যিশুখৃষ্ট ও তাঁর ধর্ম: জওহরলাল নেহরু (সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার অনূদিত 1951)

Nehru

যিশুখৃষ্ট ও তাঁর ধর্ম

১২ই এপ্রিল, ১৯৩২

এ যাবৎ খৃষ্টপূর্ব যুগের কথাই বলে এসেছি; এবারে আমরা খৃস্টীয় আমলে উপনীত হলাম। খৃষ্টের জন্মের কল্পিত তারিখ থেকে এই যুগের শুরু। প্রকৃতপক্ষে এই তারিখের চার বছর আগে খৃষ্টের জন্ম হয়েছিল। অবশ্য এতে কিছু এসে যায় না। খৃষ্টজন্মের পরেকার সময়ের উল্লেখ করতে সাধারণত A. D.—Anno Domini—অর্থাৎ ‘প্রভুখৃষ্টের বৎসরে’ কথা ব্যবহৃত হয়। এই কথা ব্যবহার করায় ক্ষতি নেই। তবে আমার মনে হয়, এই যুগের উল্লেখ করতে A.C—After Christ—অর্থাৎ ‘খৃষ্টোত্তর’ কথা ব্যবহার করা অধিকতর বিজ্ঞানসম্মত হবে; কেননা খৃষ্ট জন্মের পূর্বেকার সময় বোঝাতে ব্যবহৃত হয় B.C. যাই হোক, আমি A. C. কথাই ব্যবহার করব।

খৃষ্ট অথবা যিশুর কাহিনী বাইবেলের নিউ টেস্টামেণ্টে বর্ণিত হয়েছে। ঐসকল বিবরণ থেকে খৃষ্টের ছেলেবেলা সম্বন্ধে বিশেষ কিছুই জানা যায় না; শুধু জানা যায় যে, নেজারেথ-নামক স্থানে তাঁর জন্ম হয়, গ্যালিলিতে তিনি ধর্মপ্রচার করেন এবং ত্রিশ বৎসর বয়সে জেরুজালেমে উপস্থিত হন। কিছুকাল পরেই তাঁর বিচার হয় এবং রোমান শাসনকর্তা পণ্টিয়স পিলেট তাঁকে শাস্তি দেন। ধর্ম-প্রচার শুরু করার আগে যিশু কী করেছিলেন, কোথায়ই-বা গিয়েছিলেন তা সঠিক জানা যায় না। মধ্য-এশিয়া, কাশ্মীর, লাডাক, তিব্বত প্রভৃতি স্থানে আজও লোকে মনে করে, যিশু ঐসমস্ত অঞ্চল পরিভ্রমণ করেছিলেন; কারও কারও ধারণা, তিনি ভারতবর্ষেও এসেছিলেন। অবশ্য এ বিষয়ে সঠিক কিছুই বলবার উপায় নেই এবং তাঁর জীবনেতিহাস সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা এ কথা বিশ্বাস করেন না। তথাপি কথাটা একেবারে উড়িয়ে দেবার মতোও নয়। ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় সেকালে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিল। দেশবিদেশ থেকে ছাত্ররা এখানে বিদ্যালাভ করতে আসত; সুতরাং সে উদ্দেশ্যে যিশুও হয়তো-বা এসেছিলেন। কোনো কোনো বিষয়ে যিশুর ধর্মোপদেশের সঙ্গে গৌতমের ধর্মের সাদৃশ্য এত বেশি যে, মনে হয়, বৌদ্ধধর্মের কথা নিশ্চয়ই তাঁর বেশ ভালো জানা ছিল। তবে ভারতে না এসেও যিশু এসব কথা জেনে থাকবেন, কেননা অন্যান্য দেশেও তখন বৌদ্ধধর্মের প্রচার হয়েছিল।

এই পৃথিবীতে ধর্মের জন্যে অনেক বিরোধ, অনেক যুদ্ধবিগ্রহ ঘটেছে, এ কথা স্কুলের ছাত্ররাও জানে। কিন্তু তথাপি এই ইতিহাসপ্রসিদ্ধ ধর্মগুলো শুরুতে কীরকম ছিল তা আলোচনা করা যেতে পারে। ধর্মগুলোর পারস্পরিক তুলনা চিত্তাকর্ষক। তুলনা করলে দেখা যায়, ধর্ম সমূহের অন্তর্নিহিত বাণী ও ভাবের মধ্যে অনেকাংশে সাদৃশ্য আছে; অথচ কেন যে লোকে ধর্মের খুঁটিনাটি এবং তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে বিরোধ বাধায়, ভেবে পাই নে। আসল কথা এই, গোড়ায় ধর্ম যে আকারে থাকে পরবর্তী কালে গোঁজামিল দিয়ে দিয়ে তাকে একেবারে বিস্তৃত করে ফেলা হয় এবং শেষকালে ধর্মের প্রকৃত রূপটা চেনাই দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। ধর্মগুরুর স্থান গ্রহণ করে যত নীচমনা ধর্মান্ধ লোক। অনেক সময়ে আবার ধর্ম রাজনীতি ও সাম্রাজ্যবাদের সহায় হয়েছে। প্রাচীনকালে রোমে অন্ধ ধর্মবিশ্বাসের উপরে খুব জোর দেওয়া হত। জনগণ যদি গোঁড়া কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয় তা হলে তাদের শোষণ করা আর দাবিয়ে রাখা সহজ ব্যাপার কিনা। ইতালীয় রাজনীতিবিদ্ মেকিয়াভেলি বলেছেন, শাসনব্যাপারেও ধর্মের প্রয়োজন আছে; কর্তব্যের খাতিরে রাজাকেও একটা ধর্ম মেনে চলতে হতে পারে, হোক না সে ধর্ম ঝুটা। ধর্মের খোলসে সাম্রাজ্যবাদের অভিযান আধুনিক কালেও অনেক হয়েছে। সুতরাং কার্ল মার্ক্‌স্ যে লিখেছেন, ধর্ম জনগণের পক্ষে আফিমের মতো, এতে অবাক হবার কিছু নেই।

যিশু ছিলেন একজন ইহুদি (Jew)। এই ইহুদিরা এক অদ্ভুত নাছোড়বান্দা জাতের লোক। ডেভিড আর সলোমনের সময়ে ওদের অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছিল; তার পরেই এল দারণ দুঃসময়। কিন্তু এই স্বল্পকালস্থায়ী শুভক্ষণকেই ইহুদিরা একটা স্বর্ণযুগ বলে কল্পনা করে নিলে; ভবিষ্যতে যথাসময়ে আবার ঐ যুগে ফিরে আসবে, ইহুদিজাতি আবার বড়ো ও ক্ষমতাশালী হবে, এই হল তাদের স্বপ্ন। রোম সাম্রাজ্য এবং অন্যত্র ইহুদিরা ছড়িয়ে পড়ল; অদূর ভবিষ্যতে একজন মেজায়া বা ত্রাণকর্তার আবির্ভাবের সঙ্গে তাদের জীবনে শুভদিন আসবে, এই দৃঢ় বিশ্বাস তারা হারাল না। এদের না ছিল ঘরবাড়ি, না ছিল আশ্রয়; অকথ্য অত্যাচার উৎপীড়ন হয়েছে এদের উপরে; হত্যা করা হয়েছে কত ইহুদিকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই জাতি কী করে দু হাজার বছর-কাল টিঁকে ছিল, বজায় রেখেছিল নিজের বৈশিষ্ট্য, সেটা ইতিহাসে অতি বিস্ময়কর ব্যাপার।

ইহুদিরা একজন ত্রাণকর্তার প্রতীক্ষায় ছিল এবং সম্ভবত যিশুর উপরেই ছিল তাদের আশাভরসা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিরাশ হতে হল তাদের। যিশু সেই সময়ের আচার-ব্যবহার এবং সমাজব্যবস্থা ইত্যাদির সমালোচনা করলেন এবং বিশেষ করে ধনী আর ভণ্ড ধর্মধ্বজী ব্যক্তিদের তীব্র নিন্দা করতে লাগলেন। ইহুদিরা এসব পছন্দ করল না। কোথায় তিনি তাদের সুখসমৃদ্ধি-লাভের পথ দেখাবেন, তার পরিবর্তে কিনা তিনি অনিশ্চিত এবং কাল্পনিক এক স্বর্গ রাজ্য লাভের জন্য সকলকে বললেন সর্বস্ব ত্যাগ করতে। তাঁর বলার ভঙ্গিটি ছিল নূতন; গল্প ও কাহিনীর ছলে তিনি উপদেশ দিতেন। তবে এটা স্পষ্ট বোঝা গেল, তিনি আজন্ম বিপ্লবী। প্রচলিত সমাজব্যবস্থা তিনি বরদাস্ত করতে পারেন নি, তাই তার সংস্কারের জন্যে তিনি উঠে-পড়ে লেগেছিলেন। ইহুদিরা কিন্তু তাঁর কাছ থেকে এটা আশা করে নি। সুতরাং অনেকে তাঁর বিরোধিতা করতে লাগল এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে রোমান গভর্নর পণ্টিয়স পিলেটের হস্তে সমর্পণ করল।

ধর্মের ব্যাপারে রোমানরা ছিল উদার। রাজ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মাচরণে কোনোরূপ বাধানিষেধ ছিল না, এমনকি দেবদেবীর নিন্দা করলে কিংবা তাদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করলেও কারও শাস্তি হত না। সম্রাট টিবেরাস বলতেন, দেবতারা যদি অপমানিত হয়েই থাকেন তবে তাঁরা নিজেরাই তার প্রতিকার করবেন। এমতাবস্থায় রোমান গভর্নর পণ্টিয়স পিলেট নিশ্চয়ই এই ব্যাপারে ধর্মের প্রশ্ন নিয়ে মাথা ঘামান নি। যিশুকে একজন রাজনৈতিক আন্দোলনকারী এবং সমাজদ্রোহীরূপে দাঁড় করানো হল; বিচারে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেন এবং অবশেষে তাঁকে ক্রুশে বিদ্ধ করে হত্যা করা হল। তিনি যখন মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর তখনই তাঁর প্রিয় শিষ্যেরাও বিরুদ্ধবাদীদের ভয়ে পরিত্যাগ করল তাঁকে। ওদের বিশ্বাসঘাতকতা তাঁর ঐ যন্ত্রণাকে যেন আরও দুঃসহ করে তুলল। মৃত্যুর পূর্বে তিনি কাতরস্বরে বলে উঠলেন, “হা ঈশ্বর, হা ঈশ্বর, তুমি কেন আমাকে পরিত্যাগ করলে?”

যিশুর বয়স তখন অল্প, সবেমাত্র ত্রিশ বৎসর পার হয়েছে; এই সময়েই তাঁর মৃত্যু হল। তাঁর মৃত্যুর কাহিনী পড়লে মনে বড়ো ব্যথা লাগে।

খৃষ্টীয় ধর্ম প্রচার হবার পর থেকে যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ যিশুর প্রতি ভক্তিশ্রদ্ধা দেখিয়েছে, যদিও তাঁর ধর্মোপদেশ তারা পালন করে নি। তবে কিনা তাঁকে যখন ক্রুশে বিদ্ধ করা হয় তখন প্যালেস্টাইনের বাইরে তাঁর নাম বিশেষ প্রচারিত হয় নি। রোমের অধিবাসীরা তো তাঁর সম্বন্ধে কিছুই জানত না এবং পণ্টিয়স পিলেটও এই শোকাবহ ঘটনাকে মোটেই কোনো গুরুত্ব দেন নি।

বিরুদ্ধবাদীদের ভয়ে যিশুর প্রধান প্রধান শিষ্যেরা তাঁকে ধর্মগুরু বলে মানতে অস্বীকার করেছিল, এ কথা পূর্বে বলেছি। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরেই অপর এক ব্যক্তি খৃষ্টীয় মতবাদ প্রচার করতে শুরু করলেন। এঁর নাম পল; ইনি যিশুকে কখনও দেখেন নি। অনেকের ধারণা, পল (Paul) যে খৃষ্টধর্ম প্রচার করেছিলেন তা বস্তুত যিশুর ধর্মোপদেশ থেকে বিভিন্ন। পল পণ্ডিত লোক, তাঁর ক্ষমতাও ছিল যথেষ্ট; কিন্তু যিশুর ন্যায় তিনি সমাজদ্রোহী ছিলেন না। যা হোক, পলের প্রচেষ্টা সফল হল, খৃষ্টধর্ম ধীরে ধীরে প্রচারলাভ করল। প্রথমে রোমানরা এটা খেয়ালের মধ্যেই আনে নি; মনে করেছিল, খৃষ্টধর্মাবলম্বীরা ইহুদি জাতেরই একটা সম্প্রদায়বিশেষ। কিন্তু ক্রমে দেখা গেল, এরা যেন বিদ্রোহী আর পরমত-অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে এবং সম্রাটের মূর্তি পূজা করতেও অস্বীকার করছে। রোমবাসীরা কিন্তু তাদের এই মনোভাব সম্যক্ বুঝে উঠতে পারল না। মনে করল, এরা সব মাথা পাগলা লোক, অশিক্ষিত আর ঝগড়াটে এবং সবরকম উন্নতির বিরোধী। ধর্মের দিক থেকে তারা খৃষ্টেধর্মকে মেনে নিতে পারত, কিন্তু খৃষ্টানরা যে সম্রাটের মূর্তিকে পূজা করতে অস্বীকার করল! সেটা তাই রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার শামিল বলে রোমানরা মনে করল এবং সেই অপরাধে শাস্তির ব্যবস্থা দিল প্রাণদণ্ড। তার পর শুরু হল অত্যাচার; খৃষ্টানদের ধনসম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হল, তাদের নিক্ষেপ করা হল সিংহের মুখে। ঐসকল খৃষ্টান শহিদদের কাহিনী হয়তো তুমি পড়েছ, সিনেমায় এসবের ছবিও দেখে থাকবে-বা। একটা বিশেষ উদ্দেশ্যে যখন কেউ মরতে প্রস্তুত হয়, আর গৌরব বোধ করে ঐ মরণে, তখন তাকে কিংবা তার উদ্দেশ্যকে দাবিয়ে রাখা অসম্ভব। রোম সাম্রাজ্যও খৃষ্টানদের দাবিয়ে রাখতে পারল না। বস্তুত, এই বিরোধে খৃষ্টানদেরই হল জয়। চতুর্থ শতকের প্রথম ভাগে একজন রোম সম্রাট খৃষ্টের ধর্ম গ্রহণ করলেন এবং তখন থেকে এই ধর্মই সাম্রাজ্যের সরকারি ধর্মরূপে গণ্য হল। এই সম্রাটের নাম কনস্টান্‌টাইন। ইনিই কন্‌স্টাণ্টিনোপ্‌ল্ নগরের প্রতিষ্ঠাতা। এঁর কথা পরে বলব।

খৃষ্টীয় ধর্মের প্রসারলাভের সঙ্গে সঙ্গে যিশুর দেবত্ব নিয়ে শুরু হল ঘোরতর বিরোধ। গৌতমবুদ্ধের বেলায়ও এরকমটা হয়েছিল, সে কথা তোমাকে বলেছি। নিজে কখনও বলেন নি, তিনি দৈবশক্তির অধিকারী, অথচ লোকে তাঁকে দেবতা এবং অবতার-জ্ঞানেই পূজা করে এসেছে। ঠিক সেরকম যিশুও দেবত্ব দাবি করেন নি; পুনঃপুনঃ বলেছেন বটে, তিনি ঈশ্বরের পুত্র, মানুষের সন্তান, কিন্তু এতে করে বোঝায় না যে, তিনি দৈব কিংবা অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন বলে নিজেকে জাহির করেছেন। মানুষ অসামান্য প্রতিভাশালী ব্যক্তিদিগকে দেবতার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতেই ভালোবাসে। কিন্তু আশ্চর্য, দেবত্ব আরোপ করা হলে পর আর তাঁদের বাণী মেনে চলবার প্রয়োজন বোধ করে না। ছয় শো বৎসর পরে হজরত মহম্মদ আর-একটি বড়ো ধর্ম প্রচার করলেন। আগে থাকতেই সাবধান হলেন তিনি; স্পষ্ট করে বললেন, তিনি মানুষ, দেবতা নন।

কোথায় খৃষ্টানরা যিশুর ধর্মোপদেশ মেনে চলবে, তা না করে তারা ওঁর দেবত্বের স্বরূপ আর ট্রিনিটি বা ত্রিত্বভাব নিয়ে মহা তর্কবিতর্ক জুড়ে দিল, ঝগড়াঝাঁটিও শুরু করল এবং অবশেষে মারামারি কাটাকাটি। এক সময়ে প্রার্থনার একটা শব্দের উচ্চারণ নিয়ে দুই দলের মধ্যে বেধে গেল ভীষণ সংঘর্ষ এবং তাতে লোকক্ষয় হল বিস্তর। এই সেদিনও পাশ্চাত্যে খৃষ্টীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের গোলযোগ বিদ্যমান ছিল।

ইংলণ্ড কিংবা পশ্চিম-ইউরোপে খৃষ্টধর্মের বার্তা পৌঁছবার পূর্বেই তার ঢেউ এসে লেগেছিল ভারতবর্ষে। তোমার হয়তো অবাক লাগছে; কিন্তু তা সত্যি। যিশুর মৃত্যুর এক শো বছরের মধ্যেই খৃষ্টান ধর্ম প্রচারকগণ সমুদ্রপথে দক্ষিণ ভারতে এসে উপস্থিত হল এবং কালক্রমে বহু লোককে তারা দীক্ষা দিল নূতন ধর্মে। ওদের বংশধরগণ আজও পর্যন্ত সেখানে বসবাস করছে। এরা প্রাচীন খৃষ্টীয় সম্প্রদায়ের লোক। বর্তমানে ইউরোপে এই সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব নেই।

ইউরোপের প্রবল এবং শক্তিশালী জাতিসমূহের ধর্ম হল খৃষ্টধর্ম, সুতরাং রাজনীতির দিক থেকে এই ধর্মকেই বর্তমান যুগের প্রধান ধর্ম বলা চলে। কিন্তু কোথায় যিশু আর কোথায়ই-বা বর্তমান যুগের খৃষ্টান সম্প্রদায়? অহিংসা-নীতির উদ্গাতা এবং সমাজদ্রোহী যিশুর কথা ভাবলে অবাক লাগে। আজ তাঁর ধর্মাবলম্বীরা জোরগলায় সাম্রাজ্যবাদ, যুদ্ধবিগ্রহ, যুদ্ধোপকরণ, আর ধনদৌলতের মহিমা কীর্তন করতেই ব্যস্ত।

যিশুর ধর্মোপদেশ, আর বর্তমান কালের ইউরোপ এবং আমেরিকার খৃষ্টীয় ধর্ম—কতই-না প্রভেদ। অনেকের মতে পাশ্চাত্যের তথাকথিত খৃষ্টানদের চেয়ে বাপুজিই (M. K Gandhi) খৃষ্টের বাণী বেশি উপলব্ধি করেছেন।

১২ই এপ্রিল, ১৯৩২

জওহরলাল নেহরু
বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ
সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার অনূদিত ১৯৫১


সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার ( ১৮৯১ – ১৭ অক্টোবর, ১৯৫৪)


Leave a Reply

সাহিত্য সম্রাট জার্নাল