বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের বিশ্বকোষ (Encyclopedia of Bengali Language and Literature)
তন্ময় ভট্টাচার্য (অ্যাডভোকেট)
দ অক্ষরটি বঙ্গীয় বর্ণমালার তবর্গের তৃতীয় ব্যঞ্জনবর্ণ। এটি একপ্রকার ব্যঞ্জনবর্ণ, যার উচ্চারণস্থল হলো দন্তমূল। দন্তমূলের সঙ্গে জিহ্বাগ্রের স্পর্শের ফলে এর উচ্চারণ ঘটে, সেই কারণে এটি স্পর্শবর্ণ নামে পরিচিত। এর উচ্চারণের সময় সংবরণ, অঘোষ ও অল্পপ্রাণ এই তিনটি উচ্চারণগুণ প্রকাশ পায়। এই বর্ণের দেবতা হিসেবে “যব” নাম উল্লেখিত হয়েছে।
হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয়েছে — “দো অদ্রী, শোধাতকি, ধাতা, দাতা, ত্রাস, কলত্র, দীন, জ্ঞান, দান, ভক্তি, ধরা, সুষুম্না, যোগিনী, সদ্যঃকুন্তলা, বামগুল্ফক, কাত্যায়নী, শিবা, দুর্গা, অনঙ্গনামা, ত্রিকণ্টকী, স্বস্তিক, কুটিলরূপা, কৃষ্ণা, শ্যামা, জিতেন্দ্রিয়া, ধর্মকৃত, বামদেব, ভ্রমরেহ, সুচঞ্চলা, হরিদ্রাপুরবেদী, দক্ষিণপাণি, ত্রিরেখক”— এই সকল রূপ দকারের সঙ্গে সম্পর্কিত দেবত্বরূপে উল্লেখিত।
দকার ধ্যানবিধি বর্ণিত আছে এইভাবে — “হে পার্বতী! দকারের ধ্যান শোনো। চতুর্ভুজা, পীতবস্ত্রধারিণী, নবযৌবনসমৃদ্ধা, বহু রত্নখচিত হার ও নূপুরে শোভিতা — এইরূপা দেবীকে ধ্যান করে দকার মন্ত্র দশবার জপ করতে হবে। হে দেবি! ত্রিশক্তি ও ত্রিবিন্দুসহিত, আত্মাদিতত্ত্বে যুক্ত দকারকে প্রণাম কর।”
বর্ণোদ্ধারতন্ত্রে বলা হয়েছে — “হে চারুবতি! দকারকে শ্রবণ করো, এটি তবর্গপ্রদায়ক বর্ণ। এই বর্ণ পাঁচ অঙ্গ, পাঁচ প্রাণসম্পন্ন। ত্রিশক্তি ও ত্রিবিন্দুসহিত হলে এটি আত্মাদিতত্ত্বে যুক্ত, এবং স্বয়ং পরমকুণ্ডলিনী রূপে অবস্থান করে। রক্তবর্ণ বিদ্যুৎলতার মতো দ অক্ষরকে হৃদয়ে ভাবনা করতে হবে।” এই ভাবনা কামধেনু মন্ত্রের অংশ।
এই বর্ণের প্রয়োগে সৌখ্য ও আনন্দ লাভ হয়। “দোঘঃ সৌখ্যং মুদং নঃ” — অর্থাৎ দকার উচ্চারণে সুখ ও আনন্দের সৃষ্টি হয়। এটি বামগুল্ফে ন্যাস্য বলে বলা হয়েছে।
ধাতুরূপে ‘দ’ শব্দের কয়েকটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায় — ‘দৈপ্’ মানে শুদ্ধ করা, ‘দা’ মানে দান করা, ‘দো’ মানে খণ্ডন করা, আবার ‘দদ্’ মানে দান করা। এর প্রয়োগে “পর্বতে”, “দত্তে”, “দাতারিতে”, “কলত্রে” ইত্যাদি অর্থ নির্দেশিত হয়েছে। ‘দো’ মানে খণ্ডন বা সংরক্ষণও হতে পারে।
মাঘকাব্যে বলা হয়েছে — “দাদদোদুদ্দদুদ্দাদীদাদাদোদূদদীদদোঃ, দুদ্দাদং দদদে দুদ্দে দদাদদদদো অদদঃ” — এইরূপ ধাতুরূপ ব্যবহৃত হয়েছে। মল্লিনাথের ভাষ্য অনুসারে এই ধাতুর বিভিন্ন অর্থ বোঝা যায়।
Read More