মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত

Khuthibari Dakshineswer

বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের বিশ্বকোষ (Encyclopedia of Bengali Language and Literature)

তন্ময় ভট্টাচার্য (অ্যাডভোকেট)

মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৮৫৪–১৯৩২) ছিলেন উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের গোড়ার দিকের একজন উল্লেখযোগ্য বাঙালি সাহিত্যিক, যিনি ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত’ গ্রন্থের রচয়িতা ‘এম’ (M) ছদ্মনামে পরিচিত হন। ১৮৭৪ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং সেই বছরেই ঠাকুরচরণ সেনের কন্যা ও কেশবচন্দ্র সেনের আত্মীয়া নিকুঞ্জ দেবীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৮৮২ সালের জানুয়ারি মাসে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁকে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনের শ্যামবাজার শাখার সহকারী প্রধানশিক্ষক পদ থেকে অপসারণ করেন। বিদ্যাসাগর ছিলেন এই বিদ্যালয়গুলোর প্রধান ও তত্ত্বাবধায়ক। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর অসাবধানতা এবং শিক্ষার মান নিম্ন হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চাকরি হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মহেন্দ্রনাথ আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কলকাতার বাইরে যাওয়ার পথে হঠাৎই তিনি দক্ষিণেশ্বরে চলে যান। ধারণা করা হয়, ১৮৮২ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে তাঁর প্রথমবার রামকৃষ্ণ (গদাধর চট্টোপাধ্যায়)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তখন রামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের বাইরে কুঠিবাড়ির পাশে একটি কক্ষে থাকতেন; এই কুঠিবাড়ি ১৮৭১ সালের জানুয়ারি থেকে প্যারীমোহনের দখলে ছিল, যা আগে রাণী রাসমণির পরিবারের অস্থায়ী আবাস ছিল।

রামকৃষ্ণের মৃত্যু হয় কাশীপুরে, ১৮৮৫ সালের ১১ই ডিসেম্বর। রামকৃষ্ণ অনুরাগী নরেন্দ্রনাথ দত্তর মৃত্যুর (জুলাই ১৯০২) পরে মহেন্দ্রনাথ ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত’ নামে গ্রন্থ রচনা শুরু করেন, যেখানে তিনি রামকৃষ্ণের বিভিন্ন কথা ও ভাবনার বর্ণনা দেন। বইটি মোট পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত হয়; শেষ খণ্ডটি বের হয় ১৯৩২ সালে, তাঁর মৃত্যুর পরে। বইটি মূলত তাঁর নিজের কল্পনা থেকে লেখা বলেই অনেক গবেষক মনে করেন, কারণ তিনি যে ডায়েরি রাখতেন—তার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি নিজেও তাঁর ডায়েরির অস্তিত্বের কোনো প্রামাণ্য চিহ্ন রেখে যাননি। দূর্ভাগ্যবসত এই বৃহৎ গ্রন্থ থেকে রামকৃষ্ণের নিত্য সন্ধ্যা, পূজা-অর্চনা সম্পর্কিত কোনো তথ্যই পাঠক জানতে পারেনা ।

Ramkrishna Kathamrita

মহেন্দ্রনাথ রামকৃষ্ণের কাছ থেকে দীক্ষা নেননি, কিন্তু তিনি অন্যদের দীক্ষা দিতেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, বিশেষ করে কেশবচন্দ্র সেন (১৮৩৮ – ১৮৮৪) প্রতিষ্ঠিত নববিধান শাখার সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁর পারিবারিক জীবন সুখের ছিল না, বরং অনেকটা বিপর্যস্ত ছিল, কথামৃতের বিক্রী তার জীবনে কিছুটা সচলতা এনেছিল, তবে তার এক ছেলে ঘোড়ার মাঠে রেস খেলে অনেক অর্থই অপচয় করেছিল।

মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত ১৯৩২ সালের ৪ঠা জুন কলকাতার ১৩/২ গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেনের নিজ বাসভবনে প্রয়াত হন। তিনি কথামৃতের আরও খণ্ড প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁর রামকৃষ্ণ সম্পর্কিত কল্পনার অনেকটাই অপ্রকাশিত থেকে যায়। জীবদ্দশায় তিনি কখনও তাঁর বইয়ের কপিরাইট কাউকে হস্তান্তর করেননি এবং নরেন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠানে তাঁর কিছু দান করার জন্য কখনও উইল করেননি।

মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত

Mahendranath-Gupta-1900

কানু ব্যানার্জী (অভিনেতা)


Leave a Reply

সাহিত্য সম্রাট জার্নাল