বৈদিক শব্দ নিঘন্টু: বাংলা তৎসম শব্দের উৎস

বৈদিক শব্দ নিঘন্টু: বাংলা তৎসম শব্দের উৎস

বাংলা তৎসম শব্দের উৎস

বাংলা তৎসম শব্দের মূল উৎস সাধারণত সংস্কৃত, কিন্তু আমরা যখন ‘সংস্কৃত’ বলি, তখন প্রায়ই ভুলে যাই যে সংস্কৃত ভাষার শব্দভান্ডারের মূল উৎস আসলে বৈদিক শব্দভাণ্ডার। বাংলায় বহু বৈদিক শব্দ সরাসরি গ্রহণ করা হয়েছে এবং হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে।

বৈদিক অভিধানকে বলা হয় নিঘণ্টু এবং নিরুক্ত। ঋষি যাস্ক রচিত নিরুক্ত আজও আমাদের কাছে অক্ষত অবস্থায় বিদ্যমান। তেমনি ঋগ্বেদ সংযুক্ত নিঘণ্টু এবং অথর্ববেদ পরিচিষ্ট অংশে পাওয়া নিঘণ্টু— উভয়ই এখনো আমাদের হাতে আছে এবং বৈদিক শব্দচর্চার প্রাচীনতম দলিল হিসেবে অত্যন্ত মূল্যবান।

অথ প্রথম অধ্যায়

গৌঃ, গ্মা, জ্মা, অক্ষ্মা, অক্ষ, অক্ষমা, অক্ষোণী, ক্ষিতি, অবনি, উর্বী, পৃথিবী, মহী, রিপঃ, অদিতি, ইলা, অনিরৃতি, ভূ, ভূমি, পূষা, গতুঃ, গোত্রা — এই একবিংশটি নাম পৃথিবীর।

হেম, চন্দ্র, রুক্ম, ময়, হিরণ্য, পেশ, কৃষণ, লোহ, কানক, কাঞ্চন, ভর্ম, অমৃত, মরুত, অদ্র, অজাতরূপ — এই পনেরোটি নাম সোনার।

অম্বর, বিয়ৎ, ব্যোম, বর্হি, ধন্ব, অন্তরিক্ষ, আকাশ, আপ, পৃথিবী, ভূ, স্বয়ম্ভূ, অধ্য, পুষ্কর, সগর, সমুদ্র, অধ্যবর — এই ষোলোটি নাম অন্তরীক্ষ বা আকাশের।

স্বঃ, পৃষ্ণি, নাক, গৌ, বিস্তপ, নভঃ — এই ছয়টি সাধারণ নাম

খেদ, কিরণ, গাভ, রশ্মি, অভীশ, দীধিতি, গভস্তি, বন, উষ্র, বসু, মरीচি, পাম, ইউখ, সপ্ত ঋষি, সাধ্য, সুপর্ণ — এই পনেরোটি সূর্যরশ্মির নাম।

আতা, আশা, উপরা, আষ্টা, কাঠা, ব্যোম, ককুভ, হরিত — এই আটটি দিকের নাম।

শ্যাভী, কপা, শর্বরী, অক্তু, ঊর্মি, আরাম্য, আয়ম্য, অনম্য, দোষা, নক্ত, তম, রজঃ, অসিক্নী, পয়স্বতী, তমস্বতী, ঘৃতাচী, শিরী, নামোকী, শোকী, ঊধ, পয়ঃ, হিম, বস্বা — এই তেইশটি নাম রাত্রির।

বিভাবরী, সুনরী, ভাস্বতী, ওদতী, চিত্রা, মঘা, অর্জুনী, বাজিনী, বাজিনীবতী, সুম্নাবরী, অহনা, জ্যোতনা, শ্বেত্যা, অরুষী, সুনৃতা, সুনৃতাবতী, সুনৃতাবরী — এই ষোলটি নাম উষার।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, বস্তু, দ্যুঃ, ভানু, বাসর, স্বসর, অনিঘ্র, সংঘর্ম, ঘৃণ, দিন, দিবা, দিবেদি, বিদ্যবি — এই দ্বাদশটি নাম দিনের।

অদ্রি, গ্রাব, গোত্র, বল, অশন, পুরুভোজ, বলিশান, অশ্ম, পার্বত, গিরি, ভ্রজ, চরু, বরাহ, শম্ভর, হ্রৌহিণ, রৈবত, ফলিগ, উপর, উপল, চমস, অহি, অভ্রম, বলাহক, মেঘ, দৃতি, ওদন, বৃষন্ধি, বৃত্র, অসুর, কোশ — এই ত্রিশটি নাম মেঘের।

শ্লোক, ধারা, ইলা, গৌঃ, গৌরী, গান্ধর্বী, গহীরা, গম্ভীরা, মন্দ্রা, মন্দ্রাজনী, বাশি, বাণী, বাণীচী, বাণ, পবিঃ, ভারতী, ধ্বনি, নাড়, ঈঃ, মেনা, মেঢ, ঈঃ, সূর্যা, সরস্বতী, নিবিত, স্বাহা, অগ্নি, উপব্দি, মায়ু, কাকুত্, জিহ্বা, ঘোষ, স্বর, শব্দ, স্বন, ঋক, হোত্র, গীঃ, গাথা, গণ, ধেনা, অগ্না, বিপা, নন, কশ, অধিষণা, নৌ, অক্ষর, মহী, অদিতি, শচী, বাক, অনুষ্টুপ, ধেনু, বল্গু, গল, দাসর, সুপর্ণী, বেকুরা — এই সাতান্নটি নাম বাক্‌ বা বাক্যের।

অর্ণ, ক্ষোদ, ক্ষদ্ম, নব, অম্ভ, কবন্ধ, সালিল, বায়ু, বন, ঘৃত, মধু, পুরীষ, পিপ্পল, ক্ষীর, বিষ, রেতঃ, কশ, জন্ম, বুবুক, অম্বু, সম্তুগ, র্যাবুর, বুর, বুরম, সুখেম, ধরুণ, সুর, অররিন্দ, অনিধ, বস্ম, ন্বত্জামি, আয়ুধ, নিক্ষপ, অহি, অক্ষর, স্রোত, তৃপ্তি, রস, উদক, অপয়, সর, ভেষজ, সহ, শব, যহ, ওজ, সুখ, ক্ষত্র, আব্য, শুভ, যাদুঃ, ভূত, ভবন, ভবিষ্যৎ, আপ, মহান, ব্যোম, যশ, মহ, সর্ণীক, স্বৃতীক, সতি, গহন, গহীর, গম্ভর, ঈম, অন্ন, হবিঃ, সদ্ম, সদন, ঋতম, যোনি, ঋতস্য যোনিঃ, সত্য, নীর, রয়ি, সত্য, পূর্ণ, সর্ব, অক্ষিত, বর্হি, নাম, সর্গ, অমৃত, ইন্দু, হেম, স্বঃ, সর্গ, শম্ভর, অভ্য, বপু, অম্বু, তয়, তূয়, কৃপীট, শুক্র, তেজঃ, স্বধা, বারি, জল, জলাশ, ইদম — এই একশো নাম জলের।

অবন, যব্যা, খাসীরা, স্রোত, এনু, ধুন, রুজা, বক্ষণা, খাদ, অর্ণ, রোধচক্র, হরিত, সরিত, অগ্রুব, নাভন্ব, বধু, হিরণ্যবর্ণা, রোহিত, সসৃত, অর্ণ, সিন্ধু, কুল্যা, বর্য, উর্ব্য, ইরাবতী, পার্বতী, স্রবন্তী, উর্জস্বতী, পয়স্বতী, তরস্বতী, সরস্বতী, হরস্বতী, রোধস্বতী, ভাস্বতী, অজিরা, মাতর, নদী — এই সাতত্রিশটি নদীর নাম।

অত্য, হয়, অর্ভ, আজী, সপ্তি, বহ্নি, দধিক্রা, দধিক্রাবা, এতগ্ব, এতশ, পৈদ্ব, দূর্গহ, উচ্চৈঃশ্রবস, তার্ক্ষ্য, আশু, ব্রধ্ন, অরুষ, চত্ব, অব্যথ, শ্যেন, সুপর্ণ, পতঙ্গ, নর, হ্বর্য, হংস, অশ্ব — এই ছাব্বিশটি নাম অশ্বের।

গুরুত্বপূর্ণভাবে বলা যায়, হরী ইন্দ্রের, রোহিত অগ্নির, হরিত আদিত্যের, রাস ভাব অশ্বিনদের, অজা পূষণের, পৃষতি মরুদের, অরুণি গাভ উষার, শ্যাভা সবিতার, বিশ্বরূপ বৃহস্পতির, নিয়ুত বায়ুর — এই দশ দেবতার নিযুক্ত রূপ।

ভ্রাজতে, ভ্রাশতে, ভ্রাশ্যতি, দীদয়তি, শোচতি, মন্দতে, ভন্দতে, রোচতে, জ্যোততে, দ্যোততে, দ্যুমৎ — এই এগারোটি ক্রিয়াপদ আগুন বা আলোর জ্বলার অর্থে ব্যবহৃত।

জমৎ, কল্মলী, কিনম, জঞ্জণ, মল্মল, অর্চি, শোচি, তপঃ, তেজঃ, হরঃ, হৃণিঃ, শৃঙ্গাণি — এই এগারোটি নাম জ্বলন্ত আগুনের প্রতীক।

ইতি নিঘন্টৌ প্রথমঃ অধ্যায়ঃ।

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায়
চতুর্থ অধ্যায়
পঞ্চম অধ্যায়

8th November 2025


Leave a Reply