ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম, ২০২৩ (বাংলা অনুবাদ)
১৬৯। প্রমাণের অযোগ্য গ্রহণ বা বর্জনের কারণে পুনর্বিচার নয়।
কোন প্রমাণের অযোগ্যরূপে গ্রহণ বা বর্জন শুধুমাত্র এই কারণে কোন মামলায় পুনর্বিচার বা পূর্ব সিদ্ধান্ত বাতিল করিবার ভিত্তি হইবে না, যদি আপত্তি উত্থাপিত আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত আপত্তিকৃত ও গৃহীত প্রমাণ ব্যতীতও যথেষ্ট প্রমাণ ছিল যাহা সিদ্ধান্তকে সমর্থন করিতে সক্ষম, অথবা, যে প্রমাণ বর্জিত হইয়াছিল, তাহা গৃহীত হইলেও সিদ্ধান্তে কোন পরিবর্তন ঘটাইবার কথা ছিল না।
ব্যাখ্যা
যদি কোন মামলার বিচারে এমন কোনও প্রমাণ আদালত গৃহীত করে যাহা বিধিসম্মত নহে, কিংবা যাহা বিধিসম্মত হইলেও আদালত গ্রহণ করিতে অস্বীকার করে, তথাপি সেই কারণে কেবলমাত্র উক্ত প্রমাণের অযোগ্য গ্রহণ বা বর্জনকে ভিত্তি করিয়া পুনরায় বিচার অনুষ্ঠিত হইবে না কিংবা পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তকে বাতিল করিতে হইবে না—এইরূপ নির্দেশ এই ধারা দ্বারা প্রদান করা হইয়াছে।
এই নীতির ভিত্তিতে, যদি আপত্তি উত্থাপনের পর বিচারাধীন আদালতের নিকট ইহা প্রতীয়মান হয় যে, যেই প্রমাণ লইয়া আপত্তি উত্থাপিত হইয়াছে, তাহা বাদ দিয়াও বিচারাধীন বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ আদালতের সম্মুখে ছিল, যাহা সিদ্ধান্ত প্রদান করিবার জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত ছিল, অথবা, যে প্রমাণ আদালত গ্রহণ করে নাই, সেই প্রমাণ যদি গ্রহণও করিত, তথাপি মূল সিদ্ধান্তে কোন পরিবর্তনের অবকাশ থাকিত না, তবে কেবলমাত্র সেই অযোগ্য গ্রহণ বা বর্জনের ভিত্তিতে মামলাটির পুনরায় বিচার হইবে না।
এইরূপ ব্যাখ্যার দ্বারা ধারা ১৬৯ এই মর্মে প্রতিপন্ন করে যে, বিচারে প্রমাণ সম্পর্কীয় সামান্য প্রক্রিয়াগত ত্রুটিকে বিচার ব্যর্থ বলিয়া ঘোষণা করা চলিবে না, যদি সামগ্রিক প্রমাণে বিচার সঙ্গত ও যুক্তিসম্মত হইয়া থাকে। আইন বিচার ব্যবস্থার মৌলিক ন্যায়বোধ রক্ষা করিতে চাহে, এবং এই কারণে বিচারিক ত্রুটি যদি বিচারফল পরিবর্তনে প্রভাব বিস্তার করিতে সক্ষম না হয়, তবে তাহা বিচারের ভিত্তি বিঘ্নিত করে না।
