ্যে ফিরিয়ে দিয়েছে—জ্ঞানের মনীষীর এবং অভিজাতের ভাবনা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।”
১৯১৩ সালের ১০ই ডিসেম্বর, স্টকহোমে নোবেল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সুইডিশ অ্যাকাডেমির নোবেল কমিটির সভাপতি হ্যারাল্ড হেয়ার্নে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদানকালে ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এইরূপ:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের Gitanjali: Song Offerings (১৯১২)—ধর্মপ্রাণ কবিতার একটি সংকলন—বিশেষভাবে নোবেল কমিটির মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। বক্তা বলেন, “গত বছর থেকে এই গ্রন্থটি প্রকৃত এবং পূর্ণ অর্থে ইংরেজি সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, কারণ স্বয়ং লেখক, যিনি শিক্ষা ও অনুশীলনে নিজের দেশীয় ভারতীয় ভাষায় কবি, তাঁর কবিতাগুলিকে নতুন এক অলঙ্কার দিয়েছেন—রূপে পরিপূর্ণ এবং ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণায় মৌলিক।”
এই পুনর্গঠিত ও ইংরেজিতে অনুবাদিত কবিতাগুলি ইংল্যান্ড, আমেরিকা এবং সমগ্র পাশ্চাত্য বিশ্বের কাছে সহজলভ্য হয়ে ওঠে, যারা মহৎ সাহিত্যকে গুরুত্ব দেয়। বক্তা আরও বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাংলা কবিতার জ্ঞানের উপর নির্ভর না করেও, ধর্মবিশ্বাস, সাহিত্যিক ঘরানা বা দলীয় উদ্দেশ্যের পার্থক্য উপেক্ষা করেও, বহু দিক থেকে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে নতুন এবং অনন্য প্রতিভাসম্পন্ন কবি হিসেবে।”
এই কবিতার যে বৈশিষ্ট্যগুলি সঙ্গে সঙ্গে এবং উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পেয়েছে, তা হল—
- কবির নিজস্ব ভাবনা এবং তিনি যেগুলি অন্য উৎস থেকে গ্রহণ করেছেন, সেইসবের এক সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাহার,
- তাঁর ছন্দোবদ্ধ শৈলী, যা এক ইংরেজ সমালোচকের ভাষায়, “কবিতার নারীতুল্য সৌন্দর্য ও গদ্যের পুরুষতুল্য শক্তি একই সঙ্গে সংযুক্ত করে,”
- শব্দ নির্বাচনে তাঁর সংযত, কারও কারও মতে শাস্ত্রীয় রুচি, এবং
- ধার করা ভাষায় (ইংরেজি) অন্যান্য প্রকাশভঙ্গির ব্যবহারে তাঁর বিশেষ দক্ষতা।
এই সব লক্ষণই এমন একটি মৌলিক সাহিত্যকর্মের স্বাক্ষর, যা অন্য ভাষায় অনুবাদ করাকে আরও কঠিন করে তোলে।
“এটাকে আমরা চাইলে “ধ্যানবাদ” বা “মিস্টিসিজম” বলতে পারি, তবে এমন ধ্যানবাদ নয় যেখানে ব্যক্তিসত্তাকে ত্যাগ করে সবকিছুর অন্তর্নিহিত শূন্যতার সঙ্গে একীভূত হওয়ার চেষ্টা করা হয়। বরং এটি এমন এক ধ্যানবাদ, যেখানে আত্মার সমস্ত শক্তি, প্রতিভা ও ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ প্রশিক্ষিত করে জীবিত সৃষ্টিকর্তা, সর্বজগতের পিতার মুখোমুখি যেতে আকুলতা প্রকাশ পায়। এই ধরণের কঠোর ও সক্রিয় ধ্যানবাদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্বেও ভারতে সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিল না। তবে তা প্রাচীন যুগের সন্ন্যাসী বা দার্শনিকদের মধ্যে ততটা দেখা যায়নি; বরং এটি ভারতীয় ভক্তি-আন্দোলনের বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পেয়েছে। ভক্তির মূল আত্মা হল ঈশ্বরের প্রতি গভীর প্রেম ও নির্ভরশীলতা।”
অন্তর মম বিকশিত কর
অন্তরতর হে।
নির্ম্মল কর, উজ্জ্বল কর
সুন্দর কর হে।
জাগ্রত কর, উদ্যত কর,
নির্ভয় কর হে।
মঙ্গল কর, নিরলস নিসংশয় কর হে।
অন্তর মম বিকশিত কর
অন্তরতর হে।
যুক্ত কর হে সবার সঙ্গে,
মুক্ত কর হে বন্ধ,
সঞ্চার কর সকল কর্ম্মে
শান্ত তোমার ছন্দ।
চরণপদ্মে মম চিত নিঃস্পন্দিত কর হে,
নন্দিত কর, নন্দিত কর
নন্দিত কর হে।
অন্তর মম বিকশিত কর
অন্তরতর হে!
কাব্যরচনা সম্বন্ধেও সেই বিশ্ববিধানই দেখিতে পাই― অন্তত আমার নিজের মধ্যে তাহা উপলব্ধি করিয়াছি। যখন যেটা লিখিতেছিলাম তখন সেইটেকেই পরিণাম বলিয়া মনে করিয়াছিলাম। এইজন্য সেইটুকু সমাধা করার কাজেই অনেক যত্ন ও অনেক আনন্দ আকর্ষণ করিয়াছে। আমিই যে তাহা লিখিতেছি এবং একটা-কোনো বিশেষ ভাব অবলম্বন করিয়া লিখিতেছি, এ সম্বন্ধেও সন্দেহ ঘটে নাই। কিন্তু আজ জানিয়াছি, যে-সকল লেখা উপলক্ষমাত্র— তাহারা যে অনাগতকে গড়িয়া তুলিতেছে সেই অনাগতকে তাহারা চেনেও না। তাহাদের রচয়িতার মধ্যে আর-একজন কে রচনাকারী আছেন, যাঁহার সম্মুখে সেই ভাবী তাৎপর্য প্রত্যক্ষ বর্তমান। ফুৎকার বাঁশির এক-একট। ছিদ্রের মধ্য দিয়া এক-একটা সুর জাগাইয়া তুলিতেছে এবং নিজের কর্তৃত্ব উচ্চস্বরে প্রচার করিতেছে, কিন্তু কে সেই বিচ্ছিন্ন সুরগুলিকে রাগিণীতে বাঁধিয়া তুলিতেছে? ফুঁ সুর জাগাইতেছে বটে, কিন্তু ফুঁ তো বাঁশি বাজাইতেছে না। সেই বাঁশি যে বাজাইতেছে তাহার কাছে সমস্ত রাগরাগিণী বর্তমান আছে, তাহার অগােচরে কিছুই নাই —– আত্মপরিচয় – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তথ্যসূত্র:
১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গীতাঞ্জলি: সং অফারিংস (১৯১২) — ম্যাকমিলান অ্যান্ড কোং, লন্ডন থেকে ১৯১৩ সালে প্রকাশিত। রবীন্দ্রনাথ স্বহস্তে ইংরেজি অনুবাদ করেন।
২. ডব্লিউ. বি. ইয়েটস, গীতাঞ্জলির ভূমিকা (Introduction) (১৯১২) — গীতাঞ্জলি-র মূল ইংরেজি সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনে পাওয়া যায়।
৩. নোবেল পুরস্কার বিতরণী ভাষণ (১৯১৩) — হারাল্ড হেয়ার্নে, সুইডিশ অ্যাকাডেমির নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান।
→ সূত্র: https://www.nobelprize.org/prizes/literature/1913/tagore/presentation-speech/
৪. কৃষ্ণা কৃষ্ণাপালনী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: আ বায়োগ্রাফি (১৯৬২) -— অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, রবীন্দ্রনাথের জীবনী, সাহিত্যকর্ম ও বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।
৫. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড ও ভিজুয়াল সংরক্ষণাগার-— রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপাচার্যত্ব, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ও পদত্যাগ সংক্রান্ত তথ্য।
৬. উমা দাস গুপ্ত, রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর: পায়োনিয়ার ইন এডুকেশন (২০১০)— অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, রথীন্দ্রনাথের শিক্ষা ও শান্তিনিকেতন প্রসঙ্গে।
৭. রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অন দ্য এজেস অফ টাইম (মরণোত্তর প্রকাশিত স্মৃতিকথা)-— ব্যক্তিগত স্মৃতি, বিশ্বভারতী থেকে পদত্যাগের কথা, দেরাদুনে মীরা দেবীর সঙ্গে জীবনযাপন।
৮. উমা দাস গুপ্ত (সম্পাদিত), দ্য অক্সফোর্ড ইন্ডিয়া টেগোর: সিলেক্টেড রাইটিংস অন এডুকেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিজম — রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শ, গান্ধী ও নেহরুর সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত লেখাগুলি অন্তর্ভুক্ত।
৯. কৃষ্ণা দত্ত ও অ্যান্ড্রু রবিনসন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: দ্য মাইরিয়াড-মাইন্ডেড ম্যান (১৯৯৫)-— রবীন্দ্রনাথ ও বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্কসহ আধুনিক গবেষণালব্ধ জীবনী।
১০. সাহিত্য অকাদেমি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মশতবার্ষিকী প্রকাশনা (১৯৬১)-— রবীন্দ্রনাথের জীবন ও চিন্তাধারা নিয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধসমূহ।
১১. তন্ময় ভট্টাচার্য: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু: চিকিৎসাগত ত্রুটি ও অবহেলার বিতর্ক
আরও পড়ুন
- শরৎচন্দ্র-রবীন্দ্রনাথ বিরোধ
